Dhaka ০৮:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাদুল্লাপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন নিখোঁজ স্ত্রীর সন্ধান চায় স্বামী মৌলভীবাজার ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন ফুলছড়িতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ইউপি সদস্য গ্রেফতার মে দিবস: উত্তরাঞ্চলে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে সংশয় দেশজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার জরুরি সতর্কবার্তা চিলমারীতে কাজ শেষ না হতেই বৃষ্টির পানিতে মাটি সরে হুমকির মুখে নির্মাণাধীন ভবন জাল সনদে ২০ বছর চাকরি, ১৪ লাখ টাকা ফেরতের নির্দেশ সাদুল্লাপুরের সেই মেধাবী যমজ বোনের পাশে ইউএনও কমছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা: ব্যয় বৃদ্ধি ও ইরান ইস্যুতে বাড়ছে অসন্তোষ  সাপাহারে দেড় হাজার পরিবার ও শিক্ষার্থীর মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

মে দিবস: উত্তরাঞ্চলে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে সংশয়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৩:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৫ Time View

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উজালডাঙ্গা চরের বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়া। কৃষিশ্রম বিক্রি করে ছয় সদস্যের সংসারের ঘানি টানছেন তিনি। কাজের সন্ধানে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন চরে যেতে হয় তাকে। এই ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতে প্রায় প্রতি বছরই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে সাঘাটা উপজেলার নির্মাণ শ্রমিক আব্দুল হামিদ মিয়া গত মাসে একটি ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে ওপর থেকে পড়ে যান। দুটি হাতই ভেঙে যাওয়ায় বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ বেকার হয়ে বাড়িতে শয্যাশায়ী। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের প্রাণহানি বা পঙ্গুত্বের শিকার হলেও তাদের জন্য মূলত কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তার ব্যবস্থা নেই। ফলে চরম ঝুঁকি নিয়েই শ্রম বিক্রি করে চলেছেন উত্তরাঞ্চলের অন্তত ৪০ লাখ শ্রমিক।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার ১৮টি উপজেলার ৪১৬টি চরে প্রায় ২২ লাখ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার অন্তত ১০ লাখ শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন, যাদের ৭০ শতাংশই কৃষিশ্রমের সঙ্গে যুক্ত। বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় চরাঞ্চলে আয়-উপার্জনমুখী কাজ থাকে না। ফলে চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন এসব পরিবারের নারী, পুরুষ ও শিশুরা। চলতি মৌসুমে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি বুঝতে না পারায় কৃষি আবাদের জন্য মাঠেও পর্যাপ্ত কাজ নেই।

কাজের ঝুঁকি প্রসঙ্গে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটিকাপাসিয়া গ্রামের রাজা মিয়া জানান, গত বছর কাজে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে দুজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

সাঘাটা উপজেলার কালুরপাড়া চরের ফুলবানু জানান, তার স্বামী রবিচান ঢাকায় রাস্তার সংস্কার কাজ করার সময় বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। চার মাস ধরে তিনি বাড়িতে বসা। ফুলবানু বলেন, ‘কেউ সহায়তায় এগিয়ে আসেনি। কাজকর্ম নেই, ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছি। মাঝেমধ্যে অনাহারেও থাকতে হচ্ছে।’

একই গ্রামের ছকিনা বেগম জানান, তার স্বামী আব্দুল হাকিম মোল্লা গাইবান্ধা শহরের একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। এখন বৃষ্টির কারণে ভাটার কাজ বন্ধ। হাতে টাকা-পয়সা না থাকায় তিন শিশু সন্তান নিয়ে দুবেলা খাবার জোটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। সংসার চালানো এখন তাদের জন্য বড় দায়।

শ্রমিকদের এই দুরবস্থা সম্পর্কে উত্তরাঞ্চলভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘গণউন্নয়ন কেন্দ্র’-এর প্রধান নির্বাহী এম. আবদুস  সালাম বলেন, ‘শ্রমিকেরাই দেশের প্রকৃত সম্পদ। দেশের সার্বিক উন্নয়নে শ্রমিকদের ভূমিকাই সবার আগে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে কোনো দুর্ঘটনার শিকার হলে তারা বা তাদের পরিবারের সদস্যরা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হন।’ তিনি শ্রম আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের সুরক্ষায় মালিকপক্ষকে আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাদুল্লাপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন নিখোঁজ স্ত্রীর সন্ধান চায় স্বামী

মে দিবস: উত্তরাঞ্চলে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে সংশয়

Update Time : ০৬:১৩:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উজালডাঙ্গা চরের বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়া। কৃষিশ্রম বিক্রি করে ছয় সদস্যের সংসারের ঘানি টানছেন তিনি। কাজের সন্ধানে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন চরে যেতে হয় তাকে। এই ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতে প্রায় প্রতি বছরই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে সাঘাটা উপজেলার নির্মাণ শ্রমিক আব্দুল হামিদ মিয়া গত মাসে একটি ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে ওপর থেকে পড়ে যান। দুটি হাতই ভেঙে যাওয়ায় বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ বেকার হয়ে বাড়িতে শয্যাশায়ী। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের প্রাণহানি বা পঙ্গুত্বের শিকার হলেও তাদের জন্য মূলত কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তার ব্যবস্থা নেই। ফলে চরম ঝুঁকি নিয়েই শ্রম বিক্রি করে চলেছেন উত্তরাঞ্চলের অন্তত ৪০ লাখ শ্রমিক।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার ১৮টি উপজেলার ৪১৬টি চরে প্রায় ২২ লাখ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার অন্তত ১০ লাখ শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন, যাদের ৭০ শতাংশই কৃষিশ্রমের সঙ্গে যুক্ত। বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় চরাঞ্চলে আয়-উপার্জনমুখী কাজ থাকে না। ফলে চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন এসব পরিবারের নারী, পুরুষ ও শিশুরা। চলতি মৌসুমে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি বুঝতে না পারায় কৃষি আবাদের জন্য মাঠেও পর্যাপ্ত কাজ নেই।

কাজের ঝুঁকি প্রসঙ্গে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটিকাপাসিয়া গ্রামের রাজা মিয়া জানান, গত বছর কাজে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে দুজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

সাঘাটা উপজেলার কালুরপাড়া চরের ফুলবানু জানান, তার স্বামী রবিচান ঢাকায় রাস্তার সংস্কার কাজ করার সময় বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। চার মাস ধরে তিনি বাড়িতে বসা। ফুলবানু বলেন, ‘কেউ সহায়তায় এগিয়ে আসেনি। কাজকর্ম নেই, ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছি। মাঝেমধ্যে অনাহারেও থাকতে হচ্ছে।’

একই গ্রামের ছকিনা বেগম জানান, তার স্বামী আব্দুল হাকিম মোল্লা গাইবান্ধা শহরের একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। এখন বৃষ্টির কারণে ভাটার কাজ বন্ধ। হাতে টাকা-পয়সা না থাকায় তিন শিশু সন্তান নিয়ে দুবেলা খাবার জোটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। সংসার চালানো এখন তাদের জন্য বড় দায়।

শ্রমিকদের এই দুরবস্থা সম্পর্কে উত্তরাঞ্চলভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘গণউন্নয়ন কেন্দ্র’-এর প্রধান নির্বাহী এম. আবদুস  সালাম বলেন, ‘শ্রমিকেরাই দেশের প্রকৃত সম্পদ। দেশের সার্বিক উন্নয়নে শ্রমিকদের ভূমিকাই সবার আগে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে কোনো দুর্ঘটনার শিকার হলে তারা বা তাদের পরিবারের সদস্যরা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হন।’ তিনি শ্রম আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের সুরক্ষায় মালিকপক্ষকে আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।