
আফতাব হোসেন: “শিলপাটা ধার… লাগবে, শিলপাটা ধার।” -গাইবান্ধা শহরের অলিগলিতে ছোট্ট একটি শব্দযন্ত্রের মাধ্যমে ভেসে আসা এই সুরটি এখন আর খুব একটা শোনা যায় না। আধুনিক মিক্সার ও ব্লেন্ডারের ভিড়ে শিলপাটা আজ অনেকটা হারিয়ে যাওয়ার পথে। কিন্তু এই প্রতিকূলতার মধ্যেও গত ২৫ বছর ধরে নিজের পেশাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন শহরতলীর পুলবন্দি এলাকার বাসিন্দা অজিত কুমার।
গত ১০ জুলাই গাইবান্ধা শহরের থানাপাড়া এলাকায় কথা হয় অজিত কুমারের সঙ্গে। তিনি জানান, যান্ত্রিক সুবিধার কারণে এখন শিলপাটার ব্যবহার কমলেও, যারা এর স্বাদ ও গুণাগুণ বোঝেন, তারাই এখনো তাঁর কাছে আসেন। তিনি প্রতিটি শিলপাটা ধার করার বিনিময়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা নেন। কেবল ধার করাই নয়, কঠিন পাথরে খোদাই করে তৈরি করেন নান্দনিক সব নকশা।
অজিত কুমারের এই ধৈর্য ও কাজের প্রতি নিষ্ঠার প্রশংসা করে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অধ্যক্ষ জহুরুল কাইয়ুম বলেন, “আধুনিকতার চাপে আমরা অনেক ঐতিহ্যই হারিয়ে ফেলছি। অজিত কুমারের মতো মানুষেরা নিভৃতে লোকসংস্কৃতির এই অনুষঙ্গগুলো এখনো টিকিয়ে রেখেছেন। যান্ত্রিক এই যুগে শিলপাটা ধার করা একটি শ্রমসাধ্য কাজ, যা তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে দক্ষতার সঙ্গে করে আসছেন। তাঁর এই জীবনসংগ্রাম কেবল জীবিকাই নয়, বরং আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতারও প্রতীক।”
যান্ত্রিকতার এই সময়েও অজিত কুমারের মতো মানুষেরা লোকশিল্পের এই ধারাটি বাঁচিয়ে রেখেছেন, যা গাইবান্ধার মানুষের কাছে এক বিরল দৃষ্টান্ত।

Reporter Name 



















