Dhaka ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
হালান্দকে রুখতে আনচেলত্তির বিশেষ ছক চিলমারীতে ১০ দিনে ৩ মোটরসাইকেল চুরি সুন্দরগঞ্জে এনসিপির কমিটি গঠন, নেতৃত্বে জিকো-আশানুর-আজিজুর  চাঁদা না দেওয়ায় শিক্ষককে মারধর, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বর্জন রাজশাহীসহ ৬ বিভাগে ৩ দিন অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দ্বিতীয় যমুনা (ব্রহ্মপুত্র) সেতু:  বালাসীঘাট হতে পারে বাংলাদেশের নতুন উন্নয়নের সেতুবন্ধ অস্ত্রের মুখে টাকা ছিনতাই: সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মূল আসামী সেলিম গ্রেপ্তার সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ করে পরিপত্র জারি চিকিৎসায় বাড়িভিটাও শেষ, তবুও সুস্থ হয়নি মেয়ে : সাহায্যের আবেদন বাবার তপ্ত চরে স্বস্তির পরশ: নজর কাড়ছে ‘শীতল ছায়া’

“মৃত্যুকে ভয় পাই না, এই বছরেই দেশে ফিরব”: এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুঙ্কার শেখ হাসিনার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৪৯:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • ৪৯ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি:

বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করার কথা আগেই জানিয়েছিলেন, এবার তার নির্দিষ্ট সময়সীমাও স্পষ্ট করে দিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এনডিটিভি’-কে দেওয়া একটি বিশেষ ইমেল সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, “প্রতিটি বাধা এবং ষড়যন্ত্রকে অতিক্রম করে আমি এই বছরেই আমার দেশে ফিরব।”

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই বছরের ৫ আগস্ট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। তারপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর এবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিলেন।

সাক্ষাৎকারে নিজের দেশে ফেরার কারণ ব্যাখ্যা করে শেখ হাসিনা বলেন, “ব্যক্তিগত কোনো আশা-আকাঙ্ক্ষার জন্য দেশে ফিরতে চাইছি, এমন নয়। এখানে প্রশ্নটা বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার।”

বর্তমানে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে এবং একটি মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ-তা জানতে চাওয়া হলে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা, ভাই, পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়েছি। কিন্তু এত চক্রান্তের পরেও আমি বাংলাদেশের মানুষের পাশেই থেকেছি।”

নিজের মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ নেত্রী বলেন, “এটা বিচার নয়। এটা অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি ব্যবস্থার অংশমাত্র। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করতে বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অস্ত্র করা হয়েছে।”

শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি এবং নানা বিধিনিষেধের মধ্যেও আওয়ামী লীগ জনসমর্থন ফিরে পাচ্ছে বলে দাবি করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়। এই দলকে বহুবার আঘাত করা হয়েছে, বহুবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেক বার মানুষের ভালোবাসাকে সঙ্গী করে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।”

দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে তারেক রহমানের দল বিএনপির সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনা বা গোপন ‘বোঝাপড়া’ চলছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক অনুগ্রহ চায় না।” যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে দল নিজস্ব শক্তিতেই বিশ্বাসী বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মতোই বিএনপি-ও সংখ্যালঘুদের ওপর ‘অত্যাচারের’ বিষয়টি অস্বীকার করছে।

সবশেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমান একটা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা পাবেন। সেই বাংলাদেশে কখনো ধর্মীয় আগ্রাসন এবং মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

হালান্দকে রুখতে আনচেলত্তির বিশেষ ছক

“মৃত্যুকে ভয় পাই না, এই বছরেই দেশে ফিরব”: এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুঙ্কার শেখ হাসিনার

Update Time : ০৪:৪৯:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি:

বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করার কথা আগেই জানিয়েছিলেন, এবার তার নির্দিষ্ট সময়সীমাও স্পষ্ট করে দিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এনডিটিভি’-কে দেওয়া একটি বিশেষ ইমেল সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, “প্রতিটি বাধা এবং ষড়যন্ত্রকে অতিক্রম করে আমি এই বছরেই আমার দেশে ফিরব।”

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই বছরের ৫ আগস্ট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। তারপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর এবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিলেন।

সাক্ষাৎকারে নিজের দেশে ফেরার কারণ ব্যাখ্যা করে শেখ হাসিনা বলেন, “ব্যক্তিগত কোনো আশা-আকাঙ্ক্ষার জন্য দেশে ফিরতে চাইছি, এমন নয়। এখানে প্রশ্নটা বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার।”

বর্তমানে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে এবং একটি মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ-তা জানতে চাওয়া হলে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা, ভাই, পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়েছি। কিন্তু এত চক্রান্তের পরেও আমি বাংলাদেশের মানুষের পাশেই থেকেছি।”

নিজের মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ নেত্রী বলেন, “এটা বিচার নয়। এটা অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি ব্যবস্থার অংশমাত্র। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করতে বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অস্ত্র করা হয়েছে।”

শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি এবং নানা বিধিনিষেধের মধ্যেও আওয়ামী লীগ জনসমর্থন ফিরে পাচ্ছে বলে দাবি করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়। এই দলকে বহুবার আঘাত করা হয়েছে, বহুবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেক বার মানুষের ভালোবাসাকে সঙ্গী করে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।”

দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে তারেক রহমানের দল বিএনপির সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনা বা গোপন ‘বোঝাপড়া’ চলছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক অনুগ্রহ চায় না।” যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে দল নিজস্ব শক্তিতেই বিশ্বাসী বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মতোই বিএনপি-ও সংখ্যালঘুদের ওপর ‘অত্যাচারের’ বিষয়টি অস্বীকার করছে।

সবশেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমান একটা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা পাবেন। সেই বাংলাদেশে কখনো ধর্মীয় আগ্রাসন এবং মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।”