Dhaka ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ আব্বাসউদ্দীনের জন্মবার্ষিকীতে ভাওয়াইয়া আসর: ও মোর কালারে কালা পঞ্চগড়ের আকাশে মায়াবী কাঞ্চনজঙ্ঘা, মেঘ সরতেই ধরা দিল হিমালয়ের রূপালি মুকুট ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে ১১ ও হাম উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু দিনাজপুরকে একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা জিডি নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, অপপ্রচারের অভিযোগ খেলতে গিয়ে ডোবার পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শহীদ মিনার ভাঙচুর, অভিযুক্ত প্রশিক্ষক পলাতক তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা

তুফানে উড়ে গেল ভূমিহীনের ঘর নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫
  • ২৫৯ Time View

 

তোফয়েল হোসেন জাকিরঃ নিভৃত অঞ্চলের বাসিন্দা মুক্তা রানী (৪৬)। হয়েছেন স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন। নিজের নেই জায়গা জমি। আশ্রয় নিয়েছেন অন্যের ভিটায়। সেখানে একটি জরাজীর্ণ ঘরে সন্তান নিয়ে বসবাস। কাটে দুর্বিষহ জীবনযাপন। এরই মধ্যে ঝড় হাওয়ায় উড়ে গেছে তার সেই ঘরের চালা। এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস এই ভূমিহীনের।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে এমনি এক অদ্ভূত চিত্র দেখা গেছ- গাইবান্ধার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে। এখানে উড়ে যাওয়া ভাঙা ঘরে নির্বাক চোখে তাকিয়ে ছিলেন ভূমিহীন মুক্তারানী। চরম হতাশায় যেন আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠছে তার।
খোঁজ নিয়ে যানা যায়, বোয়ালীদহ গ্রামের মৃত নছির উদ্দিনের মেয়ে মুক্তা রানী। তরুণী বয়সে বিয়ে হলেও সেই সংসার টিকেনি তার। এরপর কয়েক বছর পর ফের বিয়ে হয় পাশের উপজেলার ভেন্ডাবাড়ি এলাকায়। সেখানে কোলজুড়ে জন্ম হয় একটি ছেলে সন্তান। এরই মধ্যে দ্বিতীয় এ স্বামী আরেকটি বিয়ে করেন। তখন থেকে স্বামী বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকছেন বাবার গ্রামের এলাকায়। পৈতৃক সুত্রে কোন সহায় সম্বল বা জমিজমা না থাকায় আশ্রয় নেন অন্যের জমিতে। সেখানে একটি মাটির ঘর স্থাপন করে একমাত্র ছেলেকে (৪) নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। তবে বাঁশঝাড়ের মধ্যে এ বাড়িতে নেই কোন টিউবয়েল ও টয়লেট সুবিধা। আর বিদ্যুৎবিহীন ভূতরে বসবাস। জনপ্রতিনিধিদের কাছে পান না কোন সহায়তা। জীবিকার তাগিতে বিক্রি করেন কচুশাক। যে শাক রাস্তার ধারে অযন্তে অবহেলায় বেড়ে ওঠা সেই শাক সংগ্রহ করে বিভিন্ন হাট-বাজার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করেন মুক্তা রানী। এ থেকে কোনমতে জীবিকা চলে তার। কোলের শিশুকে নিয়ে সারাদিন হারভাঙা পরিশ্রম করে ঘরে একটু ভালোভাবে ঘুমাবেন তাও হয় না। জঙ্গলের ভেতরে জরাজীর্ণ ঘরে নির্ঘুম রাত কাটে এই ভূমিহীন নারীর। কয়েকদিন আগে রাতের বেলায় হঠাৎ তুফান এসে সব কিছু তছনছ করেছে। উড়ে গেছে সেই মাটির ঘরের চালা। এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস। সন্তানকে নিয়ে বেড়েছে আরও দুর্দশা। বৈশাখের বৃষ্টিতে রাত্রীযাপন করতে হচ্ছে ভেজা বিছানায়। আর সন্তান নিয়ে শরীর ভিজে যবুথবু হয়ে থাকছেন এই মুক্তা রানী। নেই খাবারের ব্যবস্থাও। এখন কি হবে কই যাবে, সব শেষ হয়ে গেছে তার।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মুক্তা রানী কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, স্বামী ছাড়া হয়ে সন্তানকে নিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে খেয়ে না খেয়ে জীবনযাপন করছি। অন্যের জমিতে একটি ঘর তুলে বসবাস করতাম। সেটাও আবার বাতাসে দুমড়ে মুচড়ে গেছে। এখন পর্যন্ত মেলেনি প্রশাসনের কিংবা জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা। সকারিভাবে আমাকে একটি যদি আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে হয় কিছু আরামে থাকতে পারতাম
ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য জিল্লুর রহমান জানান, মুক্তা রানীর ঘরের চালা উড়ে গেছে সেটি জানা নেই তার। খতিয়ে দেখে তাকে সহযোগীতার চেষ্টা করবেন। সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ময়নুল হক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তা রানীর ব্যাপারটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে খোঁজ নেওয়া হবে। সম্ভব হলে তাকে সহযোগীতা করা যেতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

kartick kartick

Popular Post

সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ

তুফানে উড়ে গেল ভূমিহীনের ঘর নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই

Update Time : ০৮:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫

 

তোফয়েল হোসেন জাকিরঃ নিভৃত অঞ্চলের বাসিন্দা মুক্তা রানী (৪৬)। হয়েছেন স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন। নিজের নেই জায়গা জমি। আশ্রয় নিয়েছেন অন্যের ভিটায়। সেখানে একটি জরাজীর্ণ ঘরে সন্তান নিয়ে বসবাস। কাটে দুর্বিষহ জীবনযাপন। এরই মধ্যে ঝড় হাওয়ায় উড়ে গেছে তার সেই ঘরের চালা। এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস এই ভূমিহীনের।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে এমনি এক অদ্ভূত চিত্র দেখা গেছ- গাইবান্ধার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে। এখানে উড়ে যাওয়া ভাঙা ঘরে নির্বাক চোখে তাকিয়ে ছিলেন ভূমিহীন মুক্তারানী। চরম হতাশায় যেন আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠছে তার।
খোঁজ নিয়ে যানা যায়, বোয়ালীদহ গ্রামের মৃত নছির উদ্দিনের মেয়ে মুক্তা রানী। তরুণী বয়সে বিয়ে হলেও সেই সংসার টিকেনি তার। এরপর কয়েক বছর পর ফের বিয়ে হয় পাশের উপজেলার ভেন্ডাবাড়ি এলাকায়। সেখানে কোলজুড়ে জন্ম হয় একটি ছেলে সন্তান। এরই মধ্যে দ্বিতীয় এ স্বামী আরেকটি বিয়ে করেন। তখন থেকে স্বামী বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকছেন বাবার গ্রামের এলাকায়। পৈতৃক সুত্রে কোন সহায় সম্বল বা জমিজমা না থাকায় আশ্রয় নেন অন্যের জমিতে। সেখানে একটি মাটির ঘর স্থাপন করে একমাত্র ছেলেকে (৪) নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। তবে বাঁশঝাড়ের মধ্যে এ বাড়িতে নেই কোন টিউবয়েল ও টয়লেট সুবিধা। আর বিদ্যুৎবিহীন ভূতরে বসবাস। জনপ্রতিনিধিদের কাছে পান না কোন সহায়তা। জীবিকার তাগিতে বিক্রি করেন কচুশাক। যে শাক রাস্তার ধারে অযন্তে অবহেলায় বেড়ে ওঠা সেই শাক সংগ্রহ করে বিভিন্ন হাট-বাজার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করেন মুক্তা রানী। এ থেকে কোনমতে জীবিকা চলে তার। কোলের শিশুকে নিয়ে সারাদিন হারভাঙা পরিশ্রম করে ঘরে একটু ভালোভাবে ঘুমাবেন তাও হয় না। জঙ্গলের ভেতরে জরাজীর্ণ ঘরে নির্ঘুম রাত কাটে এই ভূমিহীন নারীর। কয়েকদিন আগে রাতের বেলায় হঠাৎ তুফান এসে সব কিছু তছনছ করেছে। উড়ে গেছে সেই মাটির ঘরের চালা। এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস। সন্তানকে নিয়ে বেড়েছে আরও দুর্দশা। বৈশাখের বৃষ্টিতে রাত্রীযাপন করতে হচ্ছে ভেজা বিছানায়। আর সন্তান নিয়ে শরীর ভিজে যবুথবু হয়ে থাকছেন এই মুক্তা রানী। নেই খাবারের ব্যবস্থাও। এখন কি হবে কই যাবে, সব শেষ হয়ে গেছে তার।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মুক্তা রানী কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, স্বামী ছাড়া হয়ে সন্তানকে নিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে খেয়ে না খেয়ে জীবনযাপন করছি। অন্যের জমিতে একটি ঘর তুলে বসবাস করতাম। সেটাও আবার বাতাসে দুমড়ে মুচড়ে গেছে। এখন পর্যন্ত মেলেনি প্রশাসনের কিংবা জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা। সকারিভাবে আমাকে একটি যদি আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে হয় কিছু আরামে থাকতে পারতাম
ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য জিল্লুর রহমান জানান, মুক্তা রানীর ঘরের চালা উড়ে গেছে সেটি জানা নেই তার। খতিয়ে দেখে তাকে সহযোগীতার চেষ্টা করবেন। সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ময়নুল হক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তা রানীর ব্যাপারটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে খোঁজ নেওয়া হবে। সম্ভব হলে তাকে সহযোগীতা করা যেতে পারে।