Dhaka ০১:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

চিলমারীতে ৬ বছর ধরে তেলশূন্য ভাসমান ডিপো: বোরো মৌসুমে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৮:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৮৫ Time View

গোলাম মাহবুব, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় অবস্থিত যমুনা অয়েল কোম্পানী লি. ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লি.-এর ভাসমান তেল ডিপো দুটি গত প্রায় ছয় বছর ধরে তেলশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে ডিপো অচল থাকায় আসন্ন বোরো মৌসুমে ওই অঞ্চলে তীব্র জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ডিপো দুটিতে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ডিলার ও এলাকাবাসী।

জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানীর দুটি ভাসমান তেল ডিপো স্থাপন করা হয়। এখান থেকে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হতো। ডিপো দুটির অনুমোদিত ২২ জন ডিলার সরকারি দরে তেল কিনে খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দিতেন। কিন্তু ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি যমুনা অয়েল কোম্পানী এবং একই বছরের ২২ ফ্রেব্রুয়ারি মেঘনা পেট্রোলিয়ামের তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও অজানা কারণে ডিপো দুটিতে আর তেল আসেনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিপো তেলশূন্য থাকায় ডিলারদের এখন পার্বতীপুর অথবা রংপুর ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সড়কপথে তেল আনতে পরিবহন, পথিমধ্যে অপচয় (লসেস) এবং লেবার খরচ বাবদ প্রতি লিটারে প্রায় ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হয়। যেখানে ডিপো চালু থাকলে লিটারপ্রতি খরচ পড়ত ৯৮.৩৩ টাকা, সেখানে দূর থেকে আনার ফলে তা চিলমারী পৌঁছাতেই ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। ফলে খুচরা পর্যায়ে কৃষকদের ১০২ থেকে ১০৫ টাকা দরে ডিজেল কিনতে হচ্ছে।

চিলমারী ও এর পার্শ্ববর্তী বা পাশ্ববর্তী এলাকাগুলোতে (নারায়নপুর, যাত্রাপুর, সাহেবের আলগা, রৌমারী, রাজিবপুর, সানন্দবাড়ী, জাফরগঞ্জ, কামারজানী, সুন্দরগঞ্জ ও উলিপুর) সেচ মৌসুমে প্রতিদিনের জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭৫০ ব্যারেল বা ১ লাখ ৫০ হাজার লিটার। এর বাইরে ব্রহ্মপুত্র নদে চলাচলকারী নৌযান, ড্রেজার, ট্রাক্টর, জেনারেটর ও অন্যান্য যানবাহনের জন্য দৈনিক আরও ২০-৩০ হাজার লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। সম্প্রতি চরাঞ্চলে ব্যাপক ভুট্টা চাষের কারণেও তেলের চাহিদা বেড়েছে।

জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী মো. হযরত আলী জানান, রংপুর বা পার্বতীপুর থেকে তেল আনতে লিটারপ্রতি দেড় টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। ফলে ভোক্তাদের বেশি দামে তেল কিনতে হয়। বোরো মৌসুম শুরুর আগেই ডিপো দুটি সচল করা জরুরি।

জোড়গাছ বাজারের খুচরা তেল ব্যবসায়ী বাদল, রাশেদুল ও মমিনুল জানান, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা বেশি দামে তেল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে প্রান্তিক কৃষক ও মৎস্যজীবীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এদিকে ডিপো দুটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সেখানে দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে কর্মরত ১৭ জন কর্মচারী এবং তেল খালাসের সাথে যুক্ত প্রায় ৩০০ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কাজ না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এ বিষয়ে যমুনা অয়েল কোম্পানী লি.-এর ডিপো ইনচার্জ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তেল না পাঠালে আমাদের কিছু করার নেই। তবে ডিপো দুটি পুনরায় চালু করার বিষয়ে উপরে কথাবার্তা চলছে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাইবান্ধায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকের পুরস্কার বিতরণ

চিলমারীতে ৬ বছর ধরে তেলশূন্য ভাসমান ডিপো: বোরো মৌসুমে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

Update Time : ০৫:০৮:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

গোলাম মাহবুব, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় অবস্থিত যমুনা অয়েল কোম্পানী লি. ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লি.-এর ভাসমান তেল ডিপো দুটি গত প্রায় ছয় বছর ধরে তেলশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে ডিপো অচল থাকায় আসন্ন বোরো মৌসুমে ওই অঞ্চলে তীব্র জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ডিপো দুটিতে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ডিলার ও এলাকাবাসী।

জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানীর দুটি ভাসমান তেল ডিপো স্থাপন করা হয়। এখান থেকে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হতো। ডিপো দুটির অনুমোদিত ২২ জন ডিলার সরকারি দরে তেল কিনে খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দিতেন। কিন্তু ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি যমুনা অয়েল কোম্পানী এবং একই বছরের ২২ ফ্রেব্রুয়ারি মেঘনা পেট্রোলিয়ামের তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও অজানা কারণে ডিপো দুটিতে আর তেল আসেনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিপো তেলশূন্য থাকায় ডিলারদের এখন পার্বতীপুর অথবা রংপুর ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সড়কপথে তেল আনতে পরিবহন, পথিমধ্যে অপচয় (লসেস) এবং লেবার খরচ বাবদ প্রতি লিটারে প্রায় ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হয়। যেখানে ডিপো চালু থাকলে লিটারপ্রতি খরচ পড়ত ৯৮.৩৩ টাকা, সেখানে দূর থেকে আনার ফলে তা চিলমারী পৌঁছাতেই ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। ফলে খুচরা পর্যায়ে কৃষকদের ১০২ থেকে ১০৫ টাকা দরে ডিজেল কিনতে হচ্ছে।

চিলমারী ও এর পার্শ্ববর্তী বা পাশ্ববর্তী এলাকাগুলোতে (নারায়নপুর, যাত্রাপুর, সাহেবের আলগা, রৌমারী, রাজিবপুর, সানন্দবাড়ী, জাফরগঞ্জ, কামারজানী, সুন্দরগঞ্জ ও উলিপুর) সেচ মৌসুমে প্রতিদিনের জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭৫০ ব্যারেল বা ১ লাখ ৫০ হাজার লিটার। এর বাইরে ব্রহ্মপুত্র নদে চলাচলকারী নৌযান, ড্রেজার, ট্রাক্টর, জেনারেটর ও অন্যান্য যানবাহনের জন্য দৈনিক আরও ২০-৩০ হাজার লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। সম্প্রতি চরাঞ্চলে ব্যাপক ভুট্টা চাষের কারণেও তেলের চাহিদা বেড়েছে।

জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী মো. হযরত আলী জানান, রংপুর বা পার্বতীপুর থেকে তেল আনতে লিটারপ্রতি দেড় টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। ফলে ভোক্তাদের বেশি দামে তেল কিনতে হয়। বোরো মৌসুম শুরুর আগেই ডিপো দুটি সচল করা জরুরি।

জোড়গাছ বাজারের খুচরা তেল ব্যবসায়ী বাদল, রাশেদুল ও মমিনুল জানান, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা বেশি দামে তেল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে প্রান্তিক কৃষক ও মৎস্যজীবীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এদিকে ডিপো দুটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সেখানে দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে কর্মরত ১৭ জন কর্মচারী এবং তেল খালাসের সাথে যুক্ত প্রায় ৩০০ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কাজ না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এ বিষয়ে যমুনা অয়েল কোম্পানী লি.-এর ডিপো ইনচার্জ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তেল না পাঠালে আমাদের কিছু করার নেই। তবে ডিপো দুটি পুনরায় চালু করার বিষয়ে উপরে কথাবার্তা চলছে।”