Dhaka ০৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাইবান্ধায় শিক্ষা দিবসে ছাত্র ইউনিয়নের মিছিল ও সমাবেশ নটর ডেম কলেজে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের গ্রীন ফিল্ড কলেজের অধ্যক্ষের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ সাঘাটায় বসতবাড়িতে ৪ হাজার ৬০০ চারা বিতরণ পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে হামলার শিকার যুবক, হাসপাতালে ভর্তি সুন্দরগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪ পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও সভাপতির বক্তব্য যুক্তরাজ্য সফরে ইএসডিও’র প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান দৃষ্টিহীন শাকিলের স্বপ্নপূরণ, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে চাকরি ঠাকুরগাঁওয়ে এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন: আহ্বায়ক খলিলুর সদস্য সচিব বদিউজ্জামান স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যান্ত্রিক যুগেও শিলপাটা ধারেই জীবিকা: গাইবান্ধার অজিত কুমারের গল্প

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ৪৯ Time View

আফতাব হোসেন: “শিলপাটা ধার… লাগবে, শিলপাটা ধার।” -গাইবান্ধা শহরের অলিগলিতে ছোট্ট একটি শব্দযন্ত্রের মাধ্যমে ভেসে আসা এই সুরটি এখন আর খুব একটা শোনা যায় না। আধুনিক মিক্সার ও ব্লেন্ডারের ভিড়ে শিলপাটা আজ অনেকটা হারিয়ে যাওয়ার পথে। কিন্তু এই প্রতিকূলতার মধ্যেও গত ২৫ বছর ধরে নিজের পেশাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন শহরতলীর পুলবন্দি এলাকার বাসিন্দা অজিত কুমার।

​গত ১০ জুলাই গাইবান্ধা শহরের থানাপাড়া এলাকায় কথা হয় অজিত কুমারের সঙ্গে। তিনি জানান, যান্ত্রিক সুবিধার কারণে এখন শিলপাটার ব্যবহার কমলেও, যারা এর স্বাদ ও গুণাগুণ বোঝেন, তারাই এখনো তাঁর কাছে আসেন। তিনি প্রতিটি শিলপাটা ধার করার বিনিময়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা নেন। কেবল ধার করাই নয়, কঠিন পাথরে খোদাই করে তৈরি করেন নান্দনিক সব নকশা।

​অজিত কুমারের এই ধৈর্য ও কাজের প্রতি নিষ্ঠার প্রশংসা করে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অধ্যক্ষ জহুরুল কাইয়ুম বলেন, “আধুনিকতার চাপে আমরা অনেক ঐতিহ্যই হারিয়ে ফেলছি। অজিত কুমারের মতো মানুষেরা নিভৃতে লোকসংস্কৃতির এই অনুষঙ্গগুলো এখনো টিকিয়ে রেখেছেন। যান্ত্রিক এই যুগে শিলপাটা ধার করা একটি শ্রমসাধ্য কাজ, যা তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে দক্ষতার সঙ্গে করে আসছেন। তাঁর এই জীবনসংগ্রাম কেবল জীবিকাই নয়, বরং আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতারও প্রতীক।”

​যান্ত্রিকতার এই সময়েও অজিত কুমারের মতো মানুষেরা লোকশিল্পের এই ধারাটি বাঁচিয়ে রেখেছেন, যা গাইবান্ধার মানুষের কাছে এক বিরল দৃষ্টান্ত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাইবান্ধায় শিক্ষা দিবসে ছাত্র ইউনিয়নের মিছিল ও সমাবেশ

যান্ত্রিক যুগেও শিলপাটা ধারেই জীবিকা: গাইবান্ধার অজিত কুমারের গল্প

Update Time : ০৫:০৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

আফতাব হোসেন: “শিলপাটা ধার… লাগবে, শিলপাটা ধার।” -গাইবান্ধা শহরের অলিগলিতে ছোট্ট একটি শব্দযন্ত্রের মাধ্যমে ভেসে আসা এই সুরটি এখন আর খুব একটা শোনা যায় না। আধুনিক মিক্সার ও ব্লেন্ডারের ভিড়ে শিলপাটা আজ অনেকটা হারিয়ে যাওয়ার পথে। কিন্তু এই প্রতিকূলতার মধ্যেও গত ২৫ বছর ধরে নিজের পেশাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন শহরতলীর পুলবন্দি এলাকার বাসিন্দা অজিত কুমার।

​গত ১০ জুলাই গাইবান্ধা শহরের থানাপাড়া এলাকায় কথা হয় অজিত কুমারের সঙ্গে। তিনি জানান, যান্ত্রিক সুবিধার কারণে এখন শিলপাটার ব্যবহার কমলেও, যারা এর স্বাদ ও গুণাগুণ বোঝেন, তারাই এখনো তাঁর কাছে আসেন। তিনি প্রতিটি শিলপাটা ধার করার বিনিময়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা নেন। কেবল ধার করাই নয়, কঠিন পাথরে খোদাই করে তৈরি করেন নান্দনিক সব নকশা।

​অজিত কুমারের এই ধৈর্য ও কাজের প্রতি নিষ্ঠার প্রশংসা করে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অধ্যক্ষ জহুরুল কাইয়ুম বলেন, “আধুনিকতার চাপে আমরা অনেক ঐতিহ্যই হারিয়ে ফেলছি। অজিত কুমারের মতো মানুষেরা নিভৃতে লোকসংস্কৃতির এই অনুষঙ্গগুলো এখনো টিকিয়ে রেখেছেন। যান্ত্রিক এই যুগে শিলপাটা ধার করা একটি শ্রমসাধ্য কাজ, যা তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে দক্ষতার সঙ্গে করে আসছেন। তাঁর এই জীবনসংগ্রাম কেবল জীবিকাই নয়, বরং আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতারও প্রতীক।”

​যান্ত্রিকতার এই সময়েও অজিত কুমারের মতো মানুষেরা লোকশিল্পের এই ধারাটি বাঁচিয়ে রেখেছেন, যা গাইবান্ধার মানুষের কাছে এক বিরল দৃষ্টান্ত।