Dhaka ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মা আমি বেঁচে আছি: ইউক্রেনের বন্দী শিবির থেকে ভেসে এলে গাইবান্ধার রিমেলের কণ্ঠ পীরগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু কোরআন অবমাননার দায়ে সাদুল্লাপুরে আবু হানিফ নামে এক যুবক গ্রেপ্তার মেঘদূতের বর্ষার আয়োজন: আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে  জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গাইবান্ধায় জামায়াতের বিক্ষোভ  পর্নোগ্রাফির অভিযোগে গেবিন্দগঞ্জে নারীসহ ৪ জন গ্রেপ্তার পল্লীগীতির কণ্ঠশিল্পী আব্দুল আলীমের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধায় ‘শোন গো রূপসী কন্যা’ বগুড়ায় বিয়ের গেটে বকশিশের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৩ নেপালে ধর্মীয় সহিংসতায় নিহত-৩, আহত-২৫, কারফিউ জারি খোলা বাজারে সরকারি বীজ বিক্রির দায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড

ফাঁসির রায়ের পর সাক্ষীর উল্টো সুর!

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৬:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
  • ১৪৯ Time View

প্রতিনিধি, গাইবান্ধা:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার আলোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা এসএম রুহুল আমিন মঞ্জুর বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায় ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। মামলার গুরুত্বপূর্ণ একজন সাক্ষী এখন প্রকাশ্যে দাবি করছেন তিনি আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। বুধবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর বাজারে ‘রুহুল আমিন মঞ্জু মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ’ এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ কথা বলেন সাক্ষী রেজাউন্নবী হাসু।
তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরির প্রতিশ্রæতি দিয়ে আমাকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে প্ররোচিত করা হয়েছিল। চাপের মুখে পড়ে আমি সত্যের বিপরীতে অবস্থান নিতে বাধ্য হই। এছাড়াও আমাকে ঘরবাড়ি করে দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। একই সাথে জোরপূর্বক সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
জানা গেছে, রুহুল আমিন মঞ্জু সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত শ্রীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেন রুহুল আমিন মঞ্জুর কানাডা প্রবাসী কন্যা জিনাইত আলম মনিহার। তিনি বলেন, আপনারা শুনেছেন, মামলার সাক্ষী নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মামলার ভিত্তিতেই আমার বাবাকে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায় প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’
জিনাইত আলম মনিহার বলেন, আমার বাবার শেষ ইচ্ছা দেশের মাটিতে ফেরার। আমরা আশা করি, আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন। না হলে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বিক্ষোভে বক্তব্য দেন মঞ্জুর বন্ধু সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জিন্নাহ। তিনি অভিযোগ করেন, এই মামলাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাজানো। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা এর দ্রæ নিষ্পত্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার চাই।
বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে স্থানীয় বিএনপি, সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির শেষ দিকে তারা সড়ক অবরোধ করলে এলাকায় তীব্র জানজটের সৃষ্টি হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মা আমি বেঁচে আছি: ইউক্রেনের বন্দী শিবির থেকে ভেসে এলে গাইবান্ধার রিমেলের কণ্ঠ

ফাঁসির রায়ের পর সাক্ষীর উল্টো সুর!

Update Time : ১০:২৬:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫

প্রতিনিধি, গাইবান্ধা:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার আলোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা এসএম রুহুল আমিন মঞ্জুর বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায় ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। মামলার গুরুত্বপূর্ণ একজন সাক্ষী এখন প্রকাশ্যে দাবি করছেন তিনি আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। বুধবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর বাজারে ‘রুহুল আমিন মঞ্জু মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ’ এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ কথা বলেন সাক্ষী রেজাউন্নবী হাসু।
তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরির প্রতিশ্রæতি দিয়ে আমাকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে প্ররোচিত করা হয়েছিল। চাপের মুখে পড়ে আমি সত্যের বিপরীতে অবস্থান নিতে বাধ্য হই। এছাড়াও আমাকে ঘরবাড়ি করে দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। একই সাথে জোরপূর্বক সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
জানা গেছে, রুহুল আমিন মঞ্জু সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত শ্রীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেন রুহুল আমিন মঞ্জুর কানাডা প্রবাসী কন্যা জিনাইত আলম মনিহার। তিনি বলেন, আপনারা শুনেছেন, মামলার সাক্ষী নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মামলার ভিত্তিতেই আমার বাবাকে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায় প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’
জিনাইত আলম মনিহার বলেন, আমার বাবার শেষ ইচ্ছা দেশের মাটিতে ফেরার। আমরা আশা করি, আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন। না হলে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বিক্ষোভে বক্তব্য দেন মঞ্জুর বন্ধু সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জিন্নাহ। তিনি অভিযোগ করেন, এই মামলাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাজানো। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা এর দ্রæ নিষ্পত্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার চাই।
বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে স্থানীয় বিএনপি, সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির শেষ দিকে তারা সড়ক অবরোধ করলে এলাকায় তীব্র জানজটের সৃষ্টি হয়।