Dhaka ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

ভিন্ন জাতে বিয়ে: নির্যাতনের শিকার হয়ে চিরকুট লিখে গৃহবধূর আত্মহত্যা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৭৩ Time View

প্রতিনিধি গাইবান্ধা

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ভিন্ন জাতে বিয়ে করায় শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের শিকার হয়ে মিতু রানী সরকার (২২) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কোমরপুর এলাকা থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত মিতু রানী ওই এলাকার রিপন সরকারের স্ত্রী এবং দুলাল মহন্তের মেয়ে। তাদের সংসারে তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে মিতুর সঙ্গে রিপন সরকারের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর তাদের ঘরে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। তবে তারা দুজন ভিন্ন জাতের হওয়ায় বিয়ের পর থেকেই সংসারে অশান্তি চলছিল। মিতু বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের হওয়ায় তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। এমনকি মারধর করে তাকে বেশ কয়েকবার বাবার বাড়িতেও পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বাবার বাড়িতেই অভিমানে আত্মহত্যা করেন মিতু। মৃত্যুর আগে মিতু তার স্বামীর উদ্দেশে একটি হৃদয়বিদারক চিরকুট লিখে গেছেন। চিরকুটে তিনি লিখেছেন-

‘রিপন সরকার, আমার কী এমন ভুল ছিল? জীবনে তোমার কাছ থেকে আঘাত ছাড়া কিছু পেলাম না। আজ তুমি আমাকে সম্মান না দেওয়ায় তোমার বাবা-মা আমাকে ধরে মারে। সংসার করার জন্য তোমার কাছে গিয়েছিলাম, কিন্তু তুমি সেটা করতে দিলে না। জীবনে অনেক যন্ত্রণা সহ্য করেছি, আর নয়। কারণে-অকারণে তুমি আমাকে অনেক মারধর করেছ! পৃথিবীর সব সুখ আমি তোমায় দিয়ে গেলাম। রেখে গেলাম শুধু আমার শেষ উপহার। আমার ‘সোনার তরী’-যাকে আমি মানুষ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তোমার জন্য সেটা আর হলো না। মুক্তি দিলাম তোমাকে, আর আসব না তোমার কাছে।’

এ ঘটনায় মিতুর বাবা দুলাল মহন্ত বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় রিপনসহ তার বাবা-মাকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় মিতু রানীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার আসামিরা পলাতক রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গোবিন্দগঞ্জে বিষাক্ত মদপানে যুবকের মৃত্যু, অসুস্থ ২

ভিন্ন জাতে বিয়ে: নির্যাতনের শিকার হয়ে চিরকুট লিখে গৃহবধূর আত্মহত্যা

Update Time : ০২:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রতিনিধি গাইবান্ধা

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ভিন্ন জাতে বিয়ে করায় শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের শিকার হয়ে মিতু রানী সরকার (২২) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কোমরপুর এলাকা থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত মিতু রানী ওই এলাকার রিপন সরকারের স্ত্রী এবং দুলাল মহন্তের মেয়ে। তাদের সংসারে তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে মিতুর সঙ্গে রিপন সরকারের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর তাদের ঘরে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। তবে তারা দুজন ভিন্ন জাতের হওয়ায় বিয়ের পর থেকেই সংসারে অশান্তি চলছিল। মিতু বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের হওয়ায় তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। এমনকি মারধর করে তাকে বেশ কয়েকবার বাবার বাড়িতেও পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বাবার বাড়িতেই অভিমানে আত্মহত্যা করেন মিতু। মৃত্যুর আগে মিতু তার স্বামীর উদ্দেশে একটি হৃদয়বিদারক চিরকুট লিখে গেছেন। চিরকুটে তিনি লিখেছেন-

‘রিপন সরকার, আমার কী এমন ভুল ছিল? জীবনে তোমার কাছ থেকে আঘাত ছাড়া কিছু পেলাম না। আজ তুমি আমাকে সম্মান না দেওয়ায় তোমার বাবা-মা আমাকে ধরে মারে। সংসার করার জন্য তোমার কাছে গিয়েছিলাম, কিন্তু তুমি সেটা করতে দিলে না। জীবনে অনেক যন্ত্রণা সহ্য করেছি, আর নয়। কারণে-অকারণে তুমি আমাকে অনেক মারধর করেছ! পৃথিবীর সব সুখ আমি তোমায় দিয়ে গেলাম। রেখে গেলাম শুধু আমার শেষ উপহার। আমার ‘সোনার তরী’-যাকে আমি মানুষ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তোমার জন্য সেটা আর হলো না। মুক্তি দিলাম তোমাকে, আর আসব না তোমার কাছে।’

এ ঘটনায় মিতুর বাবা দুলাল মহন্ত বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় রিপনসহ তার বাবা-মাকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় মিতু রানীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার আসামিরা পলাতক রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।