
স্টাফ রিপোর্টার: গাইবান্ধায় বিয়ের আগের রাতে তরুণ প্রকৌশলী আরিফ শাহরিয়ারের (২২) মৃত্যুর ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছে তার স্বজনরা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে জেলা শহরের সার্কুলার রোডস্থ দেশিভোজ রেষ্টুরেন্ট মিলনায়তনে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এতে বক্তব্য দেন আরিফ শাহরিয়ারের বড়বোন শারমিন সুলতানা। তিনি বলেন, আমি অনেকগুলো মিডিয়াতেই দেখেছি, অনেকেই অনেক কিছু লিখেছে, আবার অনেকেই বলছে ডেঙ্গু, কেউ বলছে টাইফয়েড। ওর মধ্যে সব লক্ষণ ছিল ডেঙ্গুর। কিন্তু মাইশা ডায়াগনস্টিকে যে রিপোর্ট বেরিয়ে এসেছে, আমি পরবর্তীতে শুনেছি, ওদের কোনো অথরাইজড টেকনিশিয়ান নেই।ওনাদের ডায়াগনসিস করার কোনো অথরিটি নেই এবং ওনাদের মেশিনেরও কোনো অথেনটিসিটি নেই। মেশিনের প্রপার রিপোর্ট আসছে না। আর ওকে (আরিফ শাহরিয়ার)টাইফয়েডের ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়েছে। মাইশা ক্লিনিক মিডিয়াতে বক্তব্য দিয়েছিল যে, উনারা আমাদেরকে বলেছে সদর হাসপাতালে রেফার করতে, কিন্তু তা না। আমরা মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ত্যাগ করার পূর্বেই তারা অলরেডি আমার ভাইকে ইনজেকশন দিয়েছে। তারা টাইফয়েডের ট্রিটমেন্ট স্টার্ট করে দিয়েছে। এই ট্রিটমেন্ট স্টার্টের একঘণ্টার মধ্যে ওর জ্বালা-পোড়া পায় এবং ওর শরীরে একটা খিঁচুনি আসে।
পরবর্তীতে তাকে আমরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। ও (আরিফ) একঘণ্টা হাসপাতালের (জরুরি বিভাগের) সামনে রিকশায় চড়ে বসেছিল। ওখানে কোনো সহযোগিতা পাইনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরিফ শাহরিয়ারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দেওয়া চিকিৎসা এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
টেকনিশিয়ান এবং সেন্টারের মেশিনের বিষয়ে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন মাইশা ডায়গনস্টিক সেন্টারের পরিচালক কাইয়ুম মিয়া। তিনি মুঠোফোনে বলেন, আরিফকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে আমাদের ডায়গনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আনা হয়। সেন্টারের চিকিৎসক মনির হোসেন মুরাদ তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। তারপরও হাসপাতালে ভর্তি না করে তারা তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে তারা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
প্রসঙ্গত গাইবান্ধা জেলা শহরের ডেভিড কোম্পানিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরিফ শাহরিয়ার (২২)। তিনি ওই এলাকার সুলতান আহম্মেদের ছেলে। সম্প্রতি তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে ট্রিপল ই বিষয়ে নিয়ে ফার্ষ্ট ক্লাস সেকেন্ড হয়ে উত্তীর্ন হন। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বিয়ের জন্য আরিফ একমাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছেন। সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে সদর উপজেলার বল্লমঝাড় গ্রামে বিয়ে ঠিকঠাক হয়। গত শুক্রবার বাদজুম্মা আরিফ শাহরিয়ার কনের বাড়িতে বিয়ে করতে যাবার কথা। গতকাল শনিবার দুপুরে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে বৌভাত হওয়ার কথা ছিল। দাওয়াতপত্র ওবিলি করা হয়। কিন্তু বিয়ের আগে বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মারা যান। শুক্রবার বাদজুমা গাইবান্ধা শহরের রেলস্টেশন জামে মসজিদে তাঁর নামাজে জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

Reporter Name 


















