Dhaka ০৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাদুল্লাপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন নিখোঁজ স্ত্রীর সন্ধান চায় স্বামী মৌলভীবাজার ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন ফুলছড়িতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ইউপি সদস্য গ্রেফতার মে দিবস: উত্তরাঞ্চলে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে সংশয় দেশজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার জরুরি সতর্কবার্তা চিলমারীতে কাজ শেষ না হতেই বৃষ্টির পানিতে মাটি সরে হুমকির মুখে নির্মাণাধীন ভবন জাল সনদে ২০ বছর চাকরি, ১৪ লাখ টাকা ফেরতের নির্দেশ সাদুল্লাপুরের সেই মেধাবী যমজ বোনের পাশে ইউএনও কমছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা: ব্যয় বৃদ্ধি ও ইরান ইস্যুতে বাড়ছে অসন্তোষ  সাপাহারে দেড় হাজার পরিবার ও শিক্ষার্থীর মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

চিলমারীতে কাজ শেষ না হতেই বৃষ্টির পানিতে মাটি সরে হুমকির মুখে নির্মাণাধীন ভবন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৮ Time View

গোলাম মাহবুব,চিলমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অবস্থিত গোলাম হাবিব মহিলা ডিগ্রী কলেজ ক্যাম্পাসে দূর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্রের(পূর্বের নাম মুজিবকেল্লা) ভবন নির্মান কাজ শুরুর ৪বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। কাজটি হেলায় ফেলে রাখায় সম্প্রতি বৃষ্টির পানিতে নিচের মাটি সরে গিয়ে নির্মাণাধীন ভবন হুমকির মুখে রয়েছে। জেলার প্রথম দূর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র (মুজিবকেল্লা) ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন চলে যাওয়ায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে। প্রকল্পের কাজ শুরুর নামে বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী ও তৈরীকৃত ব্লক যত্রতত্র ফেলে রাখায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিসহ পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবী।
জানা গেছে,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধিনে মুজিব কিল্লা নির্মাণ,সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কুড়িগ্রাম জেলাধীন চিলমারী উপজেলার গোলাম হাবিব মহিলা ডিগ্রী কলেজ মাঠে মুজিব কেল্লা ভবন নির্মাণ কাজ শুরুর আদেশ দেয়া হয় ২০২২সালের ১৫জুন তারিখে। পরবর্তীতে মুজিব কেল্লার নাম পরিবর্তন করে প্রকল্পের নাম রাখা হয় দূর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র। প্রকল্পের ১৬০ফুট দৈর্ঘ ও ৫০ফুট প্রস্তের ১টি ভবন নির্মাণ,পাশ্ব রাস্তা নির্মাণ,চার পাশে ব্লক দিয়ে বাগান তৈরীসহ আনুষঙ্গিক নির্মাণ কাজের জন্য লালমনিরহাট আদিতমারী এলাকাস্থ মেসার্স আব্দুল হাকিম নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজের চুক্তি হয় ২কোটি ৪৯লক্ষ ৩২হাজার ৭০৫টাকা।ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে জেলার রৌমারী উপজেলাস্থ হামিদুর রহমান নামের এক ঠিকাদার কাজটি নেন। দূর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র(মুজিবকেল্লা) নির্মাণ কাজ ২০২২সালের ৩০নভেম্বর তারিখে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন বিগত প্রায় ৪বছরেও কাজ শেষ না করে নির্মাণ সামগ্রীসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো ভাবে ফেলে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।সম্প্রতি বৃষ্টির পানিতে ভবনের পাশ্বের মাটি সরে গিয়ে নির্মাণাধীন ভবনটি হুমকির মুখে রয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের কাজ শুরুর নামে বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী ও তৈরীকৃত ব্লক যত্রতত্র ফেলা রাখায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিসহ পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবী।
সরেজমিনে কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, কলেজ মাঠের যত্রতত্র পড়ে আছে তৈরীকৃত ব্লকসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী। পূর্ব-পশ্চিমে দীর্ঘ নির্মাণাধীন ভবনটির অনেক কাজ না করে ফেলে রাখা হয়েছে। কলেজের শ্রেণী পাঠদানের দুই কক্ষের একটি ভবন ঠিকাদারের লোকজন থাকার কাজে ব্যবহার করেছিল যা বন্ধ রাখা হয়েছে।এবং ক্যাম্পাসে সিমেন্টের গাড়ী নিতে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে কলেজের মুল ফটক।অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে কলেজতো নয় যেন পরিত্যাক্ত কোন ক্যাম্পাস।দীর্ঘ দিন ধরে ঢিলে ঢালা ধির গতিতে নির্মাণ কাজ চলতে থাকলেও গত কয়েক মাস ধরে অজানা কারনে কাজ একেবারেই বন্ধ রয়েছে। সেখানে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কোন লোক কিংবা নিরাপত্তা কর্মিকেও দেখা যায়নি। ভবনটির পূর্বপাশ্বে মাটির কাজ অসমাপ্ত রাখায় চলমান ঘন বৃষ্টিতে নিচের মাটি সরে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যে কোন সময় মাটি সরে ভবন দেবে যাওয়ায় আশঙ্খা করছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানায়,কলেজের ভিতরে দূর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও ঠিকাদারের অবহেলায় কাজটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।নিচের মাটি সরে যাওয়ায় ভবনটি ধসে গেলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ভেস্তে যাবে। দূর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র (মুজিবকেল্লা) কাজে ঠিকাদারের এত অবহেলা কেন?
দূর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র(মুজিবকেল্লা) নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদার হামিদুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
দূর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র(মুজিবকেল্লা) নির্মাণ,সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প কুড়িগ্রামের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে,মেয়াদ বৃদ্ধির পর কাজ করবে।ঠিকাদার আমাদের মুখের কথায় কাজ করছে না। আশা করছি আগামী এক মাসের মধ্যে সব সমাধান হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো.সোহেল রহমান জানান,দূর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্রের(মুজিবকেল্লা) বাকী কাজ সমাপ্ত করতে বারবার বলা সত্বেও ঠিকাদার কাজ ধরছেন না।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাদুল্লাপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন নিখোঁজ স্ত্রীর সন্ধান চায় স্বামী

চিলমারীতে কাজ শেষ না হতেই বৃষ্টির পানিতে মাটি সরে হুমকির মুখে নির্মাণাধীন ভবন

Update Time : ০৫:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

গোলাম মাহবুব,চিলমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অবস্থিত গোলাম হাবিব মহিলা ডিগ্রী কলেজ ক্যাম্পাসে দূর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্রের(পূর্বের নাম মুজিবকেল্লা) ভবন নির্মান কাজ শুরুর ৪বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। কাজটি হেলায় ফেলে রাখায় সম্প্রতি বৃষ্টির পানিতে নিচের মাটি সরে গিয়ে নির্মাণাধীন ভবন হুমকির মুখে রয়েছে। জেলার প্রথম দূর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র (মুজিবকেল্লা) ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন চলে যাওয়ায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে। প্রকল্পের কাজ শুরুর নামে বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী ও তৈরীকৃত ব্লক যত্রতত্র ফেলে রাখায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিসহ পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবী।
জানা গেছে,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধিনে মুজিব কিল্লা নির্মাণ,সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কুড়িগ্রাম জেলাধীন চিলমারী উপজেলার গোলাম হাবিব মহিলা ডিগ্রী কলেজ মাঠে মুজিব কেল্লা ভবন নির্মাণ কাজ শুরুর আদেশ দেয়া হয় ২০২২সালের ১৫জুন তারিখে। পরবর্তীতে মুজিব কেল্লার নাম পরিবর্তন করে প্রকল্পের নাম রাখা হয় দূর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র। প্রকল্পের ১৬০ফুট দৈর্ঘ ও ৫০ফুট প্রস্তের ১টি ভবন নির্মাণ,পাশ্ব রাস্তা নির্মাণ,চার পাশে ব্লক দিয়ে বাগান তৈরীসহ আনুষঙ্গিক নির্মাণ কাজের জন্য লালমনিরহাট আদিতমারী এলাকাস্থ মেসার্স আব্দুল হাকিম নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজের চুক্তি হয় ২কোটি ৪৯লক্ষ ৩২হাজার ৭০৫টাকা।ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে জেলার রৌমারী উপজেলাস্থ হামিদুর রহমান নামের এক ঠিকাদার কাজটি নেন। দূর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র(মুজিবকেল্লা) নির্মাণ কাজ ২০২২সালের ৩০নভেম্বর তারিখে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন বিগত প্রায় ৪বছরেও কাজ শেষ না করে নির্মাণ সামগ্রীসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো ভাবে ফেলে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।সম্প্রতি বৃষ্টির পানিতে ভবনের পাশ্বের মাটি সরে গিয়ে নির্মাণাধীন ভবনটি হুমকির মুখে রয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের কাজ শুরুর নামে বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী ও তৈরীকৃত ব্লক যত্রতত্র ফেলা রাখায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিসহ পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবী।
সরেজমিনে কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, কলেজ মাঠের যত্রতত্র পড়ে আছে তৈরীকৃত ব্লকসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী। পূর্ব-পশ্চিমে দীর্ঘ নির্মাণাধীন ভবনটির অনেক কাজ না করে ফেলে রাখা হয়েছে। কলেজের শ্রেণী পাঠদানের দুই কক্ষের একটি ভবন ঠিকাদারের লোকজন থাকার কাজে ব্যবহার করেছিল যা বন্ধ রাখা হয়েছে।এবং ক্যাম্পাসে সিমেন্টের গাড়ী নিতে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে কলেজের মুল ফটক।অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে কলেজতো নয় যেন পরিত্যাক্ত কোন ক্যাম্পাস।দীর্ঘ দিন ধরে ঢিলে ঢালা ধির গতিতে নির্মাণ কাজ চলতে থাকলেও গত কয়েক মাস ধরে অজানা কারনে কাজ একেবারেই বন্ধ রয়েছে। সেখানে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কোন লোক কিংবা নিরাপত্তা কর্মিকেও দেখা যায়নি। ভবনটির পূর্বপাশ্বে মাটির কাজ অসমাপ্ত রাখায় চলমান ঘন বৃষ্টিতে নিচের মাটি সরে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যে কোন সময় মাটি সরে ভবন দেবে যাওয়ায় আশঙ্খা করছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানায়,কলেজের ভিতরে দূর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও ঠিকাদারের অবহেলায় কাজটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।নিচের মাটি সরে যাওয়ায় ভবনটি ধসে গেলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ভেস্তে যাবে। দূর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র (মুজিবকেল্লা) কাজে ঠিকাদারের এত অবহেলা কেন?
দূর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র(মুজিবকেল্লা) নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদার হামিদুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
দূর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র(মুজিবকেল্লা) নির্মাণ,সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প কুড়িগ্রামের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে,মেয়াদ বৃদ্ধির পর কাজ করবে।ঠিকাদার আমাদের মুখের কথায় কাজ করছে না। আশা করছি আগামী এক মাসের মধ্যে সব সমাধান হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো.সোহেল রহমান জানান,দূর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্রের(মুজিবকেল্লা) বাকী কাজ সমাপ্ত করতে বারবার বলা সত্বেও ঠিকাদার কাজ ধরছেন না।