
স্টাফ রিপোর্টার: একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা পেলে দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিবর্তন আনতে পারে কি না, সেটা দেখা এবং সেই সুযোগ তৈরি করা। ছোট ছোট ধাপে যে বিনিয়োগ করা কঠিন, বড় একটি অঙ্কে তা সম্ভব হয়। যেমন ঘর মেরামত বা টিনের চালা, গবাদিপশু বা ব্যবসা, সন্তানের পড়াশোনা, ঋণ পরিশোধ ও সঞ্চয়। এর ফলে, পরিবারের আয়, সম্পদ ও খাবারের নিশ্চয়তা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে ভোগ বাড়বে। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। ভবিষ্যতের ধাক্কা, যেমন বন্যা বা অসুস্থতা, সামলানোর সক্ষমতা বাড়বে। স্থানীয় বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। যেমনঃ স্থানীয় ব্যবসার আয় ও কর্মসংস্থান বাড়বে।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইউএসএ ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গিভডিরেক্টলি’র সহযোগিতায় গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) ‘চয়েস, হোপ এ্যান্ড রেসিলিয়েন্স (চর) বাংলাদেশ পাইলট প্রকল্প’ হাতে নিয়েছে। পাইলট ফেজে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি, ফজলুপুর, এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়ন এবং সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে মোট ৮ হাজার ৫শ জনকে শর্তবিহীন ৬০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে। যার মোট পরিমাণ ৫১ কোটি টাকা।
রবিবার (৮ নভেম্বর) সকালে জিইউকে রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্ সালাম। এ সময় সংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান, ১ম কিস্তিতে চলতি নভেম্বর মাসে প্রত্যেককে ৯ হাজার এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে আগামী ডিসেম্বর মাসে ৫১ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম নির্ধারণ করে ১০০% হাউজহোল্ডকে এই জরিপের আওতায় আনা হয়েছে এবং হাউজহোল্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসরত ১৮+ সকল সদস্য জরিপে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রত্যেক পরিবার তার নিজের প্রয়োজন সবচেয়ে ভালো জানে। তাই কোন খাতে টাকা খরচ হবে, তা তারাই ঠিক করবেন। আমরা কোনো খাত বা শর্ত ঠিক করে দিই না। শর্তহীন টাকা পরিবারকে নিজের জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ দেয়। এতে তারা পরিকল্পনা করতে, ঝুঁকি নিতে এবং ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করতে পারে। শর্ত না থাকায় বাড়তি বাধা, জটিলতা ও খরচ কমে। টাকা সরাসরি পরিবারের কাছে পৌঁছায়।
তিনি বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ৮ হাজার মানুষকে আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং ওই জনপদকে একটি অগ্রসর জনপদ ও মূলধারার উন্নয়ন কাঠামোতে প্রবেশ নিশ্চিত করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের (জিইউকে) পরিচালক আবু সায়েম মো. জান্নাতুন নূর রিশাত ও গিভডিরেক্টলি’র এ্যাসোসিয়েট ফিল্ড ম্যানেজার মো. রাশেদুল ইসলাম। সংস্থার পক্ষে প্রকল্পটি সমন্বয় করছেন সহকারি সমন্বয়কারী জয়া প্রসাদ।

Reporter Name 















