Dhaka ১০:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছয়ঘরিয়া খেয়াঘাট: ১২ গ্রামের মানুষের দীর্ঘশ্বাস, ভরসা শুধুই বাঁশের সাঁকো

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯২ Time View

পলাশবাড়ি প্রতিনিধি:

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুক-কানুপুর ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে গেছে কাটাখালী নদী। একসময় যা ছিল আশীর্বাদ, এখন তাই হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই পাড়ের মানুষের দুঃখের কারণ। এই নদীর ‘ছয়ঘরিয়া খেয়াঘাট’-এ একটি ব্রিজের অভাবে যুগ যুগ ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত ১২টি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সমাধান না পেয়ে অবশেষে গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগেই তৈরি করেছেন একটি বাঁশের সাঁকো, যা এখন তাদের পারাপারের একমাত্র অবলম্বন।

জনদুর্ভোগের চিত্র সরেজমিনে দেখা যায়, কাটাখালী নদীর কারণে উপজেলার উত্তর ছয়ঘরিয়া, মথুরাপুর, সুন্দইল, পারসুন্দইল, গুচ্ছগ্রাম, হঠাৎপাড়া, চড়পাড়া, নয়াপাড়া, চৌরপাড়া, কানিপাড়া, রামনাথপুর ও সরকারপাড়ার মানুষ কার্যত জিম্মি হয়ে আছেন। বর্ষা মৌসুমে নদী কানায় কানায় পূর্ণ থাকলে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তখন ছোট ডিঙি নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র বাহন।

স্থানীয়রা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এতটাই নাজুক যে, কোনো মুমূর্ষু রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। অনেক সময় মাইলের পর মাইল ঘুরে রোগীকে হাসপাতালে নিতে হয়, যার ফলে পথেই মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় এই জনপদের ছেলে-মেয়েদের ভালো জায়গায় বিয়ে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও আক্ষেপ করেন স্থানীয় মুরুব্বিরা।

ঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নদী পারাপারে ঝুঁকির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা। ছোট ছোট স্কুলগামী শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে সাঁকো বা নৌকা দিয়ে পার হতে চায় না। অভিভাবকদের মনেও সবসময় কাজ করে সন্তান হারানোর আতঙ্ক। ফলে বর্ষাকালে অনেক শিশুর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

প্রশাসনের অপেক্ষায় না থেকে স্বেচ্ছাশ্রম দীর্ঘদিন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে একটি ব্রিজের দাবি জানিয়েও কোনো ফল পাননি এলাকাবাসী। সরকারি সাহায্যের আশা ছেড়ে দিয়ে অবশেষে তারা একতাবদ্ধ হন। নিজেদের অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে কাটাখালী নদীর ওপর তারা নির্মাণ করেছেন একটি বাঁশের সাঁকো।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “একটি ব্রিজের অভাবে আমরা আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নির্বাচনের সময় বারবার প্রতিশ্রুতি পেলেও ব্রিজের দেখা পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে নিজেদের কষ্টের টাকায় এই বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছি।” তবে তিনি উল্লেখ করেন, এই সাঁকো দিয়ে ভারী মালামাল পরিবহন বা জরুরি রোগী আনা-নেওয়া করা সম্ভব হচ্ছে না।

দ্রুত স্থায়ী ব্রিজের দাবি ছয়ঘরিয়া খেয়াঘাট দিয়ে শুধু তালুক-কানুপুর ইউনিয়ন নয়, পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের মানুষও নিয়মিত চলাচল করেন। এলাকাবাসীর জোরালো দাবি, অবহেলিত এই জনপদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে অবিলম্বে কাটাখালী নদীর ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা হোক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ছয়ঘরিয়া খেয়াঘাট: ১২ গ্রামের মানুষের দীর্ঘশ্বাস, ভরসা শুধুই বাঁশের সাঁকো

Update Time : ০৫:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

পলাশবাড়ি প্রতিনিধি:

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুক-কানুপুর ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে গেছে কাটাখালী নদী। একসময় যা ছিল আশীর্বাদ, এখন তাই হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই পাড়ের মানুষের দুঃখের কারণ। এই নদীর ‘ছয়ঘরিয়া খেয়াঘাট’-এ একটি ব্রিজের অভাবে যুগ যুগ ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত ১২টি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সমাধান না পেয়ে অবশেষে গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগেই তৈরি করেছেন একটি বাঁশের সাঁকো, যা এখন তাদের পারাপারের একমাত্র অবলম্বন।

জনদুর্ভোগের চিত্র সরেজমিনে দেখা যায়, কাটাখালী নদীর কারণে উপজেলার উত্তর ছয়ঘরিয়া, মথুরাপুর, সুন্দইল, পারসুন্দইল, গুচ্ছগ্রাম, হঠাৎপাড়া, চড়পাড়া, নয়াপাড়া, চৌরপাড়া, কানিপাড়া, রামনাথপুর ও সরকারপাড়ার মানুষ কার্যত জিম্মি হয়ে আছেন। বর্ষা মৌসুমে নদী কানায় কানায় পূর্ণ থাকলে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তখন ছোট ডিঙি নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র বাহন।

স্থানীয়রা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এতটাই নাজুক যে, কোনো মুমূর্ষু রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। অনেক সময় মাইলের পর মাইল ঘুরে রোগীকে হাসপাতালে নিতে হয়, যার ফলে পথেই মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় এই জনপদের ছেলে-মেয়েদের ভালো জায়গায় বিয়ে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও আক্ষেপ করেন স্থানীয় মুরুব্বিরা।

ঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নদী পারাপারে ঝুঁকির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা। ছোট ছোট স্কুলগামী শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে সাঁকো বা নৌকা দিয়ে পার হতে চায় না। অভিভাবকদের মনেও সবসময় কাজ করে সন্তান হারানোর আতঙ্ক। ফলে বর্ষাকালে অনেক শিশুর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

প্রশাসনের অপেক্ষায় না থেকে স্বেচ্ছাশ্রম দীর্ঘদিন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে একটি ব্রিজের দাবি জানিয়েও কোনো ফল পাননি এলাকাবাসী। সরকারি সাহায্যের আশা ছেড়ে দিয়ে অবশেষে তারা একতাবদ্ধ হন। নিজেদের অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে কাটাখালী নদীর ওপর তারা নির্মাণ করেছেন একটি বাঁশের সাঁকো।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “একটি ব্রিজের অভাবে আমরা আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নির্বাচনের সময় বারবার প্রতিশ্রুতি পেলেও ব্রিজের দেখা পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে নিজেদের কষ্টের টাকায় এই বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছি।” তবে তিনি উল্লেখ করেন, এই সাঁকো দিয়ে ভারী মালামাল পরিবহন বা জরুরি রোগী আনা-নেওয়া করা সম্ভব হচ্ছে না।

দ্রুত স্থায়ী ব্রিজের দাবি ছয়ঘরিয়া খেয়াঘাট দিয়ে শুধু তালুক-কানুপুর ইউনিয়ন নয়, পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের মানুষও নিয়মিত চলাচল করেন। এলাকাবাসীর জোরালো দাবি, অবহেলিত এই জনপদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে অবিলম্বে কাটাখালী নদীর ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা হোক।