Dhaka ০৯:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বগুড়ায় বিয়ের গেটে বকশিশের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৩ নেপালে ধর্মীয় সহিংসতায় নিহত-৩, আহত-২৫, কারফিউ জারি খোলা বাজারে সরকারি বীজ বিক্রির দায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড গোবিন্দগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার সাঁতরে পার হওয়ার সময় বাঙালি নদীতে এক বৃদ্ধ নিখোঁজ ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ সাঘাটায় বিদেশে পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

গাইবান্ধায় প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ করেন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০২ Time View

আফতাব হোসেন:
গাইবান্ধা জেলায় স্যানিটেশন ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতির কারণে প্রতিদিন অন্তত ১ লাখ ১১ হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে উন্মুক্ত স্থানে অথবা ঝোপঝাড়ে মলত্যাগ করছেন। জেলার সাতটি উপজেলার অন্তত ২৭ হাজার পরিবারের নিজস্ব কোনো ল্যাট্রিন বা টয়লেট সুবিধা । বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র।
পরিসংখ্যান ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধা জেলায় মোট পরিবারের সংখ্যা ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৩২০টি। এর মধ্যে প্র ৩.৭৪ শতাংশ অর্থাৎ ২৫ হাজর ৮শ পরিবারে কোনো ধরণের টয়লেট সুবিধা নেই। এই হিসেবে জেলার ১ লাখ ৫ হাজার মানুষ প্রতিদিন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উন্মুক্ত স্থানে প্রাকৃতিক কাজ সারছেন।
আবার যাদের টয়লেট আছে, তাদের মধ্যেও ১২ শতাংশ পরিবারের টয়লেট ব্যবস্থা অনিরাপদ। এছাড়া জেলার ৩২ শতাংশ পরিবার অন্য পরিবারের সাথে যৌথভাবে টয়লেট ব্যবহার করে। স্যানিটেশন সুবিধায় উপজেলাভিত্তিক বৈষম্যও প্রকট পলাশবাড়ি উপজেলায় সর্বোচ্চ ৬১.৬৮ শতাংশ পরিবার নিরাপদ টয়লেট ব্যবহার করলেও, ফুলছড়ি উপজেলায় এই হার মাত্র ২৯.৮০ শতাংশ।
চরের মানুষের দুর্ভোগ ও কারণ সরেজমিনে দেখা যায়, মূলত দারিদ্র্য এবং বারবার নদীভাঙনের কারণে বাড়িঘর টানাটানিতে চরাঞ্চলের মানুষ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারছেন না। সাঘাটা উপজেলার কালুরপাড়া হালিমা বেগম বলেন, ‘এক বছরে তিনবার নদীভাঙনে ঘর সরাতে পারলেও টয়লেটের রিং-স্লাব সরাতে পারিনি। তাই বাধ্য হয়ে কাশবনে গিয়ে কাজ সারতে হয়।’ একই গ্রামের মানিকজান বেওয়া বলেন, ‘ভিক্ষা করে সংসার চালাই, ল্যাট্রিন বসানোর সামর্থ্য নেই। বাধ্য হয়ে কোনো কোনো সময়ে অন্যের বাড়িতে বা খোলা স্থানে যেতে হয়। তবে নারীদের জন্য এটি বেশ সমস্যার।’
ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর চরের শফিকুল ইসলাম জানান, পেটের ভাত জোগানো যেখানে কঠিন এবং প্রতিবছর বন্যয় ঘরবাড়ি ভাঙাগড়ার মধ্যে থাকতে হয়, সেখানে ল্যাট্রিন নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ তাদের থাকে না।
সাঘাটা হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান. চরাঞ্চলের প্রধান সমস্যা বন্যা ও নদীভাঙন। ইউনিয়ন পরিষদ ও এনজিও থেকে ল্যাট্রিন দেওয়া হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে তা টেকে না। এ কারণেই সাঘাটা ও ফুলছড়ির চরাঞ্চলে স্যানিটেশন ব্যবস্থা সবচেয়ে নিম্নমানের।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস সালাম বলেন, ‘চরাঞ্চলের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এমন ল্যাট্রিন স্থাপন করতে হবে, যা ভাঙনের সময় সহজে সরিয়ে নেওয়া যায়। শুধু বড় বন্যার দিকে তাকিয়ে না থেকে বন্যা পরবর্তী সময়ে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ল্যাট্রিন মেরামত ও সংস্কারে জোর দিতে হবে।’
গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, ‘স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে রোগবালাই কমবে না। অস্বাস্থ্যকর পায়খানা ব্যবহারের ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রোগব্যাধির সংখ্যা বাড়ছে।’
গাইবান্ধা জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার চারটি উপজেলার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ নদী ও চরাঞ্চলে বাস করে। বন্যায় ল্যাট্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সামর্থ্য না থাকায় অনেকেই তা মেরামত করতে পারেন না।
তবে চরাঞ্চল ছাড়াও মেইনল্যান্ডের দরিদ্র পরিবারেও স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন নেই এমন চিত্র অনেক। এজন্য স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে চলমান রাখার অনুরোধ করেন ভুক্তভোগীরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বগুড়ায় বিয়ের গেটে বকশিশের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৩

গাইবান্ধায় প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ করেন

Update Time : ১২:৫৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আফতাব হোসেন:
গাইবান্ধা জেলায় স্যানিটেশন ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতির কারণে প্রতিদিন অন্তত ১ লাখ ১১ হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে উন্মুক্ত স্থানে অথবা ঝোপঝাড়ে মলত্যাগ করছেন। জেলার সাতটি উপজেলার অন্তত ২৭ হাজার পরিবারের নিজস্ব কোনো ল্যাট্রিন বা টয়লেট সুবিধা । বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র।
পরিসংখ্যান ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধা জেলায় মোট পরিবারের সংখ্যা ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৩২০টি। এর মধ্যে প্র ৩.৭৪ শতাংশ অর্থাৎ ২৫ হাজর ৮শ পরিবারে কোনো ধরণের টয়লেট সুবিধা নেই। এই হিসেবে জেলার ১ লাখ ৫ হাজার মানুষ প্রতিদিন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উন্মুক্ত স্থানে প্রাকৃতিক কাজ সারছেন।
আবার যাদের টয়লেট আছে, তাদের মধ্যেও ১২ শতাংশ পরিবারের টয়লেট ব্যবস্থা অনিরাপদ। এছাড়া জেলার ৩২ শতাংশ পরিবার অন্য পরিবারের সাথে যৌথভাবে টয়লেট ব্যবহার করে। স্যানিটেশন সুবিধায় উপজেলাভিত্তিক বৈষম্যও প্রকট পলাশবাড়ি উপজেলায় সর্বোচ্চ ৬১.৬৮ শতাংশ পরিবার নিরাপদ টয়লেট ব্যবহার করলেও, ফুলছড়ি উপজেলায় এই হার মাত্র ২৯.৮০ শতাংশ।
চরের মানুষের দুর্ভোগ ও কারণ সরেজমিনে দেখা যায়, মূলত দারিদ্র্য এবং বারবার নদীভাঙনের কারণে বাড়িঘর টানাটানিতে চরাঞ্চলের মানুষ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারছেন না। সাঘাটা উপজেলার কালুরপাড়া হালিমা বেগম বলেন, ‘এক বছরে তিনবার নদীভাঙনে ঘর সরাতে পারলেও টয়লেটের রিং-স্লাব সরাতে পারিনি। তাই বাধ্য হয়ে কাশবনে গিয়ে কাজ সারতে হয়।’ একই গ্রামের মানিকজান বেওয়া বলেন, ‘ভিক্ষা করে সংসার চালাই, ল্যাট্রিন বসানোর সামর্থ্য নেই। বাধ্য হয়ে কোনো কোনো সময়ে অন্যের বাড়িতে বা খোলা স্থানে যেতে হয়। তবে নারীদের জন্য এটি বেশ সমস্যার।’
ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর চরের শফিকুল ইসলাম জানান, পেটের ভাত জোগানো যেখানে কঠিন এবং প্রতিবছর বন্যয় ঘরবাড়ি ভাঙাগড়ার মধ্যে থাকতে হয়, সেখানে ল্যাট্রিন নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ তাদের থাকে না।
সাঘাটা হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান. চরাঞ্চলের প্রধান সমস্যা বন্যা ও নদীভাঙন। ইউনিয়ন পরিষদ ও এনজিও থেকে ল্যাট্রিন দেওয়া হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে তা টেকে না। এ কারণেই সাঘাটা ও ফুলছড়ির চরাঞ্চলে স্যানিটেশন ব্যবস্থা সবচেয়ে নিম্নমানের।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস সালাম বলেন, ‘চরাঞ্চলের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এমন ল্যাট্রিন স্থাপন করতে হবে, যা ভাঙনের সময় সহজে সরিয়ে নেওয়া যায়। শুধু বড় বন্যার দিকে তাকিয়ে না থেকে বন্যা পরবর্তী সময়ে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ল্যাট্রিন মেরামত ও সংস্কারে জোর দিতে হবে।’
গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, ‘স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে রোগবালাই কমবে না। অস্বাস্থ্যকর পায়খানা ব্যবহারের ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রোগব্যাধির সংখ্যা বাড়ছে।’
গাইবান্ধা জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার চারটি উপজেলার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ নদী ও চরাঞ্চলে বাস করে। বন্যায় ল্যাট্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সামর্থ্য না থাকায় অনেকেই তা মেরামত করতে পারেন না।
তবে চরাঞ্চল ছাড়াও মেইনল্যান্ডের দরিদ্র পরিবারেও স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন নেই এমন চিত্র অনেক। এজন্য স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে চলমান রাখার অনুরোধ করেন ভুক্তভোগীরা।