
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভার কালিতলা মোড়। জীর্ণ শরীরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক কড়ই গাছ। ব্রিটিশ আমলে রোপণ করা এই মহীরুহটি কেবল একটি উদ্ভিদ নয়, এ যেন এই অঞ্চলের শত বছরের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। তবে অযত্ন, অবহেলা আর এক শ্রেণির অসাধু মানুষের লোলুপ দৃষ্টিতে আজ চরম সংকটে এই প্রাচীন প্রাণ। ডালপালা হারিয়ে গাছটি এখন এতটাই রুগ্ন রূপ ধারণ করেছে যে, পরিবেশপ্রেমীদের কানে প্রতিনিয়তই বাজছে এর ‘নীরব আর্তনাদ’।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রাচীন এই গাছটিকে কেন্দ্র করে একটি বসার চত্বর ও টিনের চালা দিয়ে গোলঘর তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু গাছটির ওপরের দিকে তাকালেই চোখে পড়ে চরম অব্যবস্থাপনার ছাপ। ডালপালার ফাঁকে ফাঁকে জালের মতো জড়িয়ে আছে অসংখ্য বৈদ্যুতিক তার। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন অবিবেচক সিদ্ধান্তের কারণে গাছটি যেমন স্বাভাবিকভাবে ডালপালা মেলতে পারছে না, তেমনি যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অগ্নিদুর্ঘটনার ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো অসাধু চক্রের তৎপরতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুযোগ বুঝে রাতের আঁধারে বা লোকচক্ষুর আড়ালে গাছটির বড় বড় ডাল কেটে নিয়ে যাচ্ছে এক শ্রেণির দুর্বৃত্ত। ফলে একসময়কার বিশাল ছায়াদানকারী এই মহীরুহ এখন অনেকটা টেকো ও শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। ডালপালা কমে যাওয়ার কারণে প্রখর রোদে আগের মতো সেই সুশীতল ছায়াও আর মিলছে না পথচারীদের।
কালিতলা মোড়ের প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, তাদের বাপ-দাদারাও এই গাছটিকে এভাবেই দেখে এসেছেন। যুগ যুগ ধরে ক্লান্ত পথিক থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসায়ী-সবারই বিশ্রামের প্রশান্তির ঠিকানা এই গাছের তলা। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তারা চরম ক্ষুব্ধ।
স্থানীয় এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “এই গাছটি আমাদের ঘোড়াঘাটের ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু তারের জঞ্জাল আর ডাল চুরির কারণে গাছটা এখন ধুঁকে ধুঁকে মরছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত এর একটা বিহিত করুক।”
পরিবেশকর্মীদের মতে, একটি শতবর্ষী গাছ এক কোপে কাটার চেয়ে তাকে তিলে তিলে মেরে ফেলা আরও বড় অপরাধ। অনবরত ডালপালা কাটার ফলে গাছের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক তারের ঘর্ষণে গাছের কাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই ধ্বংসযজ্ঞ দ্রুত বন্ধ না হলে ঘোড়াঘাটবাসী অচিরেই হারাবে তাদের এক অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে শতবর্ষী এই গাছটি তার হারানো রূপ ফিরে পাবে, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Reporter Name 







