Dhaka ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, বিক্ষোভে অবরুদ্ধ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কাঁচ দিয়ে আঘাত, থানায় মামলা চিলমারীর এক ইউনিয়নেই প্রায় কোটি টাকা লোপাট: ইউএনও’র কাছে এলাকাবাসীর অভিযোগ কারখানার রাস্তা বন্ধ করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ফেসবুকে অপপ্রচারের প্রতিবাদে নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থার নিন্দা সুন্দরগঞ্জে ক্লাস ফেলে সমাবেশ-মানববন্ধন, দিনভর প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ গাইবান্ধায় আরসিসি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন সাপের দংশনে সাপুড়ের মৃত্যু চালের বাজারে অস্থিরতা: নওগাঁর দুই অটো রাইস মিলে ভোক্তার অভিযান ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানল: সরিয়ে নেয়া হয়েছে ৬০ হাজার মানুষকে, পুড়ে গেছে ৬শ’ স্থাপনা

চিলমারীর এক ইউনিয়নেই প্রায় কোটি টাকা লোপাট: ইউএনও’র কাছে এলাকাবাসীর অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৭ Time View

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাবিখা, কাবিটা ও টেস্ট রিলিফ(টিআর) প্রকল্পের আওতায় নেয়া হয়েছে শতাধিক প্রকল্প। কাগজে-কলমে অধিকাংশ কাজ শেষ, বিলও পরিশোধ হয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে খোঁজ নিতে গিয়ে মিলেছে ভিন্ন চিত্র। কোথাও রাস্তা আগের অবস্থাতেই পড়ে আছে, কোথাও পাকা রাস্তা কিংবা অন্য প্রকল্পের উপরে দেয়া হয়েছে নতুন প্রকল্প, কবরস্থানসহ অনেক প্রকল্পে সংস্কারের কোনো চিহ্ন নেই।

প্রকল্পের কাজ না হওয়ার বিষয়ে থানাহাট ইউনিয়নের বজরা তবকপুর এলাকার অর্ধশত বাসিন্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের সূত্র ধরে সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে প্রকল্প বাস্তবায়নের আড়ালে ভয়াবহ অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের চিত্র। উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে উপজেলার ৬ ইউনিয়নে ১ম ও ২য় মিলে টিআর, কাবিখা ও কাবিটায় মোট ১শ’ ২৪ প্রকল্পে বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এরমধ্যে থানাহাট ইউনিয়নে কাবিখা প্রকল্পে ১ম ও ২য় পর‌্যায়ে ৯ প্রকল্পে মোট ৪৯দশমিক ৩হাজার ১শ’ ৯৮মেট্রিক টন খাদ্য যার বর্তমান বাজারদর প্রতি টন ৩৬ হাজার টাকা দরে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। কাবিটা ১ম ও ২য় পর্যায়ে ১৭ প্রকল্পে মোট ৪৫ লাখ ৯৫হাজার ৮শ’ ৮৯ টাকা এবং টিআর ১ম ও ২য় পর্যায়ে ১৮ প্রকল্পে ২৮ লাখ  ৯৬হাজার ৪শ’ ৪৮টাকা। সবমিলে ইউনিয়নটিতে মোট ৪৪টি প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৯৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

এসব প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ সড়ক, কবরস্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অবকাঠামো সংস্কারের কথা ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, টিআর ১ম পর‌্যায়ে তালিকায় থাকা বজরাতবকপুর চৌধুরীপাড়া ইউসুফ আলী মুক্তিযোদ্ধার বাড়ী হতে মৃত নগেন সরকারের বাড়ী সংলগ্ন কালিরপাঠ মন্দির পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ ১ লাখ ২০হাজার টাকা এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বজরা তবকপুর ইউছুব মিলিটারীর বাড়ী হতে
আহম্মেদ আলী মিলিটারীর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ ১ লাখ ২০হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রকল্প দুটির শুরু একই স্থান থেকে হলেও কায়দা করে নামের ভিন্নতা দেখানো হয়েছে। বাস্তবে ওই প্রকল্প দু’টির কোনো কাজই করা হয়নি। এ প্রকল্প দু’টির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে গত ২৭ জুলাই এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের পেক্ষিতে জানা যায়, এক ইউনিয়নে নামে বেনামে ৪৪টি প্রকল্পের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দু’একটি প্রকল্পে নামেমাত্র কাজ করে সমুদয় টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বজরা তবকপুর মজাইডাঙ্গা জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে মাটি ভরাট ও উন্নয়ন প্রকল্পে ৫ লাখ ৭০ হাজার ৫শ’ ২৪টাকা বরাদ্দ দেখানো হলেও বাস্তবে প্রকল্প স্থলে কোনো কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

মজাইডাঙা আজমের বাড়ী হইতে আইয়ুবের বাড়ীমুখী রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ ৫ মে. টন গম বরাদ্দ দেয়া হলেও বাস্তবে সেখানে আগের প্রকল্পে করা সিসি ঢালাইকৃত রাস্তাকে উপস্থাপন করা হয়েছে। বজরাত বকপুর চৌধুরীপাড়া ইউসুফ আলী মুক্তিযোদ্ধার বাড়ী হতে মৃত নগেন সরকারের বাড়ী সংলগ্ন
কালিরপাঠ মন্দির পর্যন্ত রাস্ত সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা এবং ৩নং ওয়ার্ডের বজরা তবকপুর ইউছুব মিলিটারীর বাড়ী হতে আহম্মেদ আলী মিলিটারীর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ ১ লক্ষ ২০হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাস্তবে ওই প্রকল্প দুটির কোনো কাজই করা হয়নি।

এলাকাবাসী কৃষ্ণ চন্দ্র, হরিশচন্দ্র, বজলার রহমান ও তানিয়াসহ অনেকে জানান, বর্ষা আসলে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অথচ একই রাস্তায় দুটি প্রকল্প দেয়া হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এলাকাবাসীর দূর্ভোগ লাঘবে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানান তারা।

ইউনিয়নটির ৯ নং ওয়ার্ড মাচাবান্দা এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, মধ্য মাচাবান্দা মেইন রাস্তা থেকে প্রিন্সের বাড়ী পর্যস্ত রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ ২ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হলেও বাস্তবে সেখানে রাস্তার কোনো অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি। প্রিন্সের বাড়ীতে যাওয়ার জন্য মানুষের উঠান ব্যবহার করা হচ্ছে। মাচাবান্দা কালামের চাতাল মেইন রোড হতে ডিপঘর পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি।স্থানীয় হামিদুল ইসলাম ও জয়নাল হক জানান, পূর্ববর্তী ইউপি সদস্যের আমলে মাটি কাটা হলেও বেহাল সড়কটিতে আর উন্নয়ন হয়নি।

মাচাবান্দা প্রমানিক পাড়া সুরুজের বাড়ী হইতে পূর্ব দিকে কাশেম হাজির বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও কাশেম হাজীর বাড়ী সংলগ্ন পুকুরপাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ বাবদ ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার ৫শ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সরেজমিনে সেখানে পুকুরে গাইড ওয়ালের স্থলে পুরোনো ডেউটিন ও বাঁশ দিয়ে কোনো রকমে গাইড ওয়াল বানানো হলেও সেখানে কোনো মাটি ফেলা হয়নি।

৮নং ওয়ার্ডের ছোট কুষ্টারী আব্দুল বারী সরকারের বাড়ি হতে পূর্ব উত্তর দিকে উমর হাজির বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার ৫শ’ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে আগে থেকেই এইচবিবি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। একই স্থানকে কাবিটা প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়াও মন্ডলপাড়া পাকা রাস্তাা থেকে আব্দুল কাইয়ুমের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ২ লক্ষ ৯ হাজার ১শ’ টাকা এবং একই সড়ককে ভিন্ন নামে দেখিয়ে অর্থাৎ টিএমএসএস অফিসের পাশ দিয়ে কুষ্টারী আবুল হোসেনের বাড়ীমুখী রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি আগে থেকেই সিসি ঢালাই থাকায় নতুন কোনো কাজ হয়নি।

একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ইউনিয়নটিতে নেয়া অধিকাংশ প্রকল্পের ক্ষেত্রে। এদিকে প্রকল্পের নামসহ তালিকা চাওয়া হলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের কর্মচারীরা জানান, কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া তা দেওয়া সম্ভব নয়। অথচ অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে কার্যালয়ে অনুপস্থিত। এমনকি তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সোহেল রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ধরণের ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই যাচাই-বাছা্ই করে দেখবো।

জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান বলেন, আমি ফিল্ডে আছি অফিসে ফিরে বিস্তারিত তথ্য জেনে আপনাদের জানাবো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, বিক্ষোভে অবরুদ্ধ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

চিলমারীর এক ইউনিয়নেই প্রায় কোটি টাকা লোপাট: ইউএনও’র কাছে এলাকাবাসীর অভিযোগ

Update Time : ০৬:১৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাবিখা, কাবিটা ও টেস্ট রিলিফ(টিআর) প্রকল্পের আওতায় নেয়া হয়েছে শতাধিক প্রকল্প। কাগজে-কলমে অধিকাংশ কাজ শেষ, বিলও পরিশোধ হয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে খোঁজ নিতে গিয়ে মিলেছে ভিন্ন চিত্র। কোথাও রাস্তা আগের অবস্থাতেই পড়ে আছে, কোথাও পাকা রাস্তা কিংবা অন্য প্রকল্পের উপরে দেয়া হয়েছে নতুন প্রকল্প, কবরস্থানসহ অনেক প্রকল্পে সংস্কারের কোনো চিহ্ন নেই।

প্রকল্পের কাজ না হওয়ার বিষয়ে থানাহাট ইউনিয়নের বজরা তবকপুর এলাকার অর্ধশত বাসিন্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের সূত্র ধরে সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে প্রকল্প বাস্তবায়নের আড়ালে ভয়াবহ অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের চিত্র। উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে উপজেলার ৬ ইউনিয়নে ১ম ও ২য় মিলে টিআর, কাবিখা ও কাবিটায় মোট ১শ’ ২৪ প্রকল্পে বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এরমধ্যে থানাহাট ইউনিয়নে কাবিখা প্রকল্পে ১ম ও ২য় পর‌্যায়ে ৯ প্রকল্পে মোট ৪৯দশমিক ৩হাজার ১শ’ ৯৮মেট্রিক টন খাদ্য যার বর্তমান বাজারদর প্রতি টন ৩৬ হাজার টাকা দরে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। কাবিটা ১ম ও ২য় পর্যায়ে ১৭ প্রকল্পে মোট ৪৫ লাখ ৯৫হাজার ৮শ’ ৮৯ টাকা এবং টিআর ১ম ও ২য় পর্যায়ে ১৮ প্রকল্পে ২৮ লাখ  ৯৬হাজার ৪শ’ ৪৮টাকা। সবমিলে ইউনিয়নটিতে মোট ৪৪টি প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৯৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

এসব প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ সড়ক, কবরস্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অবকাঠামো সংস্কারের কথা ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, টিআর ১ম পর‌্যায়ে তালিকায় থাকা বজরাতবকপুর চৌধুরীপাড়া ইউসুফ আলী মুক্তিযোদ্ধার বাড়ী হতে মৃত নগেন সরকারের বাড়ী সংলগ্ন কালিরপাঠ মন্দির পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ ১ লাখ ২০হাজার টাকা এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বজরা তবকপুর ইউছুব মিলিটারীর বাড়ী হতে
আহম্মেদ আলী মিলিটারীর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ ১ লাখ ২০হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রকল্প দুটির শুরু একই স্থান থেকে হলেও কায়দা করে নামের ভিন্নতা দেখানো হয়েছে। বাস্তবে ওই প্রকল্প দু’টির কোনো কাজই করা হয়নি। এ প্রকল্প দু’টির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে গত ২৭ জুলাই এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের পেক্ষিতে জানা যায়, এক ইউনিয়নে নামে বেনামে ৪৪টি প্রকল্পের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দু’একটি প্রকল্পে নামেমাত্র কাজ করে সমুদয় টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বজরা তবকপুর মজাইডাঙ্গা জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে মাটি ভরাট ও উন্নয়ন প্রকল্পে ৫ লাখ ৭০ হাজার ৫শ’ ২৪টাকা বরাদ্দ দেখানো হলেও বাস্তবে প্রকল্প স্থলে কোনো কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

মজাইডাঙা আজমের বাড়ী হইতে আইয়ুবের বাড়ীমুখী রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ ৫ মে. টন গম বরাদ্দ দেয়া হলেও বাস্তবে সেখানে আগের প্রকল্পে করা সিসি ঢালাইকৃত রাস্তাকে উপস্থাপন করা হয়েছে। বজরাত বকপুর চৌধুরীপাড়া ইউসুফ আলী মুক্তিযোদ্ধার বাড়ী হতে মৃত নগেন সরকারের বাড়ী সংলগ্ন
কালিরপাঠ মন্দির পর্যন্ত রাস্ত সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা এবং ৩নং ওয়ার্ডের বজরা তবকপুর ইউছুব মিলিটারীর বাড়ী হতে আহম্মেদ আলী মিলিটারীর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ ১ লক্ষ ২০হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাস্তবে ওই প্রকল্প দুটির কোনো কাজই করা হয়নি।

এলাকাবাসী কৃষ্ণ চন্দ্র, হরিশচন্দ্র, বজলার রহমান ও তানিয়াসহ অনেকে জানান, বর্ষা আসলে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অথচ একই রাস্তায় দুটি প্রকল্প দেয়া হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এলাকাবাসীর দূর্ভোগ লাঘবে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানান তারা।

ইউনিয়নটির ৯ নং ওয়ার্ড মাচাবান্দা এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, মধ্য মাচাবান্দা মেইন রাস্তা থেকে প্রিন্সের বাড়ী পর্যস্ত রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ ২ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হলেও বাস্তবে সেখানে রাস্তার কোনো অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি। প্রিন্সের বাড়ীতে যাওয়ার জন্য মানুষের উঠান ব্যবহার করা হচ্ছে। মাচাবান্দা কালামের চাতাল মেইন রোড হতে ডিপঘর পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি।স্থানীয় হামিদুল ইসলাম ও জয়নাল হক জানান, পূর্ববর্তী ইউপি সদস্যের আমলে মাটি কাটা হলেও বেহাল সড়কটিতে আর উন্নয়ন হয়নি।

মাচাবান্দা প্রমানিক পাড়া সুরুজের বাড়ী হইতে পূর্ব দিকে কাশেম হাজির বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও কাশেম হাজীর বাড়ী সংলগ্ন পুকুরপাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ বাবদ ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার ৫শ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সরেজমিনে সেখানে পুকুরে গাইড ওয়ালের স্থলে পুরোনো ডেউটিন ও বাঁশ দিয়ে কোনো রকমে গাইড ওয়াল বানানো হলেও সেখানে কোনো মাটি ফেলা হয়নি।

৮নং ওয়ার্ডের ছোট কুষ্টারী আব্দুল বারী সরকারের বাড়ি হতে পূর্ব উত্তর দিকে উমর হাজির বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার ৫শ’ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে আগে থেকেই এইচবিবি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। একই স্থানকে কাবিটা প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়াও মন্ডলপাড়া পাকা রাস্তাা থেকে আব্দুল কাইয়ুমের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ২ লক্ষ ৯ হাজার ১শ’ টাকা এবং একই সড়ককে ভিন্ন নামে দেখিয়ে অর্থাৎ টিএমএসএস অফিসের পাশ দিয়ে কুষ্টারী আবুল হোসেনের বাড়ীমুখী রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি আগে থেকেই সিসি ঢালাই থাকায় নতুন কোনো কাজ হয়নি।

একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ইউনিয়নটিতে নেয়া অধিকাংশ প্রকল্পের ক্ষেত্রে। এদিকে প্রকল্পের নামসহ তালিকা চাওয়া হলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের কর্মচারীরা জানান, কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া তা দেওয়া সম্ভব নয়। অথচ অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে কার্যালয়ে অনুপস্থিত। এমনকি তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সোহেল রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ধরণের ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই যাচাই-বাছা্ই করে দেখবো।

জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান বলেন, আমি ফিল্ডে আছি অফিসে ফিরে বিস্তারিত তথ্য জেনে আপনাদের জানাবো।