
আফতাব হোসেনঃ তিল প্রাচীন কাল থেকেই জনপ্রিয় তেল বীজ জাতীয় একটি ফসল। কিন্তু এর ফলন কম এবং তেমন লাভজনক ফসল না হওয়ায় ধীরে ধীওে তিল চাষ প্রায় ছেড়েই দিয়ে ছিলো কৃষক। কিন্তু সম্প্রতি গবেষণায় উচ্চ ফলশীল জাত উদ্ভাবিত হওয়ায় বর্তমানে তিল চাষে বেশ আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকেলা। গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চলে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউটের উদ্ভাবিত জাত বারি তিল-৪ ও ৬ এর এর চাষে ব্যাপক ফলন পেয়েছেন।স্বল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় নতুন জাতের এ তিল চাষের প্রতি কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
গাইবান্ধা সরেজমিন গবেষণা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার যমুনা নদী বেষ্টিত চর গাড়ামারা,পাতিলবাড়ি,গুয়াবাড়ি,কানাইপাড়া,নলছিয়া,গোবিন্দপুর,হলদিয়া,দীঘলকান্দিসহ বিভিন্ন চরে অন্তত ৩ শত বিঘা জমিতে এবার বারি তিল-৪ ও বারি তিল ৬ এর চাষ হয়েছে। প্রতিবিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা । বিঘাপ্রতি ৬ থেকে ৮ মণ করে ফলন হচ্ছে। আর প্রতিমণ তিল বাজারে মূল্য ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে কৃষক ।
পরিত্যক্ত জমিতেও এই তিলের চাষ করা যায়। তিল চাষে সার, সেচ দু‘বার এবং কীটনাশক মাত্র একবার দিলেই ফসল ঘরে তোলা যায়। যা অন্য যে কোনো ফসলের তুলনায় খরচও অনেক কম। গুয়াবাড়ী চরের চাষী হাবিবুর রহমান বলেন , এর আগে তিল চাষ করে তেমন লাভ হয়নি। তাই তিল চাষের চিন্তা ছেড়েই দিয়ে ছিলাম। কিন্তু বর্তমানে গাইবান্ধা কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউটের উদ্ভাবিত জাত বারি তিল-৪ ও ৬ এর বীজ নিয়ে গত বার বেশ ভালোই ফলন হয়েছে। এবার আরও বেশি জমিতে তিল চাষ করেছি। গারামাড়া চরের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ও হলদিয়া চরের কৃষক আতাউর রহমান জানান,বারি -৪ ও ৬ তিল অন্য জাতের তুলনায় ফলন অনেক বেশী খরচও কম। তাই তারা বারি-৪ ও ৬ জাতের তিল চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে এবার তিল চাষ করেছেন।
গাইবান্ধা সরেজমিন বিভাগ এর বারি বৈজ্ঞানিক সহকারী হারুন-অর-রশিদ জানান, ফসল উৎপাদনের অধিক ফলন পেতে হলে উপযোগী জমি নির্ধারণ, সঠিক সময় উন্নত বীজ বপন, নিয়মিত ফসলের পরিচর্জা, পরিমানমত সার,সেচ প্রয়োগ থাকতে হবে। স্বল্প খরচে বালু যুক্ত ও পরিত্যাক্ত জমিতেও এই তিল চাষ করা যায়। বারি গাইবান্ধা সরেজমিন বিভাগ এর উদ্ধর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.জাহাঙ্গীর আলম জানান, বারি তিল-৪ ও ৬ উচ্চ ফলনশীল তিল। এটি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউটের উদ্ভাবিত জাত। এই জাতের তিল অন্য তিলের তুলনায় ফলন অনেক বেশি। এই তিল চাষ করে কৃষকের সফলতা অর্জন করা সম্ভব। তাই উচ্চ ফলনশীল বারি-৪ ও বারি তিল -৬ চাষে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

Reporter Name 






















