
স্টাফ রিপোর্টঃ গাইবান্ধায় স্কুল ছাত্রী পিটিয়ে হাসপাতালে ভর্তি, অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে পালিয়ে যায় শিক্ষক, হাসপাতালের বেডে শুয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে শিক্ষার্থী। এমন একটি ন্যাকারজনক ঘটনা ঘটেছে গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাগোয়া মিয়াজান ব্যাপারি উচ্চ বিদ্যালয়ে।
জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই ফাতেমা বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় স্কুলে আসেন। ইংরেজি ক্লাসে ফাতেমার বান্ধবির সাথে মাথার উকুন দেখা নিয়ে কথার কাটাকাটি হলে সহকারী শিক্ষক সাদিয়া আফরিন পিংকিকে বিচার দেন। ঘটনার বিবরণ না শুনে ঐ শিক্ষক ফাতিমাকে বেধরক মারপিট করে। এতে ফাতেমা অসুস্থ হলে ঐ শিক্ষিকা বিদ্যালয় থেকে পালিয়ে যায়। পরে অফিস সহকারি ও এক সহকারী শিক্ষক শিক্ষার্থীকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুরে রের্পাট করেন।
রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে ওই সহকারী শিক্ষক ও অফিস সহকারি রোগী রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মানবাধিকার কর্মী নাজমা বেগম ও এ্যাড.ফারুক কবিরের সহায়তা ডাক্তার রোগীকে রেফার্ট না করে চিকিৎসা দেয়।
এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক সরকার বলেন,”স্কুলে বেত্রাঘাত নিষিদ্ধ। মেয়েটি দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থতায় ভোগছিলেন। ওই দিন সাদিয়া ম্যাডামের ক্লাসে অসুস্থ হলে অভিভাবককে খবর দিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা চলমান, বর্তমানে সে সুস্থ আছে। তবে ঘটনা সত্য হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালে ওই শিক্ষার্থীর মায়ের সাথে কথা তিনি বলেন, সে চাপের মুখে কিছু বলতে অস্বীকৃত জ্ঞাপন করে, বলে এ বিষয়ে আমি কিছু বলবো না।
এ ব্যাপারে মানবাধিকার কর্মী নাজমা বেগম বলেন, শিক্ষিকা কতৃক ছাত্রীকে মেরে হাসপাতালে ভর্তির কথা শুনে আমি হাসপাতালে চলে আসি। দেখি রোগী (ছাত্রী) পাশে কোন অভিভাবক বা শিক্ষক কেউ নেই। আমি ডাক্তার সাথে পরামর্শ করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।
এ্যাড.ফারুক কবির বলেন, সরকারী নীতিমালা ও পরিপত্র-২০১১ সালের ২১ এপ্রিল শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি না দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে নীতিমালা জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি রহিত করা সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১১’ সংশোধিত ২০১৯ এ শিরোনামে জারিকৃত আদেশের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কোন শিক্ষার্থীকে শারীরিক, মানসিক, দৈহিক আঘাত শাস্তি যোগ্য অপরাধ। সংবিধানের ২৭,৩১,৩২ ও ৩৫(৫) ধারা অনুযায়ী শাস্তি না দিলে সংবিধান লঙ্ঘিত হবে।
স্কুল শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জায়গা। সেখানে ছাত্রীকে মেরে হাসপাতালে ভর্তি ন্যাকারজনক ঘটনা। তদন্ত সাপেক্ষে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

Reporter Name 













