Dhaka ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ফুলতলায় ‘দুর্গন্ধ জলাবদ্ধতায় নাজেহাল জনজীবন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩২:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২০২ Time View
চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু, চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
দর্শনা রেলবাজারের ফুলতলা মোড়ে যেন বছরের পর বছর ধরে প্রায়ই সময় জমে থাকে এক অদৃশ্য যন্ত্রণা। কালো, পচা ও তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে এলাকার মানুষ আজ কার্যত নাকাল ও নিস্তেজ। বাজারে আসা মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিক্সা ক্রেতা-বিক্রেতাদের নাকে রুমাল চেপে, কাপড় তুলে সাবধানে পা ফেলে প্রবেশ করতে হয় এ যেন এক দুর্গন্ধের বাজার।
সরেজমিনে গিয়ে  ফুলতলা মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের ওপর ও ড্রেনের মুখে জমে থাকা কালচে, আঠালো ও আবর্জনায় মিশ্রিত পানি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পানির রং প্রায় কয়লার মতো কালো, উপরিভাগে ভাসছে পলিথিন, পচা ময়লা ও পলি। সামান্য অসতর্ক হলেই মোটরসাইকেল বা সাধারণ মানুষ পা পিছলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। পথচারী ও ক্রেতাদের অভিযোগ, এটি শুধু বর্ষা মৌসুমের সমস্যা নয়, বর্ষা হোক বা খরা, প্রায় সারা বছরই এখানে জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে।
বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা একাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন ক্রেতা বলেন, একদিকে পৌরসভা, পাশে দর্শনা থানা, আরেক দিকে দেশের বৃহত্তম চিনি কল কেরু এ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড, তবুও আমাদের এই অবস্থা, আমরা আসলে কোথায় বসবাস করি।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। ড্রেনের ভেতরে ময়লা, পলি ও কঠিন বর্জ্য জমে পানি চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ড্রেন উপচে ফুলতলা এলাকায় রাস্তায় পানি বেরিয়ে আসছে।
এদিকে কেরু কোম্পানির বর্জ্য পানি নির্দিষ্ট নিষ্কাশন লাইনে গিয়ে মাথাভাঙ্গা নদীতে পড়ার কথা থাকলেও একই নেটওয়ার্কের ড্রেনের সঙ্গে বাজার এলাকার ড্রেন সংযুক্ত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। মাছ বাজার, মাংস বাজার ও কাচাবাজারের পচনশীল বর্জ্যও একই ড্রেনে পড়ছে। ফলে ড্রেনের ভেতরে দ্রুত পলি জমে পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানি রাস্তায় উপচে পড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষায়, ড্রেনের ভেতরটা এখন ময়লা আর পলিতে ভরে আছে। পরিষ্কার না করলে এ অবস্থা কাটবে না। দর্শনা কেরুজ ফুলতলা মোড়টি কেরু কোম্পানি এলাকা ও রেলবাজারে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ও কার্যত একমাত্র পথ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। অথচ দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ।
দর্শনা রেলবাজার বাজার দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রতন বলেন, বিষয়টি আমরা অনেক দিন ধরে দেখে আসছি। বিষয়টি পৌরসভার সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্লিনার ডিপার্টমেন্টের আব্দুর রাজ্জাককে অবহিত করেছি। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে অকারণে বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এবার আমরা পৌর প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করব।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, এটি কি শুধুই দুর্বল ড্রেনেজ অবকাঠামোর ফল, নাকি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও তদারকির অভাব? পৌর কর্তৃপক্ষ ও কেরু কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গোবিন্দগঞ্জে বিষাক্ত মদপানে যুবকের মৃত্যু, অসুস্থ ২

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ফুলতলায় ‘দুর্গন্ধ জলাবদ্ধতায় নাজেহাল জনজীবন

Update Time : ০৩:৩২:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু, চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
দর্শনা রেলবাজারের ফুলতলা মোড়ে যেন বছরের পর বছর ধরে প্রায়ই সময় জমে থাকে এক অদৃশ্য যন্ত্রণা। কালো, পচা ও তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে এলাকার মানুষ আজ কার্যত নাকাল ও নিস্তেজ। বাজারে আসা মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিক্সা ক্রেতা-বিক্রেতাদের নাকে রুমাল চেপে, কাপড় তুলে সাবধানে পা ফেলে প্রবেশ করতে হয় এ যেন এক দুর্গন্ধের বাজার।
সরেজমিনে গিয়ে  ফুলতলা মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের ওপর ও ড্রেনের মুখে জমে থাকা কালচে, আঠালো ও আবর্জনায় মিশ্রিত পানি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পানির রং প্রায় কয়লার মতো কালো, উপরিভাগে ভাসছে পলিথিন, পচা ময়লা ও পলি। সামান্য অসতর্ক হলেই মোটরসাইকেল বা সাধারণ মানুষ পা পিছলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। পথচারী ও ক্রেতাদের অভিযোগ, এটি শুধু বর্ষা মৌসুমের সমস্যা নয়, বর্ষা হোক বা খরা, প্রায় সারা বছরই এখানে জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে।
বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা একাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন ক্রেতা বলেন, একদিকে পৌরসভা, পাশে দর্শনা থানা, আরেক দিকে দেশের বৃহত্তম চিনি কল কেরু এ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড, তবুও আমাদের এই অবস্থা, আমরা আসলে কোথায় বসবাস করি।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। ড্রেনের ভেতরে ময়লা, পলি ও কঠিন বর্জ্য জমে পানি চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ড্রেন উপচে ফুলতলা এলাকায় রাস্তায় পানি বেরিয়ে আসছে।
এদিকে কেরু কোম্পানির বর্জ্য পানি নির্দিষ্ট নিষ্কাশন লাইনে গিয়ে মাথাভাঙ্গা নদীতে পড়ার কথা থাকলেও একই নেটওয়ার্কের ড্রেনের সঙ্গে বাজার এলাকার ড্রেন সংযুক্ত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। মাছ বাজার, মাংস বাজার ও কাচাবাজারের পচনশীল বর্জ্যও একই ড্রেনে পড়ছে। ফলে ড্রেনের ভেতরে দ্রুত পলি জমে পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানি রাস্তায় উপচে পড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষায়, ড্রেনের ভেতরটা এখন ময়লা আর পলিতে ভরে আছে। পরিষ্কার না করলে এ অবস্থা কাটবে না। দর্শনা কেরুজ ফুলতলা মোড়টি কেরু কোম্পানি এলাকা ও রেলবাজারে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ও কার্যত একমাত্র পথ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। অথচ দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ।
দর্শনা রেলবাজার বাজার দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রতন বলেন, বিষয়টি আমরা অনেক দিন ধরে দেখে আসছি। বিষয়টি পৌরসভার সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্লিনার ডিপার্টমেন্টের আব্দুর রাজ্জাককে অবহিত করেছি। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে অকারণে বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এবার আমরা পৌর প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করব।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, এটি কি শুধুই দুর্বল ড্রেনেজ অবকাঠামোর ফল, নাকি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও তদারকির অভাব? পৌর কর্তৃপক্ষ ও কেরু কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।