Dhaka ১০:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কুপি-হারিকেনের আলোয় পীরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী পুঁথি পাঠের আসর মহিমাগঞ্জে ‘মব সৃষ্টি করে’ অধ্যক্ষকে পদচ্যুতির প্রতিবাদ ও পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ গণ উন্নয়ন কেন্দ্রে ‘আর্ন-নিট’ প্রকল্পের কর্মীদের ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত নওগাঁয় ৮ ঘণ্টায় ছিনতাইয়ের রহস্য উদ্‌ঘাটন, কৃষক দলের নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩ গাজীপুরে পোশাকশ্রমিক আন্দোলন: গোবিন্দগঞ্জে নিহত তৌফিকের দাফন সম্পন্ন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন সুন্দরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, জরিমানা সুন্দরগঞ্জে জমি দখলে নিতে বিধবার কাঁচা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিকের হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক: আর্থিক লেনদেন না করার অনুরোধ নওগাঁ কারা হেফাজতে বগুড়ার আওয়ামী লীগ নেতার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারে ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৪:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০৯ Time View

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা: দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।এতে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে জেলার চারটি নদ-নদীতে বেড়েছে পানি।

জেলার জুড়ী নদে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া কুশিয়ারা, মনু ও ধলাই নদেও পানি বেড়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলার রাজনগর উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নে পূর্ব নন্দীউড়া ও ভুজবল গ্রামে উদনা নদী-সংলগ্ন এলকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে আশপাশের বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা মুন্সীবাজার, আদমপুর ও পতনঊষার ইউনিয়ন এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় তলিয়ে গেছে বেশ কিছু ঘরবাড়ি। একইভাবে কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সবমিলিয়ে জেলায় প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যায়।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউব) সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীতে পানি বৃদ্ধি পায়। জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও এখন নিচ দিয়ে প্রভাহিত হচ্ছে। মনু ও ধলাই নদীর ছয়টি প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুকিপূর্ণ। ভারতে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে বন্যা হতে পারে।

কমলগঞ্জের মুন্সীবাজার ইউনিয়নের পানিবন্দি কাওছার আহমেদ, নজরুল আহমেদ বলেন, দুই দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে আমাদের রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে এবং বাড়িতে পানি উঠে গেছে। আমাদের বোরো ধান সব তলিয়ে গেছে। টানা তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। সব মিলিয়ে মহা কষ্টের মধ্যে আছি।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, জেলার প্রধান চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি সবসময় পর্যবেক্ষণে রাখছি। নদীর পানি দ্রুত কমতে শুরু করেছে। তবে উজানে অতি বৃষ্টি হলে বন্যা হতে পারে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, আমরা সব উপজেলায় বলে দিয়েছি, ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি মানুষের তালিকা করার জন্য। তবে জেলার বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। আমরা চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দের জন্য প্রস্তুত করেছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কুপি-হারিকেনের আলোয় পীরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী পুঁথি পাঠের আসর

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারে ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি

Update Time : ০৩:৪৪:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা: দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।এতে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে জেলার চারটি নদ-নদীতে বেড়েছে পানি।

জেলার জুড়ী নদে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া কুশিয়ারা, মনু ও ধলাই নদেও পানি বেড়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলার রাজনগর উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নে পূর্ব নন্দীউড়া ও ভুজবল গ্রামে উদনা নদী-সংলগ্ন এলকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে আশপাশের বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা মুন্সীবাজার, আদমপুর ও পতনঊষার ইউনিয়ন এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় তলিয়ে গেছে বেশ কিছু ঘরবাড়ি। একইভাবে কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সবমিলিয়ে জেলায় প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যায়।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউব) সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীতে পানি বৃদ্ধি পায়। জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও এখন নিচ দিয়ে প্রভাহিত হচ্ছে। মনু ও ধলাই নদীর ছয়টি প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুকিপূর্ণ। ভারতে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে বন্যা হতে পারে।

কমলগঞ্জের মুন্সীবাজার ইউনিয়নের পানিবন্দি কাওছার আহমেদ, নজরুল আহমেদ বলেন, দুই দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে আমাদের রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে এবং বাড়িতে পানি উঠে গেছে। আমাদের বোরো ধান সব তলিয়ে গেছে। টানা তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। সব মিলিয়ে মহা কষ্টের মধ্যে আছি।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, জেলার প্রধান চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি সবসময় পর্যবেক্ষণে রাখছি। নদীর পানি দ্রুত কমতে শুরু করেছে। তবে উজানে অতি বৃষ্টি হলে বন্যা হতে পারে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, আমরা সব উপজেলায় বলে দিয়েছি, ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি মানুষের তালিকা করার জন্য। তবে জেলার বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। আমরা চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দের জন্য প্রস্তুত করেছি।