Dhaka ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার সাঁতরে পার হওয়ার সময় বাঙালি নদীতে এক বৃদ্ধ নিখোঁজ ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ সাঘাটায় বিদেশে পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি লাওসে এশিয়া ন্যাশনাল ওয়াটার কনসালটেটিভ মিটিংয়ে এমপি মিলন নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার সবসময় থাকবে: এমপি মমতাজ আলো আড়াই বছর ধরে আটকে গাইবান্ধার ৯ সেতুর কাজ, ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় দুর্ভোগে মানুষ ধ্বংস আর মৃত্যুর মাঝেও ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিরা

তিন পার্বত্য ও উপকূলীয় জেলায় পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি: ৪০০ মিমি পর্যন্ত ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫৯ Time View

আফতাব হোসেন:

 ভারতের পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় প্রবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের তিন পার্বত্য ও উপকূলীয় জেলায় পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) এক বিশেষ সতর্কবার্তায় কক্সবাজার, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। আবহাওয়ার গাণিতিক মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই চার দিনে জেলাগুলোতে মোট ২৫০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ৭ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় অঞ্চলটিতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া কুতুবদিয়ায় ১৯৫ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১২৯ মিলিমিটার এবং বান্দরবানে ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় আবহাওয়া অধিদপ্তর তিন জেলার বেশ কিছু এলাকাকে পাহাড়ধসের জন্য ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলা; বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও বান্দরবান সদর উপজেলা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৭, ৮, ৯ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডসহ বাঁশখালী উপজেলা। এছাড়া রাঙ্গামাটি জেলাকে অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ তবে ‘পর্যবেক্ষণাধীন’ এলাকা হিসেবে রাখা হয়েছে।

পাহাড়ধস ও এর ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় জনসাধারণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের ঢালে বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের রাতে কোনোভাবেই পাহাড়ের পাদদেশে না থেকে অবশ্যই নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, টর্চ লাইট, মোমবাতি, দিয়াশলাই, প্রয়োজনীয় পোশাক এবং মূল্যবান কাগজপত্র সুরক্ষিতভাবে সাথে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ এই সময়ে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, ভলেন্টিয়ার ও প্রতিবেশীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে এবং জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক সবসময় চার্জ দিয়ে প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। একই সাথে ঘরের চারপাশের নালা এবং পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যেন পানি জমে পাহাড়ের মাটি নরম না হতে পারে। পাহাড়ধসের পাশাপাশি আকস্মিক বন্যাও হতে পারে, তাই নদী বা ঝিরির কাছাকাছি অবস্থান করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

আঞ্চলিক সমন্বিত বহু-দুর্যোগ আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের যৌথ নির্দেশনায় এই আগাম সতর্কবার্তা প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে ইতিমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত সতর্কবার্তা প্রচারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণের অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার

তিন পার্বত্য ও উপকূলীয় জেলায় পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি: ৪০০ মিমি পর্যন্ত ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

Update Time : ০৯:২১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

আফতাব হোসেন:

 ভারতের পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় প্রবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের তিন পার্বত্য ও উপকূলীয় জেলায় পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) এক বিশেষ সতর্কবার্তায় কক্সবাজার, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। আবহাওয়ার গাণিতিক মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই চার দিনে জেলাগুলোতে মোট ২৫০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ৭ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় অঞ্চলটিতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া কুতুবদিয়ায় ১৯৫ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১২৯ মিলিমিটার এবং বান্দরবানে ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় আবহাওয়া অধিদপ্তর তিন জেলার বেশ কিছু এলাকাকে পাহাড়ধসের জন্য ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলা; বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও বান্দরবান সদর উপজেলা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৭, ৮, ৯ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডসহ বাঁশখালী উপজেলা। এছাড়া রাঙ্গামাটি জেলাকে অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ তবে ‘পর্যবেক্ষণাধীন’ এলাকা হিসেবে রাখা হয়েছে।

পাহাড়ধস ও এর ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় জনসাধারণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের ঢালে বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের রাতে কোনোভাবেই পাহাড়ের পাদদেশে না থেকে অবশ্যই নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, টর্চ লাইট, মোমবাতি, দিয়াশলাই, প্রয়োজনীয় পোশাক এবং মূল্যবান কাগজপত্র সুরক্ষিতভাবে সাথে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ এই সময়ে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, ভলেন্টিয়ার ও প্রতিবেশীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে এবং জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক সবসময় চার্জ দিয়ে প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। একই সাথে ঘরের চারপাশের নালা এবং পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যেন পানি জমে পাহাড়ের মাটি নরম না হতে পারে। পাহাড়ধসের পাশাপাশি আকস্মিক বন্যাও হতে পারে, তাই নদী বা ঝিরির কাছাকাছি অবস্থান করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

আঞ্চলিক সমন্বিত বহু-দুর্যোগ আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের যৌথ নির্দেশনায় এই আগাম সতর্কবার্তা প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে ইতিমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত সতর্কবার্তা প্রচারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণের অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।