Dhaka ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মা আমি বেঁচে আছি: ইউক্রেনের বন্দী শিবির থেকে ভেসে এলে গাইবান্ধার রিমেলের কণ্ঠ পীরগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু কোরআন অবমাননার দায়ে সাদুল্লাপুরে আবু হানিফ নামে এক যুবক গ্রেপ্তার মেঘদূতের বর্ষার আয়োজন: আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে  জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গাইবান্ধায় জামায়াতের বিক্ষোভ  পর্নোগ্রাফির অভিযোগে গেবিন্দগঞ্জে নারীসহ ৪ জন গ্রেপ্তার পল্লীগীতির কণ্ঠশিল্পী আব্দুল আলীমের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধায় ‘শোন গো রূপসী কন্যা’ বগুড়ায় বিয়ের গেটে বকশিশের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৩ নেপালে ধর্মীয় সহিংসতায় নিহত-৩, আহত-২৫, কারফিউ জারি খোলা বাজারে সরকারি বীজ বিক্রির দায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড

গাইবান্ধায় নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি: ২৬ আসামির ২ দিনের রিমান্ড

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০৮:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮৪ Time View

প্রতিনিধি, গাইবান্ধা

গাইবান্ধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ জালিয়াতির ঘটনায় সদর থানায় দায়ের করা মামলায় আটক ২৬ আসামির প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সোহান অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের প্রত্যেকের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের জন্য দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ডিবি সূত্র জানায়, রিমান্ডে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই জালিয়াতি চক্রের মূল নেটওয়ার্ক উন্মোচনের চেষ্টা করা হবে। বিশেষ করে ডিভাইস সরবরাহকারী, পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে চুক্তি করা মধ্যস্বত্বভোগী, প্রশ্ন সমাধানকারী এবং বাইরে থেকে রিয়েল-টাইম সাপোর্ট দেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে জোর তদন্ত চালানো হবে। এছাড়া পরীক্ষার আগে ও চলাকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থের লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখবে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা সদর থানায় দায়ের করা এ মামলায় মোট আসামি ৪০ জন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার ২৬ জন পুরুষ আসামিকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হয়। তবে মানবিক বিবেচনায় এবং শিশু সন্তানের বিষয়টি মাথায় রেখে মামলার ১১ জন নারী আসামির ক্ষেত্রে রিমান্ড আবেদন করা হয়নি। এছাড়া মামলার এজহারভুক্ত তিন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।

গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘রিমান্ডে এনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আমরা পুরো চক্রের মুখোশ উন্মোচনের চেষ্টা করবো। কারা ডিভাইস সরবরাহ করেছে, কারা বাইরে থেকে প্রশ্ন সমাধান করেছে এবং কারা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছে-সব তথ্য বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

সদর ছাড়াও পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ মোট ৫২ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তিন থানায় মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে সদর থানার মামলাটি ডিবি তদন্ত করলেও পলাশবাড়ী থানার তিনটি মামলা তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, ‘আমাদের তিনটি মামলায় ৪ নারীসহ ১২ জন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে ৯ জনের ৭ দিন এবং ৩ জনের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত এখনো শুনানির তারিখ দেননি। আশা করছি, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করবেন।’

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলার সাথে গাইবান্ধাতেও প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার ৪৩টি কেন্দ্রে ৪০০-এর অধিক শূন্য পদের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ২৭ হাজার ৬৮৮ জন। বারবার নিয়োগ পরীক্ষায় এমন জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসায় নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মূলহোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলেই ভবিষ্যতে এমন জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মা আমি বেঁচে আছি: ইউক্রেনের বন্দী শিবির থেকে ভেসে এলে গাইবান্ধার রিমেলের কণ্ঠ

গাইবান্ধায় নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি: ২৬ আসামির ২ দিনের রিমান্ড

Update Time : ০৪:০৮:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

প্রতিনিধি, গাইবান্ধা

গাইবান্ধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ জালিয়াতির ঘটনায় সদর থানায় দায়ের করা মামলায় আটক ২৬ আসামির প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সোহান অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের প্রত্যেকের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের জন্য দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ডিবি সূত্র জানায়, রিমান্ডে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই জালিয়াতি চক্রের মূল নেটওয়ার্ক উন্মোচনের চেষ্টা করা হবে। বিশেষ করে ডিভাইস সরবরাহকারী, পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে চুক্তি করা মধ্যস্বত্বভোগী, প্রশ্ন সমাধানকারী এবং বাইরে থেকে রিয়েল-টাইম সাপোর্ট দেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে জোর তদন্ত চালানো হবে। এছাড়া পরীক্ষার আগে ও চলাকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থের লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখবে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা সদর থানায় দায়ের করা এ মামলায় মোট আসামি ৪০ জন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার ২৬ জন পুরুষ আসামিকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হয়। তবে মানবিক বিবেচনায় এবং শিশু সন্তানের বিষয়টি মাথায় রেখে মামলার ১১ জন নারী আসামির ক্ষেত্রে রিমান্ড আবেদন করা হয়নি। এছাড়া মামলার এজহারভুক্ত তিন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।

গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘রিমান্ডে এনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আমরা পুরো চক্রের মুখোশ উন্মোচনের চেষ্টা করবো। কারা ডিভাইস সরবরাহ করেছে, কারা বাইরে থেকে প্রশ্ন সমাধান করেছে এবং কারা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছে-সব তথ্য বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

সদর ছাড়াও পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ মোট ৫২ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তিন থানায় মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে সদর থানার মামলাটি ডিবি তদন্ত করলেও পলাশবাড়ী থানার তিনটি মামলা তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, ‘আমাদের তিনটি মামলায় ৪ নারীসহ ১২ জন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে ৯ জনের ৭ দিন এবং ৩ জনের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত এখনো শুনানির তারিখ দেননি। আশা করছি, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করবেন।’

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলার সাথে গাইবান্ধাতেও প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার ৪৩টি কেন্দ্রে ৪০০-এর অধিক শূন্য পদের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ২৭ হাজার ৬৮৮ জন। বারবার নিয়োগ পরীক্ষায় এমন জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসায় নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মূলহোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলেই ভবিষ্যতে এমন জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে।