
ডেস্ক রিপোর্টঃ মাত্র কয়েকশ মিটার দূরে রুশ ড্রোনের শব্দ! ট্রেনে ছিলেন বরিস জনসন ও সাবেক সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রিয়াস। ইউক্রেনের রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, রাশিয়ার ড্রোন হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল তাদের বহনকারী ট্রেনটিও।
রোববার ভোরে পশ্চিম ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। এতে অন্তত ৬ জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত ৪৫০টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ৪০৫টি ড্রোন ও ৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইউক্রেনীয় রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং সাবেক সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রিয়াসকে বহনকারী ট্রেনটি ড্রোন হামলার কিছুক্ষণ আগেই ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্ত পার হয়েছিল। হামলার আশঙ্কায় ট্রেনটির সময়সূচিও নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিবর্তন করা হয়েছিল।
রেল কর্তৃপক্ষের ধারণা, কূটনৈতিক ওই ট্রেনটিও হামলার লক্ষ্য হয়ে থাকতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে এখনো নিশ্চিত কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
হামলার সময় ট্রেনে থাকা যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সীমান্তের কাছে পৌঁছানোর সময় যাত্রীদের দ্রুত ট্রেন থেকে নামতে বলা হয়। এরপর কয়েকশ মিটার দূরেই শোনা যায় ড্রোনের শব্দ। তবে ট্রেনে থাকা কেউ হতাহত হননি।
পরে বরিস জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার নিন্দা করে বলেন, ইউক্রেনের বেসামরিক রেলপথেও রুশ হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি এটিকে ইউক্রেনীয়দের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা বলেন, এটি শুধু ইউক্রেনের ওপর হামলা নয়; বরং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর দরজায় রুশ আগ্রাসনের বার্তা।
অন্যদিকে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসে ইউক্রেনে রুশ হামলা আরও তীব্র হতে পারে এবং এর প্রভাব পোল্যান্ডের ভূখণ্ডেও পড়তে পারে। সীমান্তের কাছে হামলার পর তিনি জরুরি বৈঠক করেন।
তবে মস্কোর দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল পশ্চিম ইউক্রেনের রেল অবকাঠামো, কারণ এসব রেলপথ ইউরোপ থেকে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত রেল অবকাঠামো।
এদিকে হামলার পর প্রতিবেশী দেশগুলোতেও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াস বিমানবন্দরে ড্রোন দেখা যাওয়ার আশঙ্কায় সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। পরে সেটি পাখির ঝাঁক বলে নিশ্চিত হওয়ার পর প্রায় ৪০ মিনিটের মধ্যে বিমানবন্দর আবার চালু করা হয়।

Reporter Name 






















