Dhaka ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পত্নীতলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু শ্বশুরবাড়িতে আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জামাইয়ের মৃত্যু  চিলমারীতে হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ডুবে গেছে ৭টি নৌকা সুন্দরগঞ্জে বাড়ির যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন নওগাঁয় বাসের বক্সের ঢাকনার আঘাতে অটোরিকশার ১ যাত্রী নিহত, আহত ২ শিশু   সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বকাপে জিতবে কোন দল? গোবিন্দগঞ্জে এক মানসিক রোগীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে পুড়ছে দেশ, জুনে ২-৩ দফা তাপপ্রবাহের আভাস মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা ইরানের মুক্তিযুদ্ধের সময় নিখোঁজ বাবা: ৫৪ বছর পর বাংলাদেশে জন্মভিটার সন্ধান পেল পাকিস্তানে বেড়ে ওঠা ছেলে

সুন্দরগঞ্জে স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ, একসপ্তাহেও সন্ধান মেলেনি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৩২০ Time View

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের ৬ দিনেও উদ্ধার হয়নি। এ ঘটনায় জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
জানা যায়, গত (রবিবার) ১৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় উপজেলার শোভাগঞ্জ উচ্চ বাদ্যালয় ও ডিগ্রী কলেজ মোড় থেকে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ৯ম শ্রেণীর ঐ ছাত্রীকে অপহরণ করে চক্রটি। অপহৃতা শোভাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর নিয়মিত ছাত্রী। এসময় একই স্কুলের ছাত্রী ও প্রতিবেশী রঞ্জিনা আক্তার (আর্জিনা) তার ছোট ভাই কামরুজ্জামানসহ মোবাইলফোনে মিনিটকার্ড রিচার্জের কথা বলে অপহৃতাকে পড়ার টেবিল থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারা ৩ জনই উক্ত মোড়স্থ মিনি-বিশ্বরোডে উঠলে সেখানে আটোবাইক ও মিশুক গাড়িতে আগে থেকেই ওঁৎপেতে থাকা সংঘবদ্ধচক্রের সদস্য পার্শ্ববর্তী শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সমস গ্রামের আব্দুল ওরফে আঃ রহমানের ছেলে মমিন মিয়া (১৮), মোস্তফা মিয়ার ছেলে ফারুক মিয়া (১৮), আলমগীর হোসেনের ছেলে মাহিদ ইসলাম (১৭), আঃ মতিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৮), আঃ রহমান ওরফে আব্দুলের ছেলে আব্দুল মোত্তালেব (১৭), মোহাম্মদ আলীর ছেলে সফিউল ইসলাম (৪০) ও স্বাধীন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জন মিলে ১৩ বছর বয়সী ঐ স্কুল ছাত্রীকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার পর স্থানীয়দের কাছে রঞ্জিনা ওরফে আর্জিনা আক্তার ও তার ছোট ভাই কামরুজ্জামান অপরহরণের কথা স্বীকার করে। তাদের কথা ও মোবাইলফোনে অপহরণকারী চক্র ও অপহৃতার পরিবারের সঙ্গে জমিজমা সম্পর্কিত বিরোধীয় পক্ষের সার্বক্ষণিক যোগাযোগপূর্বক দীর্ঘ পরিকল্পনার তথ্য প্রমাণ মেলে। আসামী রঞ্জিনা অপহরণকারী চক্র ও অপহৃতার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ শত্রুতা পোষণকারীদের কথামতো মোবাইলে মিনিটকার্ড রিচার্জের কথা বলে ডেকে নিয়ে গেলে ওকে (অপহৃতাকে) জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে।
এরপর, মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) শ্রীপুর ইউনিয়নের বড়ুয়াবাজারস্থ কাজী আব্দুল মান্নানের অফিসে অপহৃতাকে ফেরৎ দেয়ার কথা বলে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম রাজা’র সভাপতিত্বে সালিশের নামে অপহৃতার পরিবারের কাছ থেকে কয়েকটি কাগজে সহি-স্বাক্ষর নেন। পরে অপহৃতাকে আনার জন্য কাজী আব্দুল মান্নান, তার ছেলে সামিউল ইসলাম ওরফে সোহেল, আব্দুল হক ওরফে আঃ রহমান মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যান। গভীর রাত পর্যন্ত অপহৃতার পরিবারকে বাজারে অপেক্ষায় রেখে কাজীর ভগ্নিপতির বাড়ি দাড়িয়াপুরের নিকট থেকে গাইবান্ধা জেলা শহরের এক বাসায় রেখে আসেন আপহৃতাকে। ঘটনার পর থেকে কাজী, তার ছেলে ও কাজীর ভাই আব্দুল ওরফে আঃ রহমান বিভিন্ন সময় নানান ব্যক্তিকে দিয়ে মামলার বাদী অপহৃতার বাবাকে মোবাইলফোনে মেয়ে ফিরিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে মুক্তিপণ দাবী করছেন। এমনকি হুমকীওঅব্যাহত রেখেছেন বলে জানা যায়।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে ০১৭১৬৭৫৫৬৯৯ মোবাইল নম্বর থেকে বাদীর ফোনে কল করে নিজেকে একটি মানবাধিকার সংস্থার গাইবান্ধা জেলার সেক্রেটারী ফারহানা বেগম গিনি পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আপনার মেয়েকে ফেরৎ চান যদি খরচা-পাতি নিয়ে আমার অফিসে আসেন। তার আগে আপনাকে মামলা তুলে নিতে হবে। না হলে মেয়ে তো পাবেন না বরং আপনিই উল্টো মামলায় জেল খাটবেন। এ ধরণের অনেক কাজ করেছি। আমাকে ডিসি, এসপি, সবগুলো থানার ওসি ভাল করেই চেনে’। ৩ মিনিট ৩৪ সে. ধরে তার শর্তারোপকৃত কথা ও হুমকী চলতে থাকে। এরপর কয়েকদফা কথার মাঝে একবার পরিবহণের খরচের হিসেব দিয়ে তার নিজের জন্য কী…! রাতে মোবাইলফোনে তিনি সাব জানিয়ে দেন- ‘আর মেয়েকে পাবেন না, যখন বলেছি- তখন আমি মেয়ের সামনে ছিলাম, আপনার মেয়ে তো ছোট, এখন কি করবেন- বিয়ে দিয়ে মেনে নিবেন, আপনার মেয়ে অসুস্থ্য, তার পায়ে কোন জুতাও নেই। আপনার মেয়ে আপনার কাছে না যেতে পারলে সে না-কি বিষ খাইবে, তো এখন কি করবেন। মেয়েকে নিবেন তো’! কয়েকদফা কথায় মেয়েকে ফেরৎ দেয়ার এখতিয়ার রাখলেও রাতে তিনি ব্যর্থতা স্বীকার করেন।
থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, অপহৃতা উদ্ধার ও আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পত্নীতলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

সুন্দরগঞ্জে স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ, একসপ্তাহেও সন্ধান মেলেনি

Update Time : ০৫:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের ৬ দিনেও উদ্ধার হয়নি। এ ঘটনায় জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
জানা যায়, গত (রবিবার) ১৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় উপজেলার শোভাগঞ্জ উচ্চ বাদ্যালয় ও ডিগ্রী কলেজ মোড় থেকে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ৯ম শ্রেণীর ঐ ছাত্রীকে অপহরণ করে চক্রটি। অপহৃতা শোভাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর নিয়মিত ছাত্রী। এসময় একই স্কুলের ছাত্রী ও প্রতিবেশী রঞ্জিনা আক্তার (আর্জিনা) তার ছোট ভাই কামরুজ্জামানসহ মোবাইলফোনে মিনিটকার্ড রিচার্জের কথা বলে অপহৃতাকে পড়ার টেবিল থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারা ৩ জনই উক্ত মোড়স্থ মিনি-বিশ্বরোডে উঠলে সেখানে আটোবাইক ও মিশুক গাড়িতে আগে থেকেই ওঁৎপেতে থাকা সংঘবদ্ধচক্রের সদস্য পার্শ্ববর্তী শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সমস গ্রামের আব্দুল ওরফে আঃ রহমানের ছেলে মমিন মিয়া (১৮), মোস্তফা মিয়ার ছেলে ফারুক মিয়া (১৮), আলমগীর হোসেনের ছেলে মাহিদ ইসলাম (১৭), আঃ মতিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৮), আঃ রহমান ওরফে আব্দুলের ছেলে আব্দুল মোত্তালেব (১৭), মোহাম্মদ আলীর ছেলে সফিউল ইসলাম (৪০) ও স্বাধীন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জন মিলে ১৩ বছর বয়সী ঐ স্কুল ছাত্রীকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার পর স্থানীয়দের কাছে রঞ্জিনা ওরফে আর্জিনা আক্তার ও তার ছোট ভাই কামরুজ্জামান অপরহরণের কথা স্বীকার করে। তাদের কথা ও মোবাইলফোনে অপহরণকারী চক্র ও অপহৃতার পরিবারের সঙ্গে জমিজমা সম্পর্কিত বিরোধীয় পক্ষের সার্বক্ষণিক যোগাযোগপূর্বক দীর্ঘ পরিকল্পনার তথ্য প্রমাণ মেলে। আসামী রঞ্জিনা অপহরণকারী চক্র ও অপহৃতার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ শত্রুতা পোষণকারীদের কথামতো মোবাইলে মিনিটকার্ড রিচার্জের কথা বলে ডেকে নিয়ে গেলে ওকে (অপহৃতাকে) জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে।
এরপর, মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) শ্রীপুর ইউনিয়নের বড়ুয়াবাজারস্থ কাজী আব্দুল মান্নানের অফিসে অপহৃতাকে ফেরৎ দেয়ার কথা বলে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম রাজা’র সভাপতিত্বে সালিশের নামে অপহৃতার পরিবারের কাছ থেকে কয়েকটি কাগজে সহি-স্বাক্ষর নেন। পরে অপহৃতাকে আনার জন্য কাজী আব্দুল মান্নান, তার ছেলে সামিউল ইসলাম ওরফে সোহেল, আব্দুল হক ওরফে আঃ রহমান মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যান। গভীর রাত পর্যন্ত অপহৃতার পরিবারকে বাজারে অপেক্ষায় রেখে কাজীর ভগ্নিপতির বাড়ি দাড়িয়াপুরের নিকট থেকে গাইবান্ধা জেলা শহরের এক বাসায় রেখে আসেন আপহৃতাকে। ঘটনার পর থেকে কাজী, তার ছেলে ও কাজীর ভাই আব্দুল ওরফে আঃ রহমান বিভিন্ন সময় নানান ব্যক্তিকে দিয়ে মামলার বাদী অপহৃতার বাবাকে মোবাইলফোনে মেয়ে ফিরিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে মুক্তিপণ দাবী করছেন। এমনকি হুমকীওঅব্যাহত রেখেছেন বলে জানা যায়।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে ০১৭১৬৭৫৫৬৯৯ মোবাইল নম্বর থেকে বাদীর ফোনে কল করে নিজেকে একটি মানবাধিকার সংস্থার গাইবান্ধা জেলার সেক্রেটারী ফারহানা বেগম গিনি পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আপনার মেয়েকে ফেরৎ চান যদি খরচা-পাতি নিয়ে আমার অফিসে আসেন। তার আগে আপনাকে মামলা তুলে নিতে হবে। না হলে মেয়ে তো পাবেন না বরং আপনিই উল্টো মামলায় জেল খাটবেন। এ ধরণের অনেক কাজ করেছি। আমাকে ডিসি, এসপি, সবগুলো থানার ওসি ভাল করেই চেনে’। ৩ মিনিট ৩৪ সে. ধরে তার শর্তারোপকৃত কথা ও হুমকী চলতে থাকে। এরপর কয়েকদফা কথার মাঝে একবার পরিবহণের খরচের হিসেব দিয়ে তার নিজের জন্য কী…! রাতে মোবাইলফোনে তিনি সাব জানিয়ে দেন- ‘আর মেয়েকে পাবেন না, যখন বলেছি- তখন আমি মেয়ের সামনে ছিলাম, আপনার মেয়ে তো ছোট, এখন কি করবেন- বিয়ে দিয়ে মেনে নিবেন, আপনার মেয়ে অসুস্থ্য, তার পায়ে কোন জুতাও নেই। আপনার মেয়ে আপনার কাছে না যেতে পারলে সে না-কি বিষ খাইবে, তো এখন কি করবেন। মেয়েকে নিবেন তো’! কয়েকদফা কথায় মেয়েকে ফেরৎ দেয়ার এখতিয়ার রাখলেও রাতে তিনি ব্যর্থতা স্বীকার করেন।
থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, অপহৃতা উদ্ধার ও আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।