Dhaka ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সার্ভার হ্যাক করে এনআইডি-সিডিআরসহ গোপন তথ্য সরবরাহ; যুবক গ্রেপ্তার জাভা সাগরে উল্টে গেল যাত্রীবাহী জাহাজ, ৬ জনের মৃত্যু—নিখোঁজ ১৩০ গাইবান্ধায় সংঘাত সংবেদনশীলতা ও দ্বন্দ্ব নিরসনে চার দিনের কর্মশালা শুরু ঢাকা-রংপুর লংমার্চ: পলাশবাড়ীর পথসভা সফল করতে গাইবান্ধায় প্রস্তুতি সভা বাণিজ্য মেলাকে ঘিরে এনসিপির প্রস্তাবকে আমলে নিচ্ছে গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সাথে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মত বিনিময় উত্তরসংযোগ: নদীর দুই পাড় আর একটি অপেক্ষার গল্প গাইবান্ধায় মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ কমিটির সমন্বয় সভা গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ও মেয়ে আহত ১০ মাস বিচারকহীন সাদুল্লাপুর সহকারী জজ আদালত, ঝুলে আছে প্রায় ৪ হাজার মামলা

প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ কী হবে? দুশ্চিন্তায় পরিবার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬৫ Time View

তোফায়েল হোসেন জাকির, সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা): প্রতিবন্ধী দুই সন্তান রফিক মিয়া (১৮) ও রোকন মিয়াকে (১৭) নিয়ে বাবা—মায়ের জীবন যেন প্রতিদিনের সংগ্রামের গল্প। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে— এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জন্ম দিয়েছে।

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী দুই ছেলের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের। এ গ্রামের দিনমজুর আমিনুর রহমান ও রনজিদা বেগম দম্পতির ছেলে তারা। স্থানীয়রা বলছেন— আমিনুর রহমানের সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। একদিকে সন্তানদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের খরচ, অন্যদিকে খাবার ও পরিবারের অন্যান্য ব্যয় সব মিলিয়ে প্রতিদিনই নতুন করে সংকটে পড়তে হয় তাদের। অনেক সময় প্রয়োজন থাকা সত্বেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেন না তারা। এ পরিবারটির দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন দরিদ্র অসহায় বাবা—মা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমিনুর রহমান ও রনজিদা বেগম দম্পতির সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই শুরু হয় তাদের ব্যস্ততা। সন্তানদের
গোসল করানো, খাওয়ানো, পোশাক পরানো থেকে শুরু করে সারাক্ষণ পাশে থাকতে হয়। দুই ছেলেকে এক মুহূর্তের জন্যও একা রাখা সম্ভব হয় না। ফলে সংসারের স্বাভাবিক কাজকর্ম কিংবা উপার্জনের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে এই বাবা—মায়ের। স

প্রতিবন্ধীদের মা রনজিদা বেগম ও বাবা আমিনুর রহমান জানান, তাদের জন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা ও সরকারি সুযোগ—সুবিধা। সেইসঙ্গে চিকিৎসা সহায়তা অন্যান্যভাবে ব্যবস্থা করা হলে দুই সন্তানই ভবিষ্যতে কিছুটা স্বাবলম্বী হতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা।

ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতিবন্ধী পরিবারে ব্যক্তিগতভাবে ও পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। যা আগামী দিনেও চেষ্টা করা হবে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আল মামুদ জানান, প্রতিবন্ধী রফিক ও রোকনকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতাভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া অন্য কোনো সুবিধা আসলে তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সার্ভার হ্যাক করে এনআইডি-সিডিআরসহ গোপন তথ্য সরবরাহ; যুবক গ্রেপ্তার

প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ কী হবে? দুশ্চিন্তায় পরিবার

Update Time : ১০:৫৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

তোফায়েল হোসেন জাকির, সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা): প্রতিবন্ধী দুই সন্তান রফিক মিয়া (১৮) ও রোকন মিয়াকে (১৭) নিয়ে বাবা—মায়ের জীবন যেন প্রতিদিনের সংগ্রামের গল্প। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে— এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জন্ম দিয়েছে।

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী দুই ছেলের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের। এ গ্রামের দিনমজুর আমিনুর রহমান ও রনজিদা বেগম দম্পতির ছেলে তারা। স্থানীয়রা বলছেন— আমিনুর রহমানের সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। একদিকে সন্তানদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের খরচ, অন্যদিকে খাবার ও পরিবারের অন্যান্য ব্যয় সব মিলিয়ে প্রতিদিনই নতুন করে সংকটে পড়তে হয় তাদের। অনেক সময় প্রয়োজন থাকা সত্বেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেন না তারা। এ পরিবারটির দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন দরিদ্র অসহায় বাবা—মা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমিনুর রহমান ও রনজিদা বেগম দম্পতির সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই শুরু হয় তাদের ব্যস্ততা। সন্তানদের
গোসল করানো, খাওয়ানো, পোশাক পরানো থেকে শুরু করে সারাক্ষণ পাশে থাকতে হয়। দুই ছেলেকে এক মুহূর্তের জন্যও একা রাখা সম্ভব হয় না। ফলে সংসারের স্বাভাবিক কাজকর্ম কিংবা উপার্জনের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে এই বাবা—মায়ের। স

প্রতিবন্ধীদের মা রনজিদা বেগম ও বাবা আমিনুর রহমান জানান, তাদের জন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা ও সরকারি সুযোগ—সুবিধা। সেইসঙ্গে চিকিৎসা সহায়তা অন্যান্যভাবে ব্যবস্থা করা হলে দুই সন্তানই ভবিষ্যতে কিছুটা স্বাবলম্বী হতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা।

ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতিবন্ধী পরিবারে ব্যক্তিগতভাবে ও পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। যা আগামী দিনেও চেষ্টা করা হবে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আল মামুদ জানান, প্রতিবন্ধী রফিক ও রোকনকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতাভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া অন্য কোনো সুবিধা আসলে তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।