Dhaka ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে গাইবান্ধা: বিপর্যস্ত জনজীবন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৭৪ Time View

আফতাব হোসেন:
উত্তরের জেলা গাইবান্ধায় জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। জেলাজুড়ে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় এ অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতজনিত কারণে গত ২৪ ঘন্টায় গাইবান্ধা জেলায় শিশু ও বৃদ্ধসহ ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টায় গাইবান্ধা জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলাজুড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে এবং এই অবস্থা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে এই জনপদে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকায় দুপুর পর্যন্ত সূর্যের আলো মাটিতে পৌঁছাতে পারছে না। এর সাথে উত্তর দিক থেকে আসা হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জেলার চরাঞ্চল ও নিম্ন আয়ের মানুষ। কুয়াশার কারণে সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। কনকনে শীত উপেক্ষা করে রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও কৃষি শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে বের হলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত আয়। স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য। শীত থেকে বাঁচতে চরাঞ্চলের মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নিতে দেখা গেছে।
শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। জেলা সদরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু ও বয়স্ক রোগীর ভিড় বাড়ছে। এদিকে মৃত্যুর সংবাদে আতংকও বাড়ছে।
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরুহয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দের পরিমাণ অত্যন্ত কম। বিশেষ করে চরাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষরা এখনো পর্যাপ্ত সহায়তা পাননি বলে জানিয়েছেন।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২২ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং আরো চাহিদা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণউন্নয়ন কেন্দ্রের পক্ষ থেকেই শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। এই সংস্থাটির পক্ষ থেকে ১ হাজার নারী পুরুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্্ সালাম।
সরকারি-বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন এই অঞ্চলের শীতার্ত মানুষজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে গাইবান্ধা: বিপর্যস্ত জনজীবন

Update Time : ১১:২৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

আফতাব হোসেন:
উত্তরের জেলা গাইবান্ধায় জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। জেলাজুড়ে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় এ অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতজনিত কারণে গত ২৪ ঘন্টায় গাইবান্ধা জেলায় শিশু ও বৃদ্ধসহ ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টায় গাইবান্ধা জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলাজুড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে এবং এই অবস্থা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে এই জনপদে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকায় দুপুর পর্যন্ত সূর্যের আলো মাটিতে পৌঁছাতে পারছে না। এর সাথে উত্তর দিক থেকে আসা হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জেলার চরাঞ্চল ও নিম্ন আয়ের মানুষ। কুয়াশার কারণে সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। কনকনে শীত উপেক্ষা করে রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও কৃষি শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে বের হলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত আয়। স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য। শীত থেকে বাঁচতে চরাঞ্চলের মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নিতে দেখা গেছে।
শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। জেলা সদরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু ও বয়স্ক রোগীর ভিড় বাড়ছে। এদিকে মৃত্যুর সংবাদে আতংকও বাড়ছে।
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরুহয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দের পরিমাণ অত্যন্ত কম। বিশেষ করে চরাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষরা এখনো পর্যাপ্ত সহায়তা পাননি বলে জানিয়েছেন।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২২ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং আরো চাহিদা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণউন্নয়ন কেন্দ্রের পক্ষ থেকেই শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। এই সংস্থাটির পক্ষ থেকে ১ হাজার নারী পুরুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্্ সালাম।
সরকারি-বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন এই অঞ্চলের শীতার্ত মানুষজন।