Dhaka ০১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রৌমারীতে দেড় লাখ টাকাসহ ১৪ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার অবৈধভাবে রাসায়নিক সার বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির মতবিনিময় সভা আমেরিকায় গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন: চাকরি থাকলেও যাচাই হবে সামগ্রিক আর্থিক অবস্থা গাইবান্ধায় শিক্ষা দিবসে ছাত্র ইউনিয়নের মিছিল ও সমাবেশ নটর ডেম কলেজে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের গ্রীন ফিল্ড কলেজের অধ্যক্ষের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ সাঘাটায় বসতবাড়িতে ৪ হাজার ৬০০ চারা বিতরণ পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে হামলার শিকার যুবক, হাসপাতালে ভর্তি সুন্দরগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪ পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও সভাপতির বক্তব্য

ভারতের রাজনীতিতে ‘তেলাপোকা পার্টি’, সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনায় সিজেপি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • ৯২ Time View

ভারতের রাজনীতিতে হঠাৎ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এক অদ্ভুত নাম— ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। নাম শুনে মজা লাগলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে তরুণদের ক্ষোভ, হতাশা আর রাজনৈতিক ব্যঙ্গের এক নতুন ভাষা।

সিজেপি আসলে কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল নয়। এটি মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তেলাপোকা বা আরশোলাকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ, এই প্রাণীকে অনেকেই একগুঁয়ে, সহনশীল এবং সহজে নির্মূল করা যায় না— এমন বৈশিষ্ট্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

খুব অল্প সময়েই ডিজিটাল দুনিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় সিজেপি। কয়েক দিনের মধ্যেই লাখ লাখ মানুষ যুক্ত হয় এর সঙ্গে। গুগল ফর্মের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ শুরু হয়, আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ম্যায়ভিককরোচ (আমিও আরশোলা) হ্যাশট্যাগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ভারতের মূলধারার গণমাধ্যম এবং রাজনীতিবিদদের মধ্যেও বিষয়টি আলোচনার জন্ম দেয়।

এই প্ল্যাটফর্মের নেপথ্যে রয়েছেন বোস্টন ইউনিভার্সিটির ছাত্র ও পলিটিক্যাল কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটেজিস্ট অভিজিৎ দীপকে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো বিষয়টি শুরু হয়েছিল মজার ছলে। কিন্তু অল্প সময়েই এটি তরুণদের অসন্তোষ, বেকারত্ব, রাজনৈতিক হতাশা ও প্রতিনিধিত্বের সংকট নিয়ে আলোচনার জায়গা তৈরি করে।

সিজেপির সদস্য হওয়ার শর্তগুলোও ব্যঙ্গাত্মক— যেমন বেকার, অলস, সারাক্ষণ অনলাইনে সক্রিয় থাকা, আর অভিযোগ করার দক্ষতা থাকা। হাস্যরসের মোড়কে থাকলেও এর ভেতরে রয়েছে জবাবদিহিতা, গণমাধ্যম সংস্কার, নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দাবি।

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পর ‘তেলাপোকা’ বা ‘ককরোচ’ শব্দটি আরও বেশি আলোচনায় আসে। পরে সেই প্রতীককেই ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি এখনো মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক শক্তি নয়। তবে সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ার কারণ হলো— ভারতের অনেক তরুণ নিজেদের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশের নতুন ভাষা খুঁজছিল। সিজেপি সেই জায়গাটাই তৈরি করেছে।

অনেকেই বলছেন, এটি হয়তো দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। তবে অল্প সময়ের জন্য হলেও সিজেপি ভারতীয় তরুণদের মনে এই অনুভূতি তৈরি করেছে— তাদের কণ্ঠস্বর এখন দৃশ্যমান।

এক সময় প্রতিবাদ হতো ইশতেহার দিয়ে, এখন মিম, হ্যাশট্যাগ আর তেলাপোকার ম্যাসকট দিয়েও রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে— আর সিজেপি তারই নতুন উদাহরণ।

সূত্র: বিবিসি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রৌমারীতে দেড় লাখ টাকাসহ ১৪ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার

ভারতের রাজনীতিতে ‘তেলাপোকা পার্টি’, সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনায় সিজেপি

Update Time : ১২:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ভারতের রাজনীতিতে হঠাৎ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এক অদ্ভুত নাম— ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। নাম শুনে মজা লাগলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে তরুণদের ক্ষোভ, হতাশা আর রাজনৈতিক ব্যঙ্গের এক নতুন ভাষা।

সিজেপি আসলে কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল নয়। এটি মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তেলাপোকা বা আরশোলাকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ, এই প্রাণীকে অনেকেই একগুঁয়ে, সহনশীল এবং সহজে নির্মূল করা যায় না— এমন বৈশিষ্ট্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

খুব অল্প সময়েই ডিজিটাল দুনিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় সিজেপি। কয়েক দিনের মধ্যেই লাখ লাখ মানুষ যুক্ত হয় এর সঙ্গে। গুগল ফর্মের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ শুরু হয়, আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ম্যায়ভিককরোচ (আমিও আরশোলা) হ্যাশট্যাগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ভারতের মূলধারার গণমাধ্যম এবং রাজনীতিবিদদের মধ্যেও বিষয়টি আলোচনার জন্ম দেয়।

এই প্ল্যাটফর্মের নেপথ্যে রয়েছেন বোস্টন ইউনিভার্সিটির ছাত্র ও পলিটিক্যাল কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটেজিস্ট অভিজিৎ দীপকে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো বিষয়টি শুরু হয়েছিল মজার ছলে। কিন্তু অল্প সময়েই এটি তরুণদের অসন্তোষ, বেকারত্ব, রাজনৈতিক হতাশা ও প্রতিনিধিত্বের সংকট নিয়ে আলোচনার জায়গা তৈরি করে।

সিজেপির সদস্য হওয়ার শর্তগুলোও ব্যঙ্গাত্মক— যেমন বেকার, অলস, সারাক্ষণ অনলাইনে সক্রিয় থাকা, আর অভিযোগ করার দক্ষতা থাকা। হাস্যরসের মোড়কে থাকলেও এর ভেতরে রয়েছে জবাবদিহিতা, গণমাধ্যম সংস্কার, নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দাবি।

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পর ‘তেলাপোকা’ বা ‘ককরোচ’ শব্দটি আরও বেশি আলোচনায় আসে। পরে সেই প্রতীককেই ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি এখনো মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক শক্তি নয়। তবে সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ার কারণ হলো— ভারতের অনেক তরুণ নিজেদের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশের নতুন ভাষা খুঁজছিল। সিজেপি সেই জায়গাটাই তৈরি করেছে।

অনেকেই বলছেন, এটি হয়তো দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। তবে অল্প সময়ের জন্য হলেও সিজেপি ভারতীয় তরুণদের মনে এই অনুভূতি তৈরি করেছে— তাদের কণ্ঠস্বর এখন দৃশ্যমান।

এক সময় প্রতিবাদ হতো ইশতেহার দিয়ে, এখন মিম, হ্যাশট্যাগ আর তেলাপোকার ম্যাসকট দিয়েও রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে— আর সিজেপি তারই নতুন উদাহরণ।

সূত্র: বিবিসি