Dhaka ০৫:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রৌমারীতে দেড় লাখ টাকাসহ ১৪ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার অবৈধভাবে রাসায়নিক সার বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির মতবিনিময় সভা আমেরিকায় গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন: চাকরি থাকলেও যাচাই হবে সামগ্রিক আর্থিক অবস্থা গাইবান্ধায় শিক্ষা দিবসে ছাত্র ইউনিয়নের মিছিল ও সমাবেশ নটর ডেম কলেজে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের গ্রীন ফিল্ড কলেজের অধ্যক্ষের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ সাঘাটায় বসতবাড়িতে ৪ হাজার ৬০০ চারা বিতরণ পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে হামলার শিকার যুবক, হাসপাতালে ভর্তি সুন্দরগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪ পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও সভাপতির বক্তব্য

তিস্তায় পানি বাড়ায় ভেঙে যাচ্ছে চরের রাস্তাঘাট, চরম দুর্ভোগে চরবাসী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • ১৭১ Time View

গোলজার রহমান, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:

গত এক সপ্তাহ ধরে অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে তিস্তার শাখা নদী ও নালাগুলো পানিতে ভরে যাওয়ায় চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট ভেঙে যাচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে চরবাসীর চলাচল। এক চর থেকে অন্য চরে যাতায়াতের জন্য নৌকা ও বাঁশের সাঁকোই এখন চরবাসীর একমাত্র ভরসা।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডীপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীতে প্রতিবছর বর্ষাকাল এলেই চরবাসীর দুঃখ-কষ্টের সীমা থাকে না। একদিকে নদীতে পানি বেড়ে যায়, অন্যদিকে ভাঙনে রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হতে থাকে। ইতোমধ্যে উপজেলার কাপাসিয়া ও হরিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে পানির প্রবল স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে চরের অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট।

উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের উজান বোচাগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আলম মিয়া বলেন, “নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় আমার বাড়ির সামনের রাস্তাটি ভেঙে গেছে। ওই রাস্তা দিয়ে অন্য চরে যাতায়াত করা আর সম্ভব হচ্ছে না। ভেঙে যাওয়া স্থানে এখন বাঁশের সাঁকো দিতে হবে। প্রতিবছরই আমাদের এভাবে চলতে হচ্ছে, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান আজও হয়নি।”

উজান বোচাগাড়ি গ্রামের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবছরই স্থানীয়ভাবে ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে চরের অনেক সড়ক মেরামত করতে হয়। সেই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিতে হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্থায়ীভাবে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। বর্ষাকাল এলেই চরবাসীকে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়।”

হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, “নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান একান্ত প্রয়োজন। তা না হলে চরবাসীর কষ্ট কোনোদিন দূর হবে না। বর্ষাকাল এলেই তাদের পানি ও ভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়।”

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান জানান, গত শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং জিও ব্যাগ ফেলা কার্যক্রম তদারকি করেছেন। তবে নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানের বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রৌমারীতে দেড় লাখ টাকাসহ ১৪ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার

তিস্তায় পানি বাড়ায় ভেঙে যাচ্ছে চরের রাস্তাঘাট, চরম দুর্ভোগে চরবাসী

Update Time : ০৪:১৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

গোলজার রহমান, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:

গত এক সপ্তাহ ধরে অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে তিস্তার শাখা নদী ও নালাগুলো পানিতে ভরে যাওয়ায় চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট ভেঙে যাচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে চরবাসীর চলাচল। এক চর থেকে অন্য চরে যাতায়াতের জন্য নৌকা ও বাঁশের সাঁকোই এখন চরবাসীর একমাত্র ভরসা।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডীপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীতে প্রতিবছর বর্ষাকাল এলেই চরবাসীর দুঃখ-কষ্টের সীমা থাকে না। একদিকে নদীতে পানি বেড়ে যায়, অন্যদিকে ভাঙনে রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হতে থাকে। ইতোমধ্যে উপজেলার কাপাসিয়া ও হরিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে পানির প্রবল স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে চরের অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট।

উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের উজান বোচাগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আলম মিয়া বলেন, “নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় আমার বাড়ির সামনের রাস্তাটি ভেঙে গেছে। ওই রাস্তা দিয়ে অন্য চরে যাতায়াত করা আর সম্ভব হচ্ছে না। ভেঙে যাওয়া স্থানে এখন বাঁশের সাঁকো দিতে হবে। প্রতিবছরই আমাদের এভাবে চলতে হচ্ছে, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান আজও হয়নি।”

উজান বোচাগাড়ি গ্রামের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবছরই স্থানীয়ভাবে ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে চরের অনেক সড়ক মেরামত করতে হয়। সেই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিতে হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্থায়ীভাবে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। বর্ষাকাল এলেই চরবাসীকে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়।”

হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, “নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান একান্ত প্রয়োজন। তা না হলে চরবাসীর কষ্ট কোনোদিন দূর হবে না। বর্ষাকাল এলেই তাদের পানি ও ভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়।”

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান জানান, গত শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং জিও ব্যাগ ফেলা কার্যক্রম তদারকি করেছেন। তবে নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানের বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।