Dhaka ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ডায়াবেটিক সমিতি জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য হলেন সেকেন্দার আযম আনাম কুপি-হারিকেনের আলোয় পীরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী পুঁথি পাঠের আসর মহিমাগঞ্জে ‘মব সৃষ্টি করে’ অধ্যক্ষকে পদচ্যুতির প্রতিবাদ ও পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ গণ উন্নয়ন কেন্দ্রে ‘আর্ন-নিট’ প্রকল্পের কর্মীদের ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত নওগাঁয় ৮ ঘণ্টায় ছিনতাইয়ের রহস্য উদ্‌ঘাটন, কৃষক দলের নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩ গাজীপুরে পোশাকশ্রমিক আন্দোলন: গোবিন্দগঞ্জে নিহত তৌফিকের দাফন সম্পন্ন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন সুন্দরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, জরিমানা সুন্দরগঞ্জে জমি দখলে নিতে বিধবার কাঁচা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিকের হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক: আর্থিক লেনদেন না করার অনুরোধ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রের চরে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট: বিপাকে লাখো খামারি

  • আফতাব হোসেন
  • Update Time : ১০:৩১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ২৮৫ Time View

তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর বিস্তীর্ণ অববাহিকায় ৯৮৬টি চরে বসবাস করছেন প্রায় ১৭ লাখ মানুষ। কৃষিকাজের পাশাপাশি দেশীয় ও উন্নত জাতের গবাদিপশু লালনপালন করে বছর শেষে অর্থনৈতিক মুক্তির পথ খোঁজেন তারা। কিন্তু চরে বালুর পরিমাণ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে প্রাকৃতিক গো-চারণভূমি মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন এসব চরের লাখো খামারি।

একটি বেসরকারি সংস্থার তথ্যমতে, নদী অববাহিকার কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, রংপুর, টাঙ্গাইল, বগুড়া, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর বিভিন্ন চরে কয়েক লাখ পরিবার গবাদিপশু পালনের ওপর নির্ভরশীল। গত দুই দশকে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে চরাঞ্চলে গবাদিপশু পালনে দৃশ্যমান অগ্রগতি হলেও, বর্তমানে গো-খাদ্যের অভাবে তা হুমকির মুখে পড়েছে।

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কুমারপাড়া চরের কাবেল উদ্দিন মণ্ডল জানান, প্রতিবছর চরে পলির চেয়ে বালুর পরিমাণ বাড়ছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে গজিয়ে ওঠা ঘাসের পরিমাণও কমে যাচ্ছে। পাতিলবাড়ি চরের বাবুল প্রামাণিক বলেন, ‘চরে উন্মুক্ত স্থানে গরু পালন করি। কিন্তু ঘাস কমে যাওয়ায় এখন বাড়তি দামে গো-খাদ্য কিনতে হচ্ছে।’

ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি চরের করিম উদ্দিন ব্যাপারী বলেন, ‘চলতি বছর বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ঘাস তেমন গজাতে পারেনি, এ কারণে গরু-ছাগল নিয়ে চরম বিপাকে আছি।’ একই উপজেলার গুপ্তমণি চরের নুরুল ইসলাম জানান, কৃষিকাজ দিয়ে সারা বছর কষ্টে চললেও বছর শেষে গরু মোটাতাজা করে কিছুটা সচ্ছলতার স্বপ্ন দেখেন তারা। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে, গো-খাদ্যের সংকট ততই প্রকট হচ্ছে।

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরের আবদুল কুদ্দুস বিশ্বাস জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গবাদিপশু পালন টিকিয়ে রাখা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
উন্নয়ন গবেষক ও গণউন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী এম. আবদুস্ সালাম বলেন, ‘চরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম সম্পদ গবাদিপশু। তারা প্রকৃতি থেকে পাওয়া খাদ্য দিয়েই পশু পালন করে থাকে। কিন্তু বর্তমানে প্রাকৃতিকভাবে পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়তি খরচে খাদ্য কিনে পশু পালন করায় খামারিরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারছেন না।’

এ বিষয়ে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, ‘চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উভয় উদ্যোগ আরও বাড়াতে হবে। বিশেষ করে তাদের টিকিয়ে রাখতে জলবায়ু সহনশীল গবাদি পশু রক্ষায় এখন কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ডায়াবেটিক সমিতি জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য হলেন সেকেন্দার আযম আনাম

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রের চরে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট: বিপাকে লাখো খামারি

Update Time : ১০:৩১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর বিস্তীর্ণ অববাহিকায় ৯৮৬টি চরে বসবাস করছেন প্রায় ১৭ লাখ মানুষ। কৃষিকাজের পাশাপাশি দেশীয় ও উন্নত জাতের গবাদিপশু লালনপালন করে বছর শেষে অর্থনৈতিক মুক্তির পথ খোঁজেন তারা। কিন্তু চরে বালুর পরিমাণ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে প্রাকৃতিক গো-চারণভূমি মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন এসব চরের লাখো খামারি।

একটি বেসরকারি সংস্থার তথ্যমতে, নদী অববাহিকার কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, রংপুর, টাঙ্গাইল, বগুড়া, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর বিভিন্ন চরে কয়েক লাখ পরিবার গবাদিপশু পালনের ওপর নির্ভরশীল। গত দুই দশকে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে চরাঞ্চলে গবাদিপশু পালনে দৃশ্যমান অগ্রগতি হলেও, বর্তমানে গো-খাদ্যের অভাবে তা হুমকির মুখে পড়েছে।

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কুমারপাড়া চরের কাবেল উদ্দিন মণ্ডল জানান, প্রতিবছর চরে পলির চেয়ে বালুর পরিমাণ বাড়ছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে গজিয়ে ওঠা ঘাসের পরিমাণও কমে যাচ্ছে। পাতিলবাড়ি চরের বাবুল প্রামাণিক বলেন, ‘চরে উন্মুক্ত স্থানে গরু পালন করি। কিন্তু ঘাস কমে যাওয়ায় এখন বাড়তি দামে গো-খাদ্য কিনতে হচ্ছে।’

ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি চরের করিম উদ্দিন ব্যাপারী বলেন, ‘চলতি বছর বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ঘাস তেমন গজাতে পারেনি, এ কারণে গরু-ছাগল নিয়ে চরম বিপাকে আছি।’ একই উপজেলার গুপ্তমণি চরের নুরুল ইসলাম জানান, কৃষিকাজ দিয়ে সারা বছর কষ্টে চললেও বছর শেষে গরু মোটাতাজা করে কিছুটা সচ্ছলতার স্বপ্ন দেখেন তারা। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে, গো-খাদ্যের সংকট ততই প্রকট হচ্ছে।

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরের আবদুল কুদ্দুস বিশ্বাস জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গবাদিপশু পালন টিকিয়ে রাখা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
উন্নয়ন গবেষক ও গণউন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী এম. আবদুস্ সালাম বলেন, ‘চরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম সম্পদ গবাদিপশু। তারা প্রকৃতি থেকে পাওয়া খাদ্য দিয়েই পশু পালন করে থাকে। কিন্তু বর্তমানে প্রাকৃতিকভাবে পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়তি খরচে খাদ্য কিনে পশু পালন করায় খামারিরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারছেন না।’

এ বিষয়ে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, ‘চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উভয় উদ্যোগ আরও বাড়াতে হবে। বিশেষ করে তাদের টিকিয়ে রাখতে জলবায়ু সহনশীল গবাদি পশু রক্ষায় এখন কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’