
আজকের জনগণ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের ভেতরে ইরান যুদ্ধের কৌশল ও সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে বড় ধরনের মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসছে। একাধিক শীর্ষ জেনারেল ও অ্যাডমিরাল দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এর মধ্যেই সেনাবাহিনীর বেসামরিক প্রধান Army Secretary Dan Driscoll পদত্যাগ করেছেন। পরিস্থিতিকে কেউ কেউ ‘Pentagon revolt’ বা পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের সুর হিসেবে বর্ণনা করলেও এখন পর্যন্ত এটি কোনো সামরিক বিদ্রোহ বা অভ্যুত্থান নয়।
ওয়াশিংটন পোস্টের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের Army, Navy ও Air Force-এর শীর্ষ নেতৃত্বসহ বিভিন্ন অঞ্চলের চার তারকা জেনারেল ও অ্যাডমিরাল প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth-কে সতর্ক করেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে বড় আকারের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া টেকসই নয়। এতে ইউরোপ, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার সামরিক সক্ষমতাও দুর্বল হতে পারে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার পেন্টাগনের গোপন Secretary of Defense Orders Book (SDOB)-এ ‘non-concur’ বা আনুষ্ঠানিক অসম্মতি জানিয়েছেন। এর অর্থ—তাঁরা নির্দেশের সঙ্গে একমত নন, যদিও সামরিক শৃঙ্খলা অনুযায়ী নির্দেশ বাস্তবায়ন করবেন। পেন্টাগন বলছে, এ ধরনের মতপার্থক্য সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ।
এই তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে। পেন্টাগন তাদের গোপন SIPRNet নেটওয়ার্ক থেকে Secretary of Defense Orders Book–সংক্রান্ত কয়েক দশকের classified নথিতে প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে। তবে নথিগুলো অন্য কোনো ব্যবস্থায় সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য উন্মুক্ত আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এর মধ্যেই Army Secretary Dan Driscoll পদত্যাগ করেছেন। তিনি প্রকাশ্যে পদত্যাগের কারণ বিস্তারিত জানাননি। তবে Reuters, AP ও অন্যান্য মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী Hegseth-এর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল। বিশেষ করে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং Army modernization কর্মসূচি নিয়ে তাঁদের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল।
ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানানোর সময় প্রেসিডেন্ট Donald Trump তাঁকে অন্তত মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। Driscoll ওই বৈঠকে Hegseth-এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ক্ষতি হচ্ছে বলে নিজের উদ্বেগও তুলে ধরেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে White House ওই বৈঠকের এই বর্ণনার সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছে।
Hegseth দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একের পর এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা অপসারিত হয়েছেন বা দায়িত্ব ছেড়েছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যখন মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে রয়েছে, তখন Pentagon-এর অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন বাড়ছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে সরাসরি ‘সামরিক বিদ্রোহ’ বলা বিভ্রান্তিকর হবে। এখন পর্যন্ত কোনো জেনারেল বা সামরিক ইউনিট প্রেসিডেন্টের কর্তৃত্ব অস্বীকার করেনি কিংবা নির্দেশ পালন করতে অস্বীকৃতি জানায়নি। বরং এটি মূলত ইরান যুদ্ধের কৌশল, সামরিক সম্পদের ওপর চাপ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী Hegseth-এর নেতৃত্ব নিয়ে Pentagon-এর উচ্চপর্যায়ে ক্রমবর্ধমান মতবিরোধের বহিঃপ্রকাশ।
তবে প্রশ্ন উঠছে—এই মতবিরোধ কি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতির স্বাভাবিক অভ্যন্তরীণ বিতর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি শেষ পর্যন্ত Pentagon-এর নেতৃত্বে আরও বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে?

Reporter Name 

















