
প্রায় দেড় যুগ বিরতির পর আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) থেকে শুরু হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। মূলত ২০২৫ সালের এই পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০২৬ সালে। প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হবে বাংলা পরীক্ষা।
ইতোমধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষার রুটিন, নম্বর বিভাজন এবং পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ করেছে। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে নীতিমালায় পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বিশেষ নির্দেশনা ও আচরণবিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার রুটিন ও সময়সূচি
সাধারণ জেলার রুটিন:
-
১৫ এপ্রিল: বাংলা
-
১৬ এপ্রিল: ইংরেজি
-
১৭ এপ্রিল: প্রাথমিক গণিত
-
১৮ এপ্রিল: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান
তিন পার্বত্য জেলার (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) রুটিন:
-
১৭ এপ্রিল: প্রাথমিক গণিত
-
১৮ এপ্রিল: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান
-
১৯ এপ্রিল: বাংলা
-
২০ এপ্রিল: ইংরেজি
পরীক্ষার সময়: প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।
নম্বর বিভাজন ও সময়
-
বাংলা, ইংরেজি ও গণিত: প্রতিটি বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
-
প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: (৫০ + ৫০) মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
-
পাস নম্বর ও বিশেষ সুবিধা: বৃত্তি পাওয়ার জন্য প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবেন।
বৃত্তির ধরন ও কোটা
-
ধরন: ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান করা হবে।
-
জেন্ডার কোটা: উভয় ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রী নির্বাচিত হবেন।
-
প্রতিষ্ঠান কোটা: মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বিশেষ নির্দেশনা
১. প্রবেশপত্রসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হতে হবে। প্রবেশপত্র ছাড়া কাউকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। ২. পরীক্ষার হলে অননুমোদিত কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস আনা সম্পূর্ণ নিষেধ। ৩. উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার (ওএমআর) নির্ধারিত স্থানে নাম, বিষয় কোড ও রোল নম্বর ছাড়া অন্য কোনো কিছু লেখা যাবে না। ৪. উত্তরপত্রে অবশ্যই ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর থাকতে হবে, অন্যথায় উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। ৫. উত্তরপত্রের ভেতর বা বাইরে পরীক্ষার্থীর নাম, ঠিকানা, রোল নম্বর বা কোনো সাংকেতিক চিহ্ন ও আপত্তিকর কিছু লেখা যাবে না। ৬. খসড়ার জন্য কোনো অতিরিক্ত কাগজ দেওয়া হবে না। প্রদত্ত উত্তরপত্রে খসড়ার কাজ করে তা পরে যথাযথভাবে কেটে দিতে হবে। ৭. প্রদত্ত উত্তরপত্র ছাড়া টেবিল, স্কেল, নিজ দেহ বা অন্য কোথাও কোনো কিছু লেখা যাবে না। ৮. প্রশ্নপত্র বিতরণের পর এক ঘণ্টা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা হলের বাইরে যেতে পারবে না। ৯. পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কর্তব্যরত ইনভিজিলেটরের কাছে উত্তরপত্র জমা দিয়ে তবেই পরীক্ষার হল ত্যাগ করতে হবে। ১০. কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য সব নিয়মাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
পরীক্ষা চলাকালীন আচরণবিধি
-
পরীক্ষার হলে একে অপরের সঙ্গে কথা বলা যাবে না।
-
প্রশ্নপত্র বা অন্য কোনো মাধ্যমে কিছু লিখে অন্য পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বিনিময় করা যাবে না।
-
অন্যের উত্তরপত্র দেখে লেখা যাবে না এবং অন্যকে দেখানোর কাজে সহযোগিতাও করা যাবে না।
-
উত্তরপত্র ইনভিজিলেটরের কাছে জমা না দিয়ে পরীক্ষার হল ত্যাগ করা যাবে না।
-
উত্তরপত্রের পৃষ্ঠা পরিবর্তন বা বিনষ্ট করা যাবে না।

Reporter Name 













