
আব্দুল মুনতাকিন জুয়েল:
গাইবান্ধা জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে অবৈধ ইটভাটার দৌরাত্ম্য। সরকারি সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে সচল ১২৫টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ১৬টির বৈধ অনুমোদন রয়েছে। বাকি ১০৯টি ভাটাই চলছে কোনো প্রকার পরিবেশগত ছাড়পত্র বা প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া। আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটার কারণে এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ।
আইনের তোয়াক্কা করছেন না মালিকরা পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী, লোকালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কৃষি জমির নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। কিন্তু গাইবান্ধার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানকার অধিকাংশ ইটভাটাই গড়ে উঠেছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও ফসলি জমির বুক চিরে। জেলার ১২৫টি ইটভাটার মধ্যে বৈধ ১৬টি এবং অবৈধ ১০টি।
অভিযোগ রয়েছে, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং প্রশাসনের কড়াকড়ি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী মালিকরা বছরের পর বছর ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে নামমাত্র জরিমানা দিয়ে আবারও চালু করা হচ্ছে ভাটার বিষাক্ত চিমনি।
জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিপর্যয় অবৈধ ইটভাটার নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে বাতাস। ফলে ভাটা সংলগ্ন গ্রামগুলোতে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, এবং চর্মরোগসহ নানা জটিল ব্যাধি। শিশু ও বয়স্করা রয়েছেন সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।
অন্যদিকে, ইট তৈরির জন্য কৃষি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (Topsoil) কেটে নেওয়ায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি উৎপাদন। স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধোঁয়ার প্রভাবে নষ্ট হচ্ছে ফলজ ও বনজ গাছপালা। আগে যেসব জমিতে বাম্পার ফলন হতো, এখন সেখানে ধানের শিষ শুকিয়ে যাচ্ছে এবং ফলের গুটি ঝরে পড়ছে।
প্রশাসনের ভূমিকা ও দাবি পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, কেবল নামমাত্র জরিমানা বা মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। স্থায়ীভাবে এসব অবৈধ ভাটা বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি তদারকির অভাব ও অভিযানের ধারাবাহিকতা না থাকায় মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে গাইবান্ধার প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জনস্বাস্থ্য অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।

Reporter Name 






















