Dhaka ১২:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

উত্তরাঞ্চলে সনাতন পদ্ধতিতে সেচ: সাশ্রয় হচ্ছে জ্বালানি, মিটছে ৩০ হাজার হেক্টর জমির পানির চাহিদা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৩:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • ১৪২ Time View

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা

উত্তরের কৃষকরা ফসল ফলাতে আধুনিক যান্ত্রিক পাম্পের পাশাপাশি ভরসা রাখছেন সনাতন সেচ পদ্ধতির ওপর। আশপাশের বিল, ডোবা ও পুকুরের পানি কাজে লাগিয়ে তারা ফসলের খেত সতেজ রাখছেন। এতে কৃষকের সেচ খরচ কমার পাশাপাশি সাশ্রয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ।

সবুজ ধানক্ষেতের বুক চিরে বয়ে যাওয়া নালা বা নিচু জলাশয় থেকে দড়ি বাঁধা টিন বা চামড়ার তৈরি ‘সেউতি’ দিয়ে ইরি জমিতে পানি দিচ্ছেন চাষিরা। দুই প্রান্তে দুজন দাঁড়িয়ে ছন্দবদ্ধভাবে নিচু জলাশয় থেকে উঁচুতে থাকা ফসলের মাঠে পানি ছিটিয়ে দেওয়ার এই চিরায়ত দৃশ্য উত্তরের অনেক গ্রামেই এখন চোখে পড়ছে।

রংপুর বিভাগীয় কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরের চাষিরা নিচু জমি, খাল-বিল, ডোবা ও পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করে অন্তত ৩০ হাজার হেক্টর জমির পানির চাহিদা মেটাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অঞ্চলের প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে বা সনাতন পদ্ধতিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। শ্যালো মেশিন বা যান্ত্রিক সেচযন্ত্রের ব্যবহার না থাকায় কৃষকদের ডিজেল বা বিদ্যুতের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী এই সেচ পদ্ধতি কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর যখন আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে, তখন ভূপৃষ্ঠের প্রাকৃতিক জলাশয়ের পানির এমন ব্যবহার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দারুণ ভূমিকা রাখছে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গোবিন্দগঞ্জে বিষাক্ত মদপানে যুবকের মৃত্যু, অসুস্থ ২

উত্তরাঞ্চলে সনাতন পদ্ধতিতে সেচ: সাশ্রয় হচ্ছে জ্বালানি, মিটছে ৩০ হাজার হেক্টর জমির পানির চাহিদা

Update Time : ১০:৩৩:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা

উত্তরের কৃষকরা ফসল ফলাতে আধুনিক যান্ত্রিক পাম্পের পাশাপাশি ভরসা রাখছেন সনাতন সেচ পদ্ধতির ওপর। আশপাশের বিল, ডোবা ও পুকুরের পানি কাজে লাগিয়ে তারা ফসলের খেত সতেজ রাখছেন। এতে কৃষকের সেচ খরচ কমার পাশাপাশি সাশ্রয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ।

সবুজ ধানক্ষেতের বুক চিরে বয়ে যাওয়া নালা বা নিচু জলাশয় থেকে দড়ি বাঁধা টিন বা চামড়ার তৈরি ‘সেউতি’ দিয়ে ইরি জমিতে পানি দিচ্ছেন চাষিরা। দুই প্রান্তে দুজন দাঁড়িয়ে ছন্দবদ্ধভাবে নিচু জলাশয় থেকে উঁচুতে থাকা ফসলের মাঠে পানি ছিটিয়ে দেওয়ার এই চিরায়ত দৃশ্য উত্তরের অনেক গ্রামেই এখন চোখে পড়ছে।

রংপুর বিভাগীয় কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরের চাষিরা নিচু জমি, খাল-বিল, ডোবা ও পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করে অন্তত ৩০ হাজার হেক্টর জমির পানির চাহিদা মেটাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অঞ্চলের প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে বা সনাতন পদ্ধতিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। শ্যালো মেশিন বা যান্ত্রিক সেচযন্ত্রের ব্যবহার না থাকায় কৃষকদের ডিজেল বা বিদ্যুতের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী এই সেচ পদ্ধতি কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর যখন আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে, তখন ভূপৃষ্ঠের প্রাকৃতিক জলাশয়ের পানির এমন ব্যবহার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দারুণ ভূমিকা রাখছে।