Dhaka ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঢাকা-রংপুর লংমার্চ: পলাশবাড়ীর পথসভা সফল করতে গাইবান্ধায় প্রস্তুতি সভা বাণিজ্য মেলাকে ঘিরে এনসিপির প্রস্তাবকে আমলে নিচ্ছে গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সাথে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মত বিনিময় উত্তরসংযোগ: নদীর দুই পাড় আর একটি অপেক্ষার গল্প গাইবান্ধায় মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ কমিটির সমন্বয় সভা গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ও মেয়ে আহত ১০ মাস বিচারকহীন সাদুল্লাপুর সহকারী জজ আদালত, ঝুলে আছে প্রায় ৪ হাজার মামলা ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের সিনেমার বড় অর্জন চিলমারী-রৌমারী নৌ-পথে নাব্যতা ফিরলেও মিলছে না ফেরি জনপ্রিয়তা সত্যের মানদণ্ড নয়: পছন্দ, আবেগ ও বিশ্বাসের প্রকাশ মাত্র 

মেসিকে রুখে বিশ্বজয় স্পেনের, বাঁধভাঙা আনন্দে ভাসলেন ফেরান-ইয়ামালরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩৭:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ১২২ Time View

ঢাকা ডেস্ক:

স্পেনের তিকি-তাকার কাছে ম্লান হয়ে গেল লিওনেল মেসির জাদু। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে আছড়ে পড়ল লাল সমুদ্র। স্প্যানিশ সমর্থকদের গর্জনে তখন কান পাতা দায়। বিশ্বজয়ের আনন্দে ফেরান তোরেস, লামিন ইয়ামাল, পেদ্রি, রদ্রিরা তখন পাগলপারা। মাঠজুড়ে উল্লাসে মেতে উঠেছেন তারা। তবে আর্জেন্টিনার ডাগআউটের সামনে এসে থমকে গেলেন তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল। দেখা গেল, লিওনেল মেসি মুখ ঢেকে বসে আছেন। নিজের আদর্শকে এভাবে দেখে হয়তো খারাপ লাগছিল এই স্প্যানিশ তরুণ তুর্কির। আলতো করে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিলেন মেসিকে। আর্জেন্টাইন অধিনায়কও পাল্টা জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানালেন ইয়ামালকে। হয়তো কানে কানে বলে দিলেন, ‘অনেক দূর যাবে তুমি।’

ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ অংশ নিয়েই বিশ্বজয়—মুখের কথা নয়। তবে সেটিই করে দেখালেন ১৭ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল। স্পেনের দে লা ফুয়েন্তের এই তরুণ দল জাভি-ইনিয়েস্তাদের পর পর ইউরো ও বিশ্বকাপ জয়ের সেই ঐতিহাসিক কীর্তির পুনরাবৃত্তি ঘটাল। আর এই স্প্যানিশ আর্মাডার মূল শক্তি ছিল যৌথ দলীয় প্রচেষ্টা।

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে উচ্ছ্বসিত ইয়ামাল বলেন, ‘সেমিফাইনালের আগে বলেছিলাম এই স্পেনকে ফ্রান্স ভয় পায়। তখন অনেকেই একে আমাদের ঔদ্ধত্য বলেছিল। তবে আমরা এসবে কান দিইনি। শেষ চারে ফ্রান্সকে হারানোর পর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে লড়াইটা সহজ ছিল না। ওরা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, তার ওপর দলে মেসির মতো বিশ্বসেরা তারকা ছিলেন। তবে ফুটবল দেবতা আমাদের সহায় ছিলেন। শেষ হাসি হাসতে পেরে আমি আপ্লুত।’

মেসি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ইয়ামাল। তিনি যোগ করেন, ‘আমার চোখে মেসিই সর্বকালের সেরা। ওনাকে দেখেই আমরা বড় হয়েছি। তাই লিওর বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলাটা আমার কাছে অনেক গর্বের। আর সেই ম্যাচে জিতে অনুভূতি কেমন হচ্ছে, তা বলে বোঝাতে পারব না। এখন শুধুই উদযাপনের সময়।’ কথা শেষ হওয়ার আগেই সতীর্থ কুবার্সি ও ফেরান তোরেসরা বড় স্পিকার নিয়ে হাজির হন। ড্রেসিংরুমের পথে গান গেয়ে কোমর দোলাতে দোলাতে এগিয়ে যান তারা।

লামিন ইয়ামালের পাশাপাশি বলতে হয় রদ্রির কথাও। পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে স্পেনের মাঝমাঠের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন তিনি। ফাইনালেও মেসি-আলভারেজদের আক্রমণ রুখে দিয়ে স্পেনকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে বড় ভূমিকা রাখেন। ম্যাচ শেষে রদ্রি বলেন, ‘কী যে অনুভূতি হচ্ছে, তা বোঝানোর ভাষা নেই। দলের প্রতিটি ফুটবলারের জন্য আমি গর্বিত। মেসির আর্জেন্টিনাকে হারানো মোটেও সহজ ছিল না, তবে আমরা পেরেছি।’

শিষ্যদের এই ঐতিহাসিক অর্জনে আপ্লুত স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও। তিনি বলেন, ‘সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। ছেলেদের জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। এই বিশ্বজয়ের গল্প ফুটবলের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ঢাকা-রংপুর লংমার্চ: পলাশবাড়ীর পথসভা সফল করতে গাইবান্ধায় প্রস্তুতি সভা

মেসিকে রুখে বিশ্বজয় স্পেনের, বাঁধভাঙা আনন্দে ভাসলেন ফেরান-ইয়ামালরা

Update Time : ০৯:৩৭:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ঢাকা ডেস্ক:

স্পেনের তিকি-তাকার কাছে ম্লান হয়ে গেল লিওনেল মেসির জাদু। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে আছড়ে পড়ল লাল সমুদ্র। স্প্যানিশ সমর্থকদের গর্জনে তখন কান পাতা দায়। বিশ্বজয়ের আনন্দে ফেরান তোরেস, লামিন ইয়ামাল, পেদ্রি, রদ্রিরা তখন পাগলপারা। মাঠজুড়ে উল্লাসে মেতে উঠেছেন তারা। তবে আর্জেন্টিনার ডাগআউটের সামনে এসে থমকে গেলেন তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল। দেখা গেল, লিওনেল মেসি মুখ ঢেকে বসে আছেন। নিজের আদর্শকে এভাবে দেখে হয়তো খারাপ লাগছিল এই স্প্যানিশ তরুণ তুর্কির। আলতো করে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিলেন মেসিকে। আর্জেন্টাইন অধিনায়কও পাল্টা জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানালেন ইয়ামালকে। হয়তো কানে কানে বলে দিলেন, ‘অনেক দূর যাবে তুমি।’

ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ অংশ নিয়েই বিশ্বজয়—মুখের কথা নয়। তবে সেটিই করে দেখালেন ১৭ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল। স্পেনের দে লা ফুয়েন্তের এই তরুণ দল জাভি-ইনিয়েস্তাদের পর পর ইউরো ও বিশ্বকাপ জয়ের সেই ঐতিহাসিক কীর্তির পুনরাবৃত্তি ঘটাল। আর এই স্প্যানিশ আর্মাডার মূল শক্তি ছিল যৌথ দলীয় প্রচেষ্টা।

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে উচ্ছ্বসিত ইয়ামাল বলেন, ‘সেমিফাইনালের আগে বলেছিলাম এই স্পেনকে ফ্রান্স ভয় পায়। তখন অনেকেই একে আমাদের ঔদ্ধত্য বলেছিল। তবে আমরা এসবে কান দিইনি। শেষ চারে ফ্রান্সকে হারানোর পর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে লড়াইটা সহজ ছিল না। ওরা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, তার ওপর দলে মেসির মতো বিশ্বসেরা তারকা ছিলেন। তবে ফুটবল দেবতা আমাদের সহায় ছিলেন। শেষ হাসি হাসতে পেরে আমি আপ্লুত।’

মেসি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ইয়ামাল। তিনি যোগ করেন, ‘আমার চোখে মেসিই সর্বকালের সেরা। ওনাকে দেখেই আমরা বড় হয়েছি। তাই লিওর বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলাটা আমার কাছে অনেক গর্বের। আর সেই ম্যাচে জিতে অনুভূতি কেমন হচ্ছে, তা বলে বোঝাতে পারব না। এখন শুধুই উদযাপনের সময়।’ কথা শেষ হওয়ার আগেই সতীর্থ কুবার্সি ও ফেরান তোরেসরা বড় স্পিকার নিয়ে হাজির হন। ড্রেসিংরুমের পথে গান গেয়ে কোমর দোলাতে দোলাতে এগিয়ে যান তারা।

লামিন ইয়ামালের পাশাপাশি বলতে হয় রদ্রির কথাও। পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে স্পেনের মাঝমাঠের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন তিনি। ফাইনালেও মেসি-আলভারেজদের আক্রমণ রুখে দিয়ে স্পেনকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে বড় ভূমিকা রাখেন। ম্যাচ শেষে রদ্রি বলেন, ‘কী যে অনুভূতি হচ্ছে, তা বোঝানোর ভাষা নেই। দলের প্রতিটি ফুটবলারের জন্য আমি গর্বিত। মেসির আর্জেন্টিনাকে হারানো মোটেও সহজ ছিল না, তবে আমরা পেরেছি।’

শিষ্যদের এই ঐতিহাসিক অর্জনে আপ্লুত স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও। তিনি বলেন, ‘সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। ছেলেদের জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। এই বিশ্বজয়ের গল্প ফুটবলের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’