Dhaka ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মা আমি বেঁচে আছি: ইউক্রেনের বন্দী শিবির থেকে ভেসে এলে গাইবান্ধার রিমেলের কণ্ঠ পীরগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু কোরআন অবমাননার দায়ে সাদুল্লাপুরে আবু হানিফ নামে এক যুবক গ্রেপ্তার মেঘদূতের বর্ষার আয়োজন: আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে  জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গাইবান্ধায় জামায়াতের বিক্ষোভ  পর্নোগ্রাফির অভিযোগে গেবিন্দগঞ্জে নারীসহ ৪ জন গ্রেপ্তার পল্লীগীতির কণ্ঠশিল্পী আব্দুল আলীমের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধায় ‘শোন গো রূপসী কন্যা’ বগুড়ায় বিয়ের গেটে বকশিশের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৩ নেপালে ধর্মীয় সহিংসতায় নিহত-৩, আহত-২৫, কারফিউ জারি খোলা বাজারে সরকারি বীজ বিক্রির দায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড

সাঘাটায় পারিবারিক দ্বন্দ্বে ভাতিজাদের মারপিটে বৃদ্ধা ফুফু হাসপাতালে চাচাকে করেছে ঘর ছাড়া

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
  • ১৪৩ Time View

সাঘাটা সংবাদদাতাঃ গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার যোগীপাড়া গ্রামে দীর্ঘদিন থেকে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের চাচা-ভাতিজা-ফুফুদের মারপিট, ভয়ভীতি, জমির ধানকাটা সহ বিভিন্ন ঘটনায় গত চার বছরে কমপক্ষে ডজন খানেক অভিযোগ হয়েছে। তার মধ্যে ভাতিজাদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে সাতটি মামলা রুজু থানায় ও আদালতে হয়েছে।
এনিয়ে আপন ভাই ভাতিজার পরিবারে অশান্তি বিরাজ করছে। প্রতিনিয়তই মারপিট ভয়ভীতির ঘটনা ঘটে চলেছে।
জানা গেছে, যোগীপাড়া গ্রামের আসমত উল্লাহ ব্যাপারী মৃত্যুর সময় চার ছেলে ও পাঁচ কন্যাসহ অনেক জমিজমা রেখে যায়।
তাঁর মৃত্যুর পর সেই জমি ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত থেকে শুরু করে আপন ভাই ভাতিজাদের মাঝে কলহ বিবাদ বেড়ে যায়।
বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য শালিস দরবার হয়েছে কিন্তু কোনো আশু সূরাহা হয়নি।
বোনদের জমির অধিকার চাওয়া পাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয় সহোদর ভাই আব্দুর রাজ্জাক, আনছার আলীর মাঝে।
সেই জের ধরে রাজ্জাক ও আনছার আলীর পুত্র রফিকুল ইসলাম রতন এবং শফিকুল ইসলাম ফুলমিয়াদের সাথে মাঝে মাঝেই মারপিটের শিকার হতে থাকে ফুফুরা।
এতে করে ভাই-ভাতিজা-ফুফুদের সাথে আরো তিক্ততা বেড়ে যায়। এমনকি মামলা মোকদ্দমা পর্যন্ত গড়াতে থাকে।
এমনিভাবে চলাকালে গত ১ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে একটি (১০৭ ধারা মামলায় হাজিরা না দেয়ায় আদালত কর্তৃক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়) মামলায় সাঘাটা থানা পুলিশ রতন, ফুলমিয়াসহ কয়েকজনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেন।
আদালত থেকে ২ জুলাই ২০২৫ জামিনে মুক্তি পেয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে এসেই রতন, ফুলমিয়াসহ অন্যান্য আসামীরা চাচা শহিদুলের বারান্দায় বসে থাকা ছোটো ফুফু আঙুর বেগমকে দেখেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বেদম মারপিট করে গুরুতর আহত করে।
স্থানীয়রা আহত আঙুরকে উদ্ধার করে সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়। বর্তমানে আহত আঙুর বেগম চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এসময় ক্ষিপ্ত ভাতিজারা চাচা শহিদুল ইসলামকে বা তার পরিবারের কাউকে দেখা পেলেই খুন জখম করবে বলে খুঁজতে থাকে। এসময় জীবন বাঁচাতে শহিদুল ও তার পরিবার বাড়ির পিছন দিয়ে পালিয়ে রক্ষা পায়।
শহিদুল ইসলাম তার বসতবাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে আলী আমজাদ নামের এক ভাই সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।
এমন অবস্থায় মৃত্যু আসমত উল্লার পরিবারের ভাই ভাতিজা ও ফুফুদের মাঝের দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে এলাকাবাসী। যেকোন মুহুর্তে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করছে সচেতন মহল।
আহত আঙুর বেগমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বাবার মৃত্যুর পরে রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিতে গেলেই আমাদের পাঁচ বোনের উপর অমানুষিক নির্যাতন করে দুই ভাইয়ের পরিবারের লোকজন।
ফুলমিয়া ও রতন বলে ফুফুরা কোনো সম্পত্তি পায় না। তোরা যদি সম্পত্তি নিতে আসিস তাহলে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে। বড় ভাই ও ভাতিজাদের এমন বেআইনি কথার প্রতিবাদ ছোটোভাই শহিদুল করলে তাঁকে তারা বিভিন্ন সময় মারপিট করে। বর্তমানে বাড়ি ছাড়া করে রেখেছে।
আঙুর ারো বলেন, আমরা সকল বোন মিলে দূধর্ষ ভাতিজা ও ভাইদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সুপারের আশুদৃষ্টি কামনা করছি। ওরা জামিনে মুক্তি পেয়েই আমাদের দেখা পেলেই মারপিট করে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। ভয়ভীতি ও খুন জখমের হুমকি দেয়।
রতন ও ফুলমিয়ার অত্যাচার থেকে বাঁচতে আলী আমজাদ গাইবান্ধা পুলিশ সুপার বরাবরে অনলাইনে আবেদন করছেন বলে জানিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

kartick kartick

মা আমি বেঁচে আছি: ইউক্রেনের বন্দী শিবির থেকে ভেসে এলে গাইবান্ধার রিমেলের কণ্ঠ

সাঘাটায় পারিবারিক দ্বন্দ্বে ভাতিজাদের মারপিটে বৃদ্ধা ফুফু হাসপাতালে চাচাকে করেছে ঘর ছাড়া

Update Time : ০২:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

সাঘাটা সংবাদদাতাঃ গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার যোগীপাড়া গ্রামে দীর্ঘদিন থেকে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের চাচা-ভাতিজা-ফুফুদের মারপিট, ভয়ভীতি, জমির ধানকাটা সহ বিভিন্ন ঘটনায় গত চার বছরে কমপক্ষে ডজন খানেক অভিযোগ হয়েছে। তার মধ্যে ভাতিজাদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে সাতটি মামলা রুজু থানায় ও আদালতে হয়েছে।
এনিয়ে আপন ভাই ভাতিজার পরিবারে অশান্তি বিরাজ করছে। প্রতিনিয়তই মারপিট ভয়ভীতির ঘটনা ঘটে চলেছে।
জানা গেছে, যোগীপাড়া গ্রামের আসমত উল্লাহ ব্যাপারী মৃত্যুর সময় চার ছেলে ও পাঁচ কন্যাসহ অনেক জমিজমা রেখে যায়।
তাঁর মৃত্যুর পর সেই জমি ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত থেকে শুরু করে আপন ভাই ভাতিজাদের মাঝে কলহ বিবাদ বেড়ে যায়।
বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য শালিস দরবার হয়েছে কিন্তু কোনো আশু সূরাহা হয়নি।
বোনদের জমির অধিকার চাওয়া পাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয় সহোদর ভাই আব্দুর রাজ্জাক, আনছার আলীর মাঝে।
সেই জের ধরে রাজ্জাক ও আনছার আলীর পুত্র রফিকুল ইসলাম রতন এবং শফিকুল ইসলাম ফুলমিয়াদের সাথে মাঝে মাঝেই মারপিটের শিকার হতে থাকে ফুফুরা।
এতে করে ভাই-ভাতিজা-ফুফুদের সাথে আরো তিক্ততা বেড়ে যায়। এমনকি মামলা মোকদ্দমা পর্যন্ত গড়াতে থাকে।
এমনিভাবে চলাকালে গত ১ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে একটি (১০৭ ধারা মামলায় হাজিরা না দেয়ায় আদালত কর্তৃক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়) মামলায় সাঘাটা থানা পুলিশ রতন, ফুলমিয়াসহ কয়েকজনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেন।
আদালত থেকে ২ জুলাই ২০২৫ জামিনে মুক্তি পেয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে এসেই রতন, ফুলমিয়াসহ অন্যান্য আসামীরা চাচা শহিদুলের বারান্দায় বসে থাকা ছোটো ফুফু আঙুর বেগমকে দেখেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বেদম মারপিট করে গুরুতর আহত করে।
স্থানীয়রা আহত আঙুরকে উদ্ধার করে সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়। বর্তমানে আহত আঙুর বেগম চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এসময় ক্ষিপ্ত ভাতিজারা চাচা শহিদুল ইসলামকে বা তার পরিবারের কাউকে দেখা পেলেই খুন জখম করবে বলে খুঁজতে থাকে। এসময় জীবন বাঁচাতে শহিদুল ও তার পরিবার বাড়ির পিছন দিয়ে পালিয়ে রক্ষা পায়।
শহিদুল ইসলাম তার বসতবাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে আলী আমজাদ নামের এক ভাই সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।
এমন অবস্থায় মৃত্যু আসমত উল্লার পরিবারের ভাই ভাতিজা ও ফুফুদের মাঝের দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে এলাকাবাসী। যেকোন মুহুর্তে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করছে সচেতন মহল।
আহত আঙুর বেগমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বাবার মৃত্যুর পরে রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিতে গেলেই আমাদের পাঁচ বোনের উপর অমানুষিক নির্যাতন করে দুই ভাইয়ের পরিবারের লোকজন।
ফুলমিয়া ও রতন বলে ফুফুরা কোনো সম্পত্তি পায় না। তোরা যদি সম্পত্তি নিতে আসিস তাহলে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে। বড় ভাই ও ভাতিজাদের এমন বেআইনি কথার প্রতিবাদ ছোটোভাই শহিদুল করলে তাঁকে তারা বিভিন্ন সময় মারপিট করে। বর্তমানে বাড়ি ছাড়া করে রেখেছে।
আঙুর ারো বলেন, আমরা সকল বোন মিলে দূধর্ষ ভাতিজা ও ভাইদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সুপারের আশুদৃষ্টি কামনা করছি। ওরা জামিনে মুক্তি পেয়েই আমাদের দেখা পেলেই মারপিট করে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। ভয়ভীতি ও খুন জখমের হুমকি দেয়।
রতন ও ফুলমিয়ার অত্যাচার থেকে বাঁচতে আলী আমজাদ গাইবান্ধা পুলিশ সুপার বরাবরে অনলাইনে আবেদন করছেন বলে জানিয়েছে।