
শুক্রবার (৩ জুলাই) জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ ঘাট দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়ন কমিটি’ আয়োজিত এক ঐতিহাসিক যৌথ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সুসংবাদ দেন।
এর আগে সকালে গাইবান্ধার ফুলছড়ি ক্রসবাঁধ এলাকা থেকে নদীপথে রওনা হয়ে বাস্তবায়ন কমিটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দেওয়ানগঞ্জে পৌঁছালে সেখানে এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সভার শুরুতে প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রীকে পুষ্পস্তবক দিয়ে বরণ করে নেন তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ ঘাট দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়ন কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ও গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন নবী টিটুল এবং সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান (বাবু)।
মতবিনিময় সভায় প্রস্তাবিত সেতুর পাশে চরাঞ্চলে একটি আধুনিক কৃষিভিত্তিক ইপিজেড গড়ে তোলারও যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়। একই সাথে চরের বুকে উৎপাদিত খাঁটি কৃষিপণ্যের একটি বিশেষ উপহারসামগ্রী প্রতিমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি বলেন, “ভৌগোলিক ও কারিগরিভাবে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের জন্য তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ ঘাট রুটটি সবচেয়ে যথোপযুক্ত এবং সাশ্রয়ী। চরাঞ্চলের কোটি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং ঢাকার সাথে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।” এই আন্দোলনকে চরাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকারের আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
মতবিনিময় সভা শেষে যমুনার দুই পাড়ের (গাইবান্ধা ও দেওয়ানগঞ্জ) মানুষের অধিকার আদায়ে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে উভয় পক্ষ একটি ঐতিহাসিক ‘সমঝোতা স্মারক ও অঙ্গীকারনামা’-য় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন।
উক্ত যৌথ মতবিনিময় সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দুই প্রান্তের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ১৩টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, বণিক সমিতির প্রতিনিধিবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, সমাজকর্মী, এনজিও প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। সভা শেষে নেতৃবৃন্দ চরের মানুষের ভাগ্যবদল ও দেশনায়ক তারেক রহমানের স্বপ্নের এই মেগা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে রাজপথে অনড় থাকার যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

Reporter Name 

















