Dhaka ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মা আমি বেঁচে আছি: ইউক্রেনের বন্দী শিবির থেকে ভেসে এলে গাইবান্ধার রিমেলের কণ্ঠ পীরগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু কোরআন অবমাননার দায়ে সাদুল্লাপুরে আবু হানিফ নামে এক যুবক গ্রেপ্তার মেঘদূতের বর্ষার আয়োজন: আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে  জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গাইবান্ধায় জামায়াতের বিক্ষোভ  পর্নোগ্রাফির অভিযোগে গেবিন্দগঞ্জে নারীসহ ৪ জন গ্রেপ্তার পল্লীগীতির কণ্ঠশিল্পী আব্দুল আলীমের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধায় ‘শোন গো রূপসী কন্যা’ বগুড়ায় বিয়ের গেটে বকশিশের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৩ নেপালে ধর্মীয় সহিংসতায় নিহত-৩, আহত-২৫, কারফিউ জারি খোলা বাজারে সরকারি বীজ বিক্রির দায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড

মৌলভীবাজারে বাণিজ্যিক স্থাপনার আড়ালে অবাধে চলছে পাহাড় ও টিলা নিধন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৭:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০১ Time View

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের পর্যটন অধ্যুষিত শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জসহ সিলেট অঞ্চলে নির্বিচারে পাহাড় ও টিলা কেটে অবৈধভাবে রিসোর্ট এবং বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরির মহোৎসব চলছে। রাধানগর, লাউয়াছড়া, ডলুবাড়ি ও মাঝেরছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা টিলা ধ্বংস করে এসব স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে ভয়াবহ ভূমিধসের ঝুঁকি।

সরেজমিনে ডলুবাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনিয়মকেই যেন নিয়মে পরিণত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এবং কিছু অসাধু জনপ্রতিনিধির যোগসাজশে পরিবেশ আইন অমান্য করে চলছে টিলা কাটার কাজ। যদিও প্রশাসন মাঝেমধ্যে লোক দেখানো জরিমানা করছে, তবুও অবৈধ নির্মাণ কাজ পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না।

পরিবেশগত বিপর্যয় ও ঝুঁকি বিশেষজ্ঞদের মতে, টিলা কাটার ফলে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বা ঝর্ণাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

প্রশাসন ও পরিবেশবাদীদের বক্তব্য এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “পাহাড় কেটে রিসোর্ট তৈরি করা কোনোভাবেই আইনসংগত নয়। অনুমতিবিহীন রিসোর্ট তৈরির কোনো বিধান নেই। আমরা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি এবং পর্যায়ক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

অন্যদিকে, শ্রীমঙ্গলের রাধানগরে ‘তাওসী গার্ডেন’সহ কমলগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযানের দাবি জোরালো হচ্ছে। বাংলাদেশ পাহাড় ও প্রকৃতি রক্ষা উন্নয়ন সোসাইটির উপজেলা শাখার সভাপতি সাহারাব ইসলাম রুহিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা একাধিকবার পরিদর্শন করে দেখেছি যে পাহাড় ও টিলা কেটে রিসোর্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও দুঃখজনকভাবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর আইনি পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।”

আইনি প্রেক্ষাপট পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট টিলা বা পাহাড় কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের জন্য পাহাড় বা টিলা শ্রেণির ভূমি পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল অবিলম্বে এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মা আমি বেঁচে আছি: ইউক্রেনের বন্দী শিবির থেকে ভেসে এলে গাইবান্ধার রিমেলের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারে বাণিজ্যিক স্থাপনার আড়ালে অবাধে চলছে পাহাড় ও টিলা নিধন

Update Time : ১১:৫৭:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের পর্যটন অধ্যুষিত শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জসহ সিলেট অঞ্চলে নির্বিচারে পাহাড় ও টিলা কেটে অবৈধভাবে রিসোর্ট এবং বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরির মহোৎসব চলছে। রাধানগর, লাউয়াছড়া, ডলুবাড়ি ও মাঝেরছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা টিলা ধ্বংস করে এসব স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে ভয়াবহ ভূমিধসের ঝুঁকি।

সরেজমিনে ডলুবাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনিয়মকেই যেন নিয়মে পরিণত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এবং কিছু অসাধু জনপ্রতিনিধির যোগসাজশে পরিবেশ আইন অমান্য করে চলছে টিলা কাটার কাজ। যদিও প্রশাসন মাঝেমধ্যে লোক দেখানো জরিমানা করছে, তবুও অবৈধ নির্মাণ কাজ পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না।

পরিবেশগত বিপর্যয় ও ঝুঁকি বিশেষজ্ঞদের মতে, টিলা কাটার ফলে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বা ঝর্ণাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

প্রশাসন ও পরিবেশবাদীদের বক্তব্য এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “পাহাড় কেটে রিসোর্ট তৈরি করা কোনোভাবেই আইনসংগত নয়। অনুমতিবিহীন রিসোর্ট তৈরির কোনো বিধান নেই। আমরা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি এবং পর্যায়ক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

অন্যদিকে, শ্রীমঙ্গলের রাধানগরে ‘তাওসী গার্ডেন’সহ কমলগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযানের দাবি জোরালো হচ্ছে। বাংলাদেশ পাহাড় ও প্রকৃতি রক্ষা উন্নয়ন সোসাইটির উপজেলা শাখার সভাপতি সাহারাব ইসলাম রুহিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা একাধিকবার পরিদর্শন করে দেখেছি যে পাহাড় ও টিলা কেটে রিসোর্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও দুঃখজনকভাবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর আইনি পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।”

আইনি প্রেক্ষাপট পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট টিলা বা পাহাড় কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের জন্য পাহাড় বা টিলা শ্রেণির ভূমি পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল অবিলম্বে এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।