Dhaka ০২:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, বিক্ষোভে অবরুদ্ধ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কাঁচ দিয়ে আঘাত, থানায় মামলা চিলমারীর এক ইউনিয়নেই প্রায় কোটি টাকা লোপাট: ইউএনও’র কাছে এলাকাবাসীর অভিযোগ কারখানার রাস্তা বন্ধ করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ফেসবুকে অপপ্রচারের প্রতিবাদে নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থার নিন্দা সুন্দরগঞ্জে ক্লাস ফেলে সমাবেশ-মানববন্ধন, দিনভর প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ গাইবান্ধায় আরসিসি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন সাপের দংশনে সাপুড়ের মৃত্যু চালের বাজারে অস্থিরতা: নওগাঁর দুই অটো রাইস মিলে ভোক্তার অভিযান ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানল: সরিয়ে নেয়া হয়েছে ৬০ হাজার মানুষকে, পুড়ে গেছে ৬শ’ স্থাপনা

ব্রহ্মপুত্রের তীরে প্রকৃতির রূপে মাতোয়ারা দর্শনার্থীরা

লিজা, মিজান ও সাহিদা। সবাই তরুণ-তরুণী। বাবা-মায়ের সঙ্গে রাজশাহীতে এদের বসবাস। ঈদের ছুটিতে একঘেয়ে জীবন ছেড়ে পৌঁছেছে গাইবান্ধার গ্রামের বাড়িতে। ছুটির সময়গুলো উপভোগ করতে এসেছে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে। এ নদের দৃশ্য আর প্রকৃতির রূপে মুগ্ধ তারা। শুধু লিজারাই নয়, এখানে সকল বয়সের হাজারো বিনোদনপ্রেমি যেন প্রকৃতির মাঝে হারিয়েছেন।

ঈদের পরদিন রোববার (২২ মার্চ ) গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বালাসী ঘাট এলাকায় দেখা যায়, ভ্রমণ পিপাসুদের উপচেপড়া ভীড়। চিরচেনা দর্শনীয় এই স্থানে শিশু, তরুণ-তরুণীসহ নানান বয়সী মানুষেরা নৌকা-ঘোড়া গাড়ি ভ্রমণে চরাঞ্চল ঘুরে দেখতে মেতে ওঠেছে। ঈদ-উল ফিতরের ছুটিতে নৌবন্দর বালাসী ঘাটে ঢল নেমেছে দর্শনার্থীদের।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উত্তরের নদীবেষ্টিত জেলা গাইবান্ধা। নদীমাতৃক এই সুন্দর বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানের মধ্য ফলছড়ির এই বালাসী ঘাট। এখানে বিনোদনের জন্য কয়েকটি স্থান থাকলেও সেগুলোতে কৃত্রিম কিছু দেখা ছাড়া প্রকৃতির রূপ সৌন্দর্য তেমনটি চোখে পড়ে না। তাই ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে বালাসী ঘাটে ছুটছেন বিনোদনপ্রেমিরা। এখানে প্রকৃতির নির্মল বাতাস আর দৃশ্য দেখতে মনের আনন্দে ঘোরাঘুরিতে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে।

এদিকে পবিত্র ঈদ-উল ফিতরকে কেন্দ্র করে নদীতে নামানো হয়েছে বেশ কিছু নৌকা। বালু চরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ঘোড়ার গাড়ি। এসব বাহনযোগে বিভিন্ন বালুচরসহ এদিক-সেদিক ঘুরছে ভ্রমণপিপাসুরা। একই সঙ্গে নদীর পাড়ে ও চরাঞ্চলগুলো দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।

লিজা আক্তার নামের সেই তরুণী জানায়, বাবা-মায়ের চাকুরির সুবাদে রাজশাহী বসবাস। তাদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে। ঈদের ছুটিতে আনন্দ উপভোগ করতে বালাসী ঘাটে আসা হয়। এখানে ঘুরে খুব ভালো লেগেছে এবং অনেকটা মুগ্ধ। যেন প্রকৃতির রূপে মিশে যাওয়ার মতো।

মিজানুর রহমান নামের এক তরুণ বলেন, এখানে নৌকা যোগে ঘোরাঘুরি করলাম। বালুচরসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে প্রাণজুড়িয়ে গেল। তবে বালাসীর এই স্থানে একটু বিশ্রামের জন্য বসার তেমন ব্যবস্থা নেই। সঙ্গে বাথরুমের ব্যবস্থা করা দরকার।

শহিদুল ইসলাম নামের এক চাকরিজীবি জানান, কর্ম ব্যস্ততার কারণে পরিবার নিয়ে ঘুরাঘুরির সময় কম হয় তার।  তাই ঈদের ছুটিতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এই বালাসী ঘাটে এসেছি। এখানে অনেকটা ভালো লেগেছে।

নৌমাঝি আনজারুল ইসলাম বলেন, ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে নদীতে নৌকা নামানো হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য এটি কয়েকদিন চলবে। লোক বহন করে দিনে প্রায় ১ হাজার টাকার উর্দ্ধে রোজগার হচ্ছে। শুধু ঈদে নয়, দেশের বিভিন্ন উৎসবে এখানে মানুষের সমাগম ঘটে।

ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বলেন, বালাসীতে আগত মানুষেরা যাতে করে নির্বিঘ্ন আনন্দ উপভোগ করতে পারে সে বিষয়ে টহল রাখা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, বিক্ষোভে অবরুদ্ধ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ব্রহ্মপুত্রের তীরে প্রকৃতির রূপে মাতোয়ারা দর্শনার্থীরা

Update Time : ১১:৩৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

লিজা, মিজান ও সাহিদা। সবাই তরুণ-তরুণী। বাবা-মায়ের সঙ্গে রাজশাহীতে এদের বসবাস। ঈদের ছুটিতে একঘেয়ে জীবন ছেড়ে পৌঁছেছে গাইবান্ধার গ্রামের বাড়িতে। ছুটির সময়গুলো উপভোগ করতে এসেছে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে। এ নদের দৃশ্য আর প্রকৃতির রূপে মুগ্ধ তারা। শুধু লিজারাই নয়, এখানে সকল বয়সের হাজারো বিনোদনপ্রেমি যেন প্রকৃতির মাঝে হারিয়েছেন।

ঈদের পরদিন রোববার (২২ মার্চ ) গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বালাসী ঘাট এলাকায় দেখা যায়, ভ্রমণ পিপাসুদের উপচেপড়া ভীড়। চিরচেনা দর্শনীয় এই স্থানে শিশু, তরুণ-তরুণীসহ নানান বয়সী মানুষেরা নৌকা-ঘোড়া গাড়ি ভ্রমণে চরাঞ্চল ঘুরে দেখতে মেতে ওঠেছে। ঈদ-উল ফিতরের ছুটিতে নৌবন্দর বালাসী ঘাটে ঢল নেমেছে দর্শনার্থীদের।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উত্তরের নদীবেষ্টিত জেলা গাইবান্ধা। নদীমাতৃক এই সুন্দর বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানের মধ্য ফলছড়ির এই বালাসী ঘাট। এখানে বিনোদনের জন্য কয়েকটি স্থান থাকলেও সেগুলোতে কৃত্রিম কিছু দেখা ছাড়া প্রকৃতির রূপ সৌন্দর্য তেমনটি চোখে পড়ে না। তাই ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে বালাসী ঘাটে ছুটছেন বিনোদনপ্রেমিরা। এখানে প্রকৃতির নির্মল বাতাস আর দৃশ্য দেখতে মনের আনন্দে ঘোরাঘুরিতে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে।

এদিকে পবিত্র ঈদ-উল ফিতরকে কেন্দ্র করে নদীতে নামানো হয়েছে বেশ কিছু নৌকা। বালু চরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ঘোড়ার গাড়ি। এসব বাহনযোগে বিভিন্ন বালুচরসহ এদিক-সেদিক ঘুরছে ভ্রমণপিপাসুরা। একই সঙ্গে নদীর পাড়ে ও চরাঞ্চলগুলো দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।

লিজা আক্তার নামের সেই তরুণী জানায়, বাবা-মায়ের চাকুরির সুবাদে রাজশাহী বসবাস। তাদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে। ঈদের ছুটিতে আনন্দ উপভোগ করতে বালাসী ঘাটে আসা হয়। এখানে ঘুরে খুব ভালো লেগেছে এবং অনেকটা মুগ্ধ। যেন প্রকৃতির রূপে মিশে যাওয়ার মতো।

মিজানুর রহমান নামের এক তরুণ বলেন, এখানে নৌকা যোগে ঘোরাঘুরি করলাম। বালুচরসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে প্রাণজুড়িয়ে গেল। তবে বালাসীর এই স্থানে একটু বিশ্রামের জন্য বসার তেমন ব্যবস্থা নেই। সঙ্গে বাথরুমের ব্যবস্থা করা দরকার।

শহিদুল ইসলাম নামের এক চাকরিজীবি জানান, কর্ম ব্যস্ততার কারণে পরিবার নিয়ে ঘুরাঘুরির সময় কম হয় তার।  তাই ঈদের ছুটিতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এই বালাসী ঘাটে এসেছি। এখানে অনেকটা ভালো লেগেছে।

নৌমাঝি আনজারুল ইসলাম বলেন, ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে নদীতে নৌকা নামানো হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য এটি কয়েকদিন চলবে। লোক বহন করে দিনে প্রায় ১ হাজার টাকার উর্দ্ধে রোজগার হচ্ছে। শুধু ঈদে নয়, দেশের বিভিন্ন উৎসবে এখানে মানুষের সমাগম ঘটে।

ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বলেন, বালাসীতে আগত মানুষেরা যাতে করে নির্বিঘ্ন আনন্দ উপভোগ করতে পারে সে বিষয়ে টহল রাখা হয়েছে।