Dhaka ০১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১৬ বামনডাঙ্গা জনতা ব্যাংকে প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণ গাইবান্ধায় টেলিভিশন রিপোর্টিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোবিন্দগঞ্জে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির জালে জব্বার সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ আব্বাসউদ্দীনের জন্মবার্ষিকীতে ভাওয়াইয়া আসর: ও মোর কালারে কালা পঞ্চগড়ের আকাশে মায়াবী কাঞ্চনজঙ্ঘা, মেঘ সরতেই ধরা দিল হিমালয়ের রূপালি মুকুট ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে ১১ ও হাম উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু দিনাজপুরকে একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

এক হাতে বই, অন্য হাতে শাকের আঁটি: পঞ্চগড়ের সংগ্রামী কিশোর রেজাউল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬৭ Time View

মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়:

বয়সটা যখন কেবল খেলার মাঠে মেতে ওঠার আর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় শৈশবকে উপভোগ করার, তখন একমুঠো শাকের আঁটি হাতে বাজারের ভিড়ে দাঁড়িয়ে জীবনযুদ্ধ শিখছে সপ্তম শ্রেণির এক কিশোর।

এক হাতে বইয়ের ভার, অন্য হাতে জীবিকার টান-এই দুইয়ের মেলবন্ধনে প্রতিদিনের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে মোঃ রেজাউল করিম। পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১ নম্বর অমরখানা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত ছোট কামাত এলাকার এই কিশোর স্থানীয় শালমারা ভিতরগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী (শ্রেণি রোল ৫৫)।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পঞ্চগড় বাজারের আলো-আঁধারিতে এক কোণে বসে মনোযোগ দিয়ে ঢেঁকিশাক বিক্রি করতে দেখা যায় ছোট্ট রেজাউলকে। বিল-ঝাড় আর মেঠোপথ ঘুরে নিজের হাতেই এই শাক তুলে এনে বাজারে নিয়ে এসেছে সে।

রেজাউলের এই লড়াই কোনো শখের নয়, বরং তীব্র এক পারিবারিক বাস্তবতা। তার বাবা মোঃ আব্দুল মতিন একজন বাক্প্রতিবন্ধী, যিনি দিনমজুরি করে কোনোমতে দিন গুজরান করেন। মা-ও শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ নন; তাঁর একটি চোখে আলো নেই। এমন একটি ঘরে বড় হওয়া রেজাউল খুব অল্প বয়সেই বুঝে গেছে দায়িত্বের ওজন। বাবার মুখের অব্যক্ত কষ্ট আর সংসারের টানাপোড়েন দেখে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারেনি সে।

স্কুলের ক্লাসরুম থেকে সোজা মেঠোপথে শাক তোলা, আর সন্ধ্যা নামতেই বাজারে বসা—রেজাউলের এই সংগ্রামী রূপ দেখে বাজারের ক্রেতা ও পথচারীদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

উপস্থিত সচেতন মহলের মতে, এই বয়সে শৈশব হারিয়ে যাওয়া এবং পড়াশোনার সময় জীবিকার পেছনে ছোটা কোনো শিশুর জন্যই কাম্য নয়। রেজাউলের মেধা ও অদম্য ইচ্ছা যেন দারিদ্র্যের বেড়াজালে পিষ্ট না হয়, সে জন্য পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দ্রুত সহায়তার হাত বাড়ানো প্রয়োজন।

বিষয়টি নজরে এলে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা জানান, “আমি শিশুটির পরিবারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি। তার পড়াশোনা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সুন্দরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১৬

এক হাতে বই, অন্য হাতে শাকের আঁটি: পঞ্চগড়ের সংগ্রামী কিশোর রেজাউল

Update Time : ০২:২৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়:

বয়সটা যখন কেবল খেলার মাঠে মেতে ওঠার আর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় শৈশবকে উপভোগ করার, তখন একমুঠো শাকের আঁটি হাতে বাজারের ভিড়ে দাঁড়িয়ে জীবনযুদ্ধ শিখছে সপ্তম শ্রেণির এক কিশোর।

এক হাতে বইয়ের ভার, অন্য হাতে জীবিকার টান-এই দুইয়ের মেলবন্ধনে প্রতিদিনের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে মোঃ রেজাউল করিম। পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১ নম্বর অমরখানা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত ছোট কামাত এলাকার এই কিশোর স্থানীয় শালমারা ভিতরগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী (শ্রেণি রোল ৫৫)।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পঞ্চগড় বাজারের আলো-আঁধারিতে এক কোণে বসে মনোযোগ দিয়ে ঢেঁকিশাক বিক্রি করতে দেখা যায় ছোট্ট রেজাউলকে। বিল-ঝাড় আর মেঠোপথ ঘুরে নিজের হাতেই এই শাক তুলে এনে বাজারে নিয়ে এসেছে সে।

রেজাউলের এই লড়াই কোনো শখের নয়, বরং তীব্র এক পারিবারিক বাস্তবতা। তার বাবা মোঃ আব্দুল মতিন একজন বাক্প্রতিবন্ধী, যিনি দিনমজুরি করে কোনোমতে দিন গুজরান করেন। মা-ও শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ নন; তাঁর একটি চোখে আলো নেই। এমন একটি ঘরে বড় হওয়া রেজাউল খুব অল্প বয়সেই বুঝে গেছে দায়িত্বের ওজন। বাবার মুখের অব্যক্ত কষ্ট আর সংসারের টানাপোড়েন দেখে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারেনি সে।

স্কুলের ক্লাসরুম থেকে সোজা মেঠোপথে শাক তোলা, আর সন্ধ্যা নামতেই বাজারে বসা—রেজাউলের এই সংগ্রামী রূপ দেখে বাজারের ক্রেতা ও পথচারীদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

উপস্থিত সচেতন মহলের মতে, এই বয়সে শৈশব হারিয়ে যাওয়া এবং পড়াশোনার সময় জীবিকার পেছনে ছোটা কোনো শিশুর জন্যই কাম্য নয়। রেজাউলের মেধা ও অদম্য ইচ্ছা যেন দারিদ্র্যের বেড়াজালে পিষ্ট না হয়, সে জন্য পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দ্রুত সহায়তার হাত বাড়ানো প্রয়োজন।

বিষয়টি নজরে এলে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা জানান, “আমি শিশুটির পরিবারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি। তার পড়াশোনা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”