
আফতাব হোসেন:
প্রান্তিক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষাকে সহজলভ্য করে তরুণদের স্বাবলম্বী করার স্বীকৃতিস্বরূপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি’র হাত থেকে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ ও বিশেষ অনুদান গ্রহণ করেছেন গাইবান্ধার তরুণ উদ্যোক্তা মো. রিয়াদ হোসেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে এই সম্মাননা সনদ ও পদক প্রদান করা হয়।
শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী এই পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে এই সাফল্যে রিয়াদ হোসেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ড. মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ. কে. এম. হেদায়েতুল ইসলাম এবং গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্ সালাম।
জেলা প্রশাসক ড. মনিরুজ্জামান বলেন, “রিয়াদের এই অর্জন গাইবান্ধাসহ সারা দেশের যুবসমাজের জন্য বড় অনুপ্রেরণা ও গর্বের।” জিইউকের নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্ সালাম এই অর্জনকে গাইবান্ধাবাসীর জন্য সম্মান ও মর্যাদার উল্লেখ করে বলেন, “রিয়াদের এই সাফল্য দেখে দেশের লাখো তরুণ আত্মকর্মসংস্থানের পথ খুঁজে পাবে।”
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার সন্তান রিয়াদ হোসেন উপলব্ধি করেছিলেন—আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জানা থাকলে একটি সাধারণ স্মার্টফোনও হয়ে উঠতে পারে স্বাবলম্বী হওয়ার শক্তিশালী মাধ্যম। এই দূরদর্শী ভাবনা থেকেই ২০১৯ সালে তিনি সূচনা করেন ‘মোবাইল ফ্রিল্যান্সিং’ বিষয়ক এক যুগান্তকারী উদ্যোগ। তাঁর এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনসহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন বাস্তবমুখী বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
গত সাত বছরে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি ৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীকে সরাসরি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তাঁর দিকনির্দেশনায় ইতিমধ্যেই ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি তরুণ-তরুণী ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
প্রাতিষ্ঠানিক গণ্ডির বাইরে গিয়ে তাঁর প্রবর্তিত ‘লার্ন অ্যান্ড আর্ন’ (শেখো ও আয় করো) মডেল স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। কেবল বেকারত্ব দূর করাই নয়, ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনপদকে আধুনিক অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করতে রিয়াদ হোসেনের এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণদের এমন উদ্ভাবনী ও কল্যাণমূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম বলেন, “রিয়াদের মতো উদ্যমী তরুণদের হাত ধরেই প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বাবলম্বী আগামীর বাংলাদেশ গড়ে উঠছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সর্বদা এমন সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলোর পাশে থাকবে।”

Reporter Name 


















