Dhaka ০৭:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ইমদাদুল হক মিলনকে পেয়ে উচ্ছ্বাসে মাতলো একঝাঁক শিশু-কিশোর নলকূপ আছে, পানি নেই দ্বন্দ্বে বিপর্যস্ত নওগাঁর হাজারো কৃষক ব্রহ্মপুত্র নদের তীর রক্ষা বাঁধের ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি সাঘাটা উপজেলা বিএনপি’র সাথে এমপি মমতাজের মতবিনিময় সভা পাকিস্তানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: শতাধিক প্রাণহানি, ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নিষিদ্ধ নেইমার: গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে ছাড়াই মাঠে নামছে সান্তোস পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধি: ধর্মীয় স্থাপনায় হামলায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, শান্তির আহ্বান গাইবান্ধায় সাবেক সেনা সদস্যের সংবাদ সম্মেলন: জমি বিক্রি ও স্ত্রীর অপপ্রচারের প্রতিবাদ আজ কিংবদন্তি লোকসংগীত শিল্পী আবদুল আলীমের জন্মদিন ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি ইরানের

ব্রহ্মপুত্রের চরে বালু থেকে ৪ হাজার কোটি টাকার খনিজ সম্পদ উত্তোলন শুরু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ১৪৯ Time View

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান ভারী খনিজ বালু আহরণের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। অস্ট্রেলীয় খনিজ উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেড’ গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন চরে ইতিমধ্যে তাদের মূল কার্যক্রম ও ভারী যন্ত্রপাতি স্থাপন করেছে। কামারজানি, খারজানি ও বাটিকামারীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে পাইলট প্ল্যান্টের সফল পরীক্ষা শেষে এখন পুরোদমে খনিজ পৃথকীকরণের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই প্রকল্প থেকে অন্তত ৪ হাজার কোটি টাকার মূল্যবান খনিজ সম্পদ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

সরকারি সূত্র জানায়, গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার কামারজানি, গিদারি ও কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চল এবং কুড়িগ্রামের চিলমারী সীমানা এলাকা জুড়ে এই খনিজ ব্লকের অবস্থান। সরকারের খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) ৫টি নির্দিষ্ট খনিজ আহরণের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ৭৯৯ হেক্টর বালুচর ইজারা দিয়েছে। সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী, উত্তোলিত খনিজ সম্পদের ৪৩ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি ৫৭ শতাংশ পাবে এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেড।

দীর্ঘদিন ধরেই ব্রহ্মপুত্রের বালুতে ভারী ও মূল্যবান খনিজের উপস্থিতির কথা শোনা যাচ্ছিল, যা এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে কামারজানি বন্দর সংলগ্ন কড়াইবাড়ির চর ও এর আশপাশের এলাকায় আধুনিক ‘মিনারেল সেপারেশন প্ল্যান্ট’ বা খনিজ পৃথকীকরণ যন্ত্রপাতির মাধ্যমে বালু থেকে পাঁচটি মূল্যবান খনিজ আলাদা করা হচ্ছে। এগুলো হলো-জিরকন, রুটাইল, ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট ও গারনেট।

এর মধ্যে জিরকন ব্যবহৃত হয় সিরামিক, টাইলস ও রিফ্যাক্টরিজ শিল্পে। রুটাইল ব্যবহার করা হয় রং, প্লাস্টিক, কসমেটিকস ও ওষুধ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে। এছাড়া টাইটানিয়াম ধাতু ও ওয়েল্ডিং রড তৈরিতে কাজে লাগে ইলমেনাইট। অন্যদিকে, ইস্পাত, চুম্বক, সিরিঞ্জ এবং শিরিষ কাগজ বা আব্রেসিভ তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ম্যাগনেটাইট ও গারনেট।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিকভাবে এই খনিজ উত্তোলন পুরোপুরি সফল হলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে, বিশেষ করে দেশীয় খনিজ সম্পদ খাতে এক অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখবে। এতে যেমন আমদানিনির্ভরতা কমবে, তেমনি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

প্রকল্পের প্রজেক্ট নির্বাহী ইমরান আহমেদ জানান, পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর বর্তমানে চরের নদী ও স্থলভাগ থেকে বালু সংগ্রহের মূল কাজ শুরু হয়েছে। চরের এই খনিজ বালু থেকে তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ইমদাদুল হক মিলনকে পেয়ে উচ্ছ্বাসে মাতলো একঝাঁক শিশু-কিশোর

ব্রহ্মপুত্রের চরে বালু থেকে ৪ হাজার কোটি টাকার খনিজ সম্পদ উত্তোলন শুরু

Update Time : ০১:২৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান ভারী খনিজ বালু আহরণের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। অস্ট্রেলীয় খনিজ উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেড’ গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন চরে ইতিমধ্যে তাদের মূল কার্যক্রম ও ভারী যন্ত্রপাতি স্থাপন করেছে। কামারজানি, খারজানি ও বাটিকামারীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে পাইলট প্ল্যান্টের সফল পরীক্ষা শেষে এখন পুরোদমে খনিজ পৃথকীকরণের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই প্রকল্প থেকে অন্তত ৪ হাজার কোটি টাকার মূল্যবান খনিজ সম্পদ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

সরকারি সূত্র জানায়, গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার কামারজানি, গিদারি ও কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চল এবং কুড়িগ্রামের চিলমারী সীমানা এলাকা জুড়ে এই খনিজ ব্লকের অবস্থান। সরকারের খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) ৫টি নির্দিষ্ট খনিজ আহরণের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ৭৯৯ হেক্টর বালুচর ইজারা দিয়েছে। সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী, উত্তোলিত খনিজ সম্পদের ৪৩ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি ৫৭ শতাংশ পাবে এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেড।

দীর্ঘদিন ধরেই ব্রহ্মপুত্রের বালুতে ভারী ও মূল্যবান খনিজের উপস্থিতির কথা শোনা যাচ্ছিল, যা এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে কামারজানি বন্দর সংলগ্ন কড়াইবাড়ির চর ও এর আশপাশের এলাকায় আধুনিক ‘মিনারেল সেপারেশন প্ল্যান্ট’ বা খনিজ পৃথকীকরণ যন্ত্রপাতির মাধ্যমে বালু থেকে পাঁচটি মূল্যবান খনিজ আলাদা করা হচ্ছে। এগুলো হলো-জিরকন, রুটাইল, ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট ও গারনেট।

এর মধ্যে জিরকন ব্যবহৃত হয় সিরামিক, টাইলস ও রিফ্যাক্টরিজ শিল্পে। রুটাইল ব্যবহার করা হয় রং, প্লাস্টিক, কসমেটিকস ও ওষুধ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে। এছাড়া টাইটানিয়াম ধাতু ও ওয়েল্ডিং রড তৈরিতে কাজে লাগে ইলমেনাইট। অন্যদিকে, ইস্পাত, চুম্বক, সিরিঞ্জ এবং শিরিষ কাগজ বা আব্রেসিভ তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ম্যাগনেটাইট ও গারনেট।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিকভাবে এই খনিজ উত্তোলন পুরোপুরি সফল হলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে, বিশেষ করে দেশীয় খনিজ সম্পদ খাতে এক অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখবে। এতে যেমন আমদানিনির্ভরতা কমবে, তেমনি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

প্রকল্পের প্রজেক্ট নির্বাহী ইমরান আহমেদ জানান, পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর বর্তমানে চরের নদী ও স্থলভাগ থেকে বালু সংগ্রহের মূল কাজ শুরু হয়েছে। চরের এই খনিজ বালু থেকে তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।