Dhaka ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
জাভা সাগরে উল্টে গেল যাত্রীবাহী জাহাজ, ৬ জনের মৃত্যু—নিখোঁজ ১৩০ গাইবান্ধায় সংঘাত সংবেদনশীলতা ও দ্বন্দ্ব নিরসনে চার দিনের কর্মশালা শুরু ঢাকা-রংপুর লংমার্চ: পলাশবাড়ীর পথসভা সফল করতে গাইবান্ধায় প্রস্তুতি সভা বাণিজ্য মেলাকে ঘিরে এনসিপির প্রস্তাবকে আমলে নিচ্ছে গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সাথে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মত বিনিময় উত্তরসংযোগ: নদীর দুই পাড় আর একটি অপেক্ষার গল্প গাইবান্ধায় মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ কমিটির সমন্বয় সভা গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ও মেয়ে আহত ১০ মাস বিচারকহীন সাদুল্লাপুর সহকারী জজ আদালত, ঝুলে আছে প্রায় ৪ হাজার মামলা ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের সিনেমার বড় অর্জন

সড়ক নয় যেন মরণফাঁদ: রোড আইডি জটিলতায় ১৮ বছরেও হয়নি সংস্কার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭৬ Time View

সাঘাটা, (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:

রোড আইডি না থাকার অজুহাতে দীর্ঘ ১৮ বছরেও সংস্কার হয়নি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পশ্চিমবাটি সড়কটির। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পিচ উঠে যাওয়ার পাশাপাশি দুই পাশের মাটি ধসে গিয়ে বিলীন হতে বসেছে মূল সড়কের অস্তিত্ব। সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে রোড আইডি সংশোধন ও সংস্কারের দাবিতে গ্রামবাসী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কোনো সুরাহা মেলেনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের ভাঙাব্রিজ–দুর্গাপুর সড়কের অধিকাংশ স্থানের পিচ উঠে খানাখন্দে রূপ নিয়েছে। অনেক জায়গায় সড়কের পাশের মাটি সরে গিয়ে অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

পশ্চিমবাটি এলাকার বাসিন্দারা জানান, ২০০৭ সালে সড়কটি পাকাকরণের পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। দীর্ঘ ১৮ বছর সংস্কারহীন থাকায় বর্তমানে সড়কটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে যানবাহন ও পথচারী চলাচলসহ কৃষিপণ্য বাজারে আনা-নেওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। সড়কটি দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডিতে একাধিকবার জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

সড়কটির আনিছুরের চাতাল, মওলার বাড়ি ও পল্টনের দোকান সংলগ্ন এলাকাসহ অন্তত ১৫টি পয়েন্টে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল মিয়া, রফিকুল ইসলাম ও ফারুকুল ইসলাম জানান, বেহাল এই সড়কে চলতে গিয়ে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ওই এলাকার কৃষক মজিবর রহমান বলেন, “এলাকার একমাত্র সড়কটির এমন দশা হয়েছে যে, এখন স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।” একই এলাকার পথচারী পল্টন মিয়া জানান, গর্ত ও ভাঙনের কারণে প্রায়ই পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

সাঘাটা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি পাকাকরণের সময় নির্ধারিত রোড আইডি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। মূলত প্রাতিষ্ঠানিক আইডি সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই এতদিন এর কোনো সংস্কার বরাদ্দ মেলেনি।

এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী নয়ন রায় জানান, কোনো একটি প্রাতিষ্ঠানিক বা কারিগরি ত্রুটির কারণে সড়কটির আইডি সংশোধিত হয়নি। তবে সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নতুন করে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে; অনুমোদন পেলেই সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জাভা সাগরে উল্টে গেল যাত্রীবাহী জাহাজ, ৬ জনের মৃত্যু—নিখোঁজ ১৩০

সড়ক নয় যেন মরণফাঁদ: রোড আইডি জটিলতায় ১৮ বছরেও হয়নি সংস্কার

Update Time : ০২:৫৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

সাঘাটা, (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:

রোড আইডি না থাকার অজুহাতে দীর্ঘ ১৮ বছরেও সংস্কার হয়নি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পশ্চিমবাটি সড়কটির। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পিচ উঠে যাওয়ার পাশাপাশি দুই পাশের মাটি ধসে গিয়ে বিলীন হতে বসেছে মূল সড়কের অস্তিত্ব। সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে রোড আইডি সংশোধন ও সংস্কারের দাবিতে গ্রামবাসী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কোনো সুরাহা মেলেনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের ভাঙাব্রিজ–দুর্গাপুর সড়কের অধিকাংশ স্থানের পিচ উঠে খানাখন্দে রূপ নিয়েছে। অনেক জায়গায় সড়কের পাশের মাটি সরে গিয়ে অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

পশ্চিমবাটি এলাকার বাসিন্দারা জানান, ২০০৭ সালে সড়কটি পাকাকরণের পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। দীর্ঘ ১৮ বছর সংস্কারহীন থাকায় বর্তমানে সড়কটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে যানবাহন ও পথচারী চলাচলসহ কৃষিপণ্য বাজারে আনা-নেওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। সড়কটি দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডিতে একাধিকবার জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

সড়কটির আনিছুরের চাতাল, মওলার বাড়ি ও পল্টনের দোকান সংলগ্ন এলাকাসহ অন্তত ১৫টি পয়েন্টে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল মিয়া, রফিকুল ইসলাম ও ফারুকুল ইসলাম জানান, বেহাল এই সড়কে চলতে গিয়ে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ওই এলাকার কৃষক মজিবর রহমান বলেন, “এলাকার একমাত্র সড়কটির এমন দশা হয়েছে যে, এখন স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।” একই এলাকার পথচারী পল্টন মিয়া জানান, গর্ত ও ভাঙনের কারণে প্রায়ই পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

সাঘাটা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি পাকাকরণের সময় নির্ধারিত রোড আইডি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। মূলত প্রাতিষ্ঠানিক আইডি সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই এতদিন এর কোনো সংস্কার বরাদ্দ মেলেনি।

এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী নয়ন রায় জানান, কোনো একটি প্রাতিষ্ঠানিক বা কারিগরি ত্রুটির কারণে সড়কটির আইডি সংশোধিত হয়নি। তবে সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নতুন করে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে; অনুমোদন পেলেই সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।