Dhaka ১২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ডায়াবেটিক সমিতি জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য হলেন সেকেন্দার আযম আনাম কুপি-হারিকেনের আলোয় পীরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী পুঁথি পাঠের আসর মহিমাগঞ্জে ‘মব সৃষ্টি করে’ অধ্যক্ষকে পদচ্যুতির প্রতিবাদ ও পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ গণ উন্নয়ন কেন্দ্রে ‘আর্ন-নিট’ প্রকল্পের কর্মীদের ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত নওগাঁয় ৮ ঘণ্টায় ছিনতাইয়ের রহস্য উদ্‌ঘাটন, কৃষক দলের নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩ গাজীপুরে পোশাকশ্রমিক আন্দোলন: গোবিন্দগঞ্জে নিহত তৌফিকের দাফন সম্পন্ন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন সুন্দরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, জরিমানা সুন্দরগঞ্জে জমি দখলে নিতে বিধবার কাঁচা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিকের হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক: আর্থিক লেনদেন না করার অনুরোধ

চৈত্রের শেষ দিন আজ: পুরোনো দিনের ধুলো ঝেড়ে নতুন বছরের আগমনী বার্তা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৮:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০৪ Time View

ডেস্ক রিপোর্ট: পুরনো দিনের ধুলো ঝেড়ে, নতুন স্বপ্ন নিয়ে আসে চৈত্র সংক্রান্তি—১৪৩২ বঙ্গাব্দের শেষ প্রহর। এটি শুধু বছরের বিদায় নয়, নতুন সূচনার প্রতিশ্রুতিও। দহনময় চৈত্রের মাঝেই লুকিয়ে থাকে নববর্ষের স্নিগ্ধ বার্তা। গ্রামবাংলায় এ দিনটি বিশেষভাবে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ঋতুচক্রের নিয়মে মানুষ পুরোনো জীর্ণতা ভুলে নতুন আশার আলো খোঁজে—তাই চৈত্র সংক্রান্তি বিদায় ও নবজাগরণের মায়াময় এক সেতুবন্ধন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন রূপে উদযাপিত হয় দিনটি। রাজধানীসহ নানা স্থানে বসে মেলা, আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত, নৃত্য ও লোকজ পরিবেশনা। গ্রামবাংলায় হালখাতা খোলা, পুরোনো হিসাব-নিকাশ চুকানো, ঘরবাড়ি পরিষ্কার, নতুন পোশাকের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে জনপদ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। ‘চড়ক পূজা’ ও ‘গাজন মেলা’ এই দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ, যা ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বহন করে আসছে।

খাদ্যসংস্কৃতিতেও রয়েছে বিশেষ বৈচিত্র্য। অনেকেই এদিন নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ করেন। কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্না করা হয়, আবার ছাতু খাওয়ার রীতিও প্রচলিত—যা ঐতিহ্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত গুরুত্বও বহন করে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজা, ব্রত ও শিবআরাধনার মাধ্যমে দিনটিকে পবিত্রভাবে পালন করেন।

অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী বর্ণিল ‘বৈসাবি’ উৎসব। চাকমাদের ‘বিজু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ এবং ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’—এই তিনটি উৎসব মিলেই বৈসাবি, যা তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে থাকে বর্ণিল উৎসব আয়োজন।

সময়ের সঙ্গে শহরের জীবনযাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন এলেও, গ্রামবাংলার মেলা, পুতুলনাচ, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যে আজও বেঁচে আছে চৈত্র সংক্রান্তির চিরচেনা আবহ। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নানা উদ্যোগে নতুন প্রজন্মের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে এই ঐতিহ্য।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ডায়াবেটিক সমিতি জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য হলেন সেকেন্দার আযম আনাম

চৈত্রের শেষ দিন আজ: পুরোনো দিনের ধুলো ঝেড়ে নতুন বছরের আগমনী বার্তা

Update Time : ০১:৩৮:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: পুরনো দিনের ধুলো ঝেড়ে, নতুন স্বপ্ন নিয়ে আসে চৈত্র সংক্রান্তি—১৪৩২ বঙ্গাব্দের শেষ প্রহর। এটি শুধু বছরের বিদায় নয়, নতুন সূচনার প্রতিশ্রুতিও। দহনময় চৈত্রের মাঝেই লুকিয়ে থাকে নববর্ষের স্নিগ্ধ বার্তা। গ্রামবাংলায় এ দিনটি বিশেষভাবে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ঋতুচক্রের নিয়মে মানুষ পুরোনো জীর্ণতা ভুলে নতুন আশার আলো খোঁজে—তাই চৈত্র সংক্রান্তি বিদায় ও নবজাগরণের মায়াময় এক সেতুবন্ধন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন রূপে উদযাপিত হয় দিনটি। রাজধানীসহ নানা স্থানে বসে মেলা, আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত, নৃত্য ও লোকজ পরিবেশনা। গ্রামবাংলায় হালখাতা খোলা, পুরোনো হিসাব-নিকাশ চুকানো, ঘরবাড়ি পরিষ্কার, নতুন পোশাকের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে জনপদ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। ‘চড়ক পূজা’ ও ‘গাজন মেলা’ এই দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ, যা ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বহন করে আসছে।

খাদ্যসংস্কৃতিতেও রয়েছে বিশেষ বৈচিত্র্য। অনেকেই এদিন নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ করেন। কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্না করা হয়, আবার ছাতু খাওয়ার রীতিও প্রচলিত—যা ঐতিহ্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত গুরুত্বও বহন করে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজা, ব্রত ও শিবআরাধনার মাধ্যমে দিনটিকে পবিত্রভাবে পালন করেন।

অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী বর্ণিল ‘বৈসাবি’ উৎসব। চাকমাদের ‘বিজু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ এবং ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’—এই তিনটি উৎসব মিলেই বৈসাবি, যা তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে থাকে বর্ণিল উৎসব আয়োজন।

সময়ের সঙ্গে শহরের জীবনযাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন এলেও, গ্রামবাংলার মেলা, পুতুলনাচ, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যে আজও বেঁচে আছে চৈত্র সংক্রান্তির চিরচেনা আবহ। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নানা উদ্যোগে নতুন প্রজন্মের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে এই ঐতিহ্য।