Dhaka ১১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাঘাটায় রক্তদাতাদের সম্মাননা ও ফুটবল বিতরণ বিটিভির মহাপরিচালক হলেন কাজী জেসিন মেসির রেকর্ডময় রাতে মায়ামির জোড়া গোলে জয় গোবিন্দগঞ্জে বিএনপির জুলাই অভ্যুত্থান দিবসে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থার মানবিক কাজে পাশে থাকার আশ্বাস উপজেলা নির্বাহী অফিসারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: তফসিল প্রকাশ, ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ সুন্দরগঞ্জে নিখোঁজের পরদিন পুকুরে মিলল বৃদ্ধের মরদেহ গাইবান্ধায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় নতুন কর্মসূচির অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত কায়সার প্লাবনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন চমক টিভির পরিচালকদের গ্রেফতারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

বাসর রাতে মুখ ধোতেই ‘ভোলবদল’! বাসরঘর থেকে কারাগারে বর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫৪:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৭৭ Time View

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বিয়ে মানেই আনন্দ, উল্লাস আর নতুন সম্পর্ক। কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ের রায়হান কবিরের জন্য বিয়েটা হয়ে উঠল এক দুঃস্বপ্ন। বাসর রাতে কনে মেকআপ তোলার পর রায়হান আবিষ্কার করেন, বিয়ের আগে তাকে যে মেয়ে দেখানো হয়েছিল, ইনি সেই মেয়ে নন! মুহূর্তেই বাসরঘর পরিণত হলো রণক্ষেত্রে, আর সেই জল গড়াল আদালত হয়ে সোজা কারাগারে।

ঘটনার শুরু গত জুলাই মাসে। রায়হান কবিরের মামা বাদল জানান, ঘটক মোতালেব তাদেরকে রাণীশংকৈলের শিবদীঘি এলাকার এক চায়ের দোকানে একটি মেয়ে দেখান। মেয়েটিকে পাত্র ও তার পরিবারের পছন্দ হয়। কথা পাকাপাকি করতে দেরি করেননি তারা।

রায়হানের দুলাভাই মানিক মালয়েশিয়া প্রবাসী, তার ছুটির তাড়া থাকায় দ্রুত বিয়ের আয়োজন করা হয়। ১ আগস্ট ধুমধাম করে বরযাত্রী নিয়ে বিয়েও করে ফেলেন রায়হান। কিন্তু বিধি বাম!

বরের পরিবারের অভিযোগ, অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বিয়ের আসরে কনেকে চেনা যায়নি। আসল ধাক্কাটা আসে বাসর রাতে। কনে যখন মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হন, তখন রায়হান বুঝতে পারেন-তাকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। যে মেয়েকে তিনি পছন্দ করেছিলেন, তাকে কৌশলে বদলে দেওয়া হয়েছে। পরদিন ২ আগস্ট মেয়েকে তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বরের বাড়ির দাবি, “ঘটক আর মেয়ের বাবা মিলে আমাদের সঙ্গে বড় প্রতারণা করেছেন।”

কনে বদলের অভিযোগ মানতে নারাজ কনের বাবা জিয়ারুল হক। তার দাবি, এসব বানোয়াট গল্প। তিনি বলেন, “আমার কোনো ছেলে নেই, তিন মেয়ের মধ্যে এটি মেজো। বরপক্ষ আমাদের বাড়িতে এসে মেয়ে দেখে গেছে। বিয়ের আসরে ৭০ জন বরযাত্রী ছিল, তখন কেউ কিছু বলল না, আর বাসর রাতে কনে বদলে গেল? এটা বিশ্বাসযোগ্য?”

জিয়ারুল হকের অভিযোগ, বিয়ের পরদিনই বরপক্ষ ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে বসে। টাকা না পেয়েই তারা এখন কনে বদলের নাটক সাজিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে।

ঘটনাটি আর চার দেয়ালের মাঝে থাকেনি। মিমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে কনের বাবা জিয়ারুল হক ২৭ আগস্ট বর রায়হান ও তার দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পাল্টা জবাব হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর রায়হানও কনের বাবা ও ঘটকের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা ঠুকে দেন।

অবশেষে আইনের বেড়াজালে আটকে যান বর রায়হান। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও আদালত রায়হানের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘটক মোতালেব অবশ্য গা বাঁচাতে ব্যস্ত। তিনি বলছেন, “আমি সঠিক মেয়েই দেখিয়েছি, এরপর কী হয়েছে আমি জানি না।”

একদিকে বরের দাবি ‘প্রতারণা’, অন্যদিকে কনের বাবার দাবি ‘যৌতুক লোভ’। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মুখে মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—সত্যিই কি মেকআপের আড়ালে কনে বদল হয়েছে, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য? সত্য উদঘাটনের ভার এখন আদালতের ওপর।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাঘাটায় রক্তদাতাদের সম্মাননা ও ফুটবল বিতরণ

বাসর রাতে মুখ ধোতেই ‘ভোলবদল’! বাসরঘর থেকে কারাগারে বর

Update Time : ০৬:৫৪:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বিয়ে মানেই আনন্দ, উল্লাস আর নতুন সম্পর্ক। কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ের রায়হান কবিরের জন্য বিয়েটা হয়ে উঠল এক দুঃস্বপ্ন। বাসর রাতে কনে মেকআপ তোলার পর রায়হান আবিষ্কার করেন, বিয়ের আগে তাকে যে মেয়ে দেখানো হয়েছিল, ইনি সেই মেয়ে নন! মুহূর্তেই বাসরঘর পরিণত হলো রণক্ষেত্রে, আর সেই জল গড়াল আদালত হয়ে সোজা কারাগারে।

ঘটনার শুরু গত জুলাই মাসে। রায়হান কবিরের মামা বাদল জানান, ঘটক মোতালেব তাদেরকে রাণীশংকৈলের শিবদীঘি এলাকার এক চায়ের দোকানে একটি মেয়ে দেখান। মেয়েটিকে পাত্র ও তার পরিবারের পছন্দ হয়। কথা পাকাপাকি করতে দেরি করেননি তারা।

রায়হানের দুলাভাই মানিক মালয়েশিয়া প্রবাসী, তার ছুটির তাড়া থাকায় দ্রুত বিয়ের আয়োজন করা হয়। ১ আগস্ট ধুমধাম করে বরযাত্রী নিয়ে বিয়েও করে ফেলেন রায়হান। কিন্তু বিধি বাম!

বরের পরিবারের অভিযোগ, অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বিয়ের আসরে কনেকে চেনা যায়নি। আসল ধাক্কাটা আসে বাসর রাতে। কনে যখন মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হন, তখন রায়হান বুঝতে পারেন-তাকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। যে মেয়েকে তিনি পছন্দ করেছিলেন, তাকে কৌশলে বদলে দেওয়া হয়েছে। পরদিন ২ আগস্ট মেয়েকে তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বরের বাড়ির দাবি, “ঘটক আর মেয়ের বাবা মিলে আমাদের সঙ্গে বড় প্রতারণা করেছেন।”

কনে বদলের অভিযোগ মানতে নারাজ কনের বাবা জিয়ারুল হক। তার দাবি, এসব বানোয়াট গল্প। তিনি বলেন, “আমার কোনো ছেলে নেই, তিন মেয়ের মধ্যে এটি মেজো। বরপক্ষ আমাদের বাড়িতে এসে মেয়ে দেখে গেছে। বিয়ের আসরে ৭০ জন বরযাত্রী ছিল, তখন কেউ কিছু বলল না, আর বাসর রাতে কনে বদলে গেল? এটা বিশ্বাসযোগ্য?”

জিয়ারুল হকের অভিযোগ, বিয়ের পরদিনই বরপক্ষ ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে বসে। টাকা না পেয়েই তারা এখন কনে বদলের নাটক সাজিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে।

ঘটনাটি আর চার দেয়ালের মাঝে থাকেনি। মিমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে কনের বাবা জিয়ারুল হক ২৭ আগস্ট বর রায়হান ও তার দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পাল্টা জবাব হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর রায়হানও কনের বাবা ও ঘটকের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা ঠুকে দেন।

অবশেষে আইনের বেড়াজালে আটকে যান বর রায়হান। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও আদালত রায়হানের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘটক মোতালেব অবশ্য গা বাঁচাতে ব্যস্ত। তিনি বলছেন, “আমি সঠিক মেয়েই দেখিয়েছি, এরপর কী হয়েছে আমি জানি না।”

একদিকে বরের দাবি ‘প্রতারণা’, অন্যদিকে কনের বাবার দাবি ‘যৌতুক লোভ’। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মুখে মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—সত্যিই কি মেকআপের আড়ালে কনে বদল হয়েছে, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য? সত্য উদঘাটনের ভার এখন আদালতের ওপর।