Dhaka ১১:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গোবিন্দগঞ্জে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভবন উদ্বোধন করলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নে ফ্রেন্ডশিপের উদ্যোগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সাদুল্লাপুর শিক্ষক-কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়নের নির্বাচনে হারুন চেয়ারম্যান, শহিদুল সেক্রেটারি নির্বাচিত রৌমারীতে দেড় লাখ টাকাসহ ১৪ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার অবৈধভাবে রাসায়নিক সার বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির মতবিনিময় সভা আমেরিকায় গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন: চাকরি থাকলেও যাচাই হবে সামগ্রিক আর্থিক অবস্থা গাইবান্ধায় শিক্ষা দিবসে ছাত্র ইউনিয়নের মিছিল ও সমাবেশ নটর ডেম কলেজে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের গ্রীন ফিল্ড কলেজের অধ্যক্ষের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ সাঘাটায় বসতবাড়িতে ৪ হাজার ৬০০ চারা বিতরণ

নবজাতক বেচাকেনার ফাঁদ! হাসপাতালে সক্রিয় শিশু পাচার চক্র

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • ১২১ Time View

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া নবজাতক কন্যাকে মায়ের জ্ঞান ফেরার আগেই পাচারের চেষ্টা—এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে। হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়ের তৎপরতায় শেষ রক্ষা হয়েছে শিশুটির।

গত ২৭শে মে সদর উপজেলার শেরপুর এলাকার নাদামপুর গ্রামের ঝুমি আক্তার (২৫) হাসপাতালে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। অভিযোগ, জ্ঞান ফেরার আগেই একই এলাকার আখলিছ মিয়া নামে এক ব্যক্তি নবজাতককে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান। পরে ওয়ার্ডবয় প্রাণ কৃষ্ণের হস্তক্ষেপে শিশুটিকে ফিরিয়ে আনা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, চিকিৎসা খরচ বাবদ ঝুমির মা সাফারুন বেগম ১০ হাজার টাকা নেওয়ার পর থেকেই নবজাতককে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার প্ররোচনা শুরু হয়। ঘটনাস্থলে আখলিছ মিয়ার স্ত্রীকেও শিশু নিতে অবস্থান করতে দেখা যায়। ওয়ার্ডবয়ের সামনে তিনি টাকা দেওয়া ও শিশু নেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

শিশু বা মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনাবেচা যে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ—এ কথা বুঝিয়ে দেওয়ার পর আখলিছ মিয়ার স্ত্রী ও তার সঙ্গী সেখান থেকে চলে যান।

স্বামী, মা-ভাইয়ের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত ঝুমি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি আমার বাচ্চাকে বিক্রি করব না। আমি শুধু আমার সন্তানের স্বীকৃতি চাই। আমি এখন কোথায় যাব?”

হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটির বিভাগীয় প্রধান ছালেহ আহমদ সেলিম জানান, শিশু বেচাকেনা গুরুতর অপরাধ। ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে সামাজিক কাউন্সেলিং ও আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

বর্তমানে মা ও নবজাতক সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গোবিন্দগঞ্জে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভবন উদ্বোধন করলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

নবজাতক বেচাকেনার ফাঁদ! হাসপাতালে সক্রিয় শিশু পাচার চক্র

Update Time : ১১:৫৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া নবজাতক কন্যাকে মায়ের জ্ঞান ফেরার আগেই পাচারের চেষ্টা—এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে। হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়ের তৎপরতায় শেষ রক্ষা হয়েছে শিশুটির।

গত ২৭শে মে সদর উপজেলার শেরপুর এলাকার নাদামপুর গ্রামের ঝুমি আক্তার (২৫) হাসপাতালে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। অভিযোগ, জ্ঞান ফেরার আগেই একই এলাকার আখলিছ মিয়া নামে এক ব্যক্তি নবজাতককে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান। পরে ওয়ার্ডবয় প্রাণ কৃষ্ণের হস্তক্ষেপে শিশুটিকে ফিরিয়ে আনা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, চিকিৎসা খরচ বাবদ ঝুমির মা সাফারুন বেগম ১০ হাজার টাকা নেওয়ার পর থেকেই নবজাতককে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার প্ররোচনা শুরু হয়। ঘটনাস্থলে আখলিছ মিয়ার স্ত্রীকেও শিশু নিতে অবস্থান করতে দেখা যায়। ওয়ার্ডবয়ের সামনে তিনি টাকা দেওয়া ও শিশু নেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

শিশু বা মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনাবেচা যে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ—এ কথা বুঝিয়ে দেওয়ার পর আখলিছ মিয়ার স্ত্রী ও তার সঙ্গী সেখান থেকে চলে যান।

স্বামী, মা-ভাইয়ের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত ঝুমি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি আমার বাচ্চাকে বিক্রি করব না। আমি শুধু আমার সন্তানের স্বীকৃতি চাই। আমি এখন কোথায় যাব?”

হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটির বিভাগীয় প্রধান ছালেহ আহমদ সেলিম জানান, শিশু বেচাকেনা গুরুতর অপরাধ। ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে সামাজিক কাউন্সেলিং ও আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

বর্তমানে মা ও নবজাতক সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।