
বিশেষ সংবাদদাতাঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের লাটশালা গ্রামে আত্মহত্যার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রফিকুল ইসলাম নামের এক যুবককে ফাঁসিয়ে মিথ্যা মামলা, মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম (২৫) লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলামের ছোট বোন মোছাঃ শারমিন আক্তারের বিয়ে হয় একই গ্রামের মতিয়ার রহমানের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই মতিয়ারের মা মোছাঃ মর্জিনা বেগম অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন। একাধিকবার তাদের শয়নঘরের গোপন মুহূর্ত চুপি চুপি দেখে ফেলায় পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে মতিয়ার মানসিক চাপ ও লজ্জাজনিত কারণে গত ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে নিজ বাড়ির গাছের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।
মতিয়ারের আত্মহত্যার পর কোনো মামলা না হলেও, রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন—স্থানীয় চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি আত্মহত্যার ঘটনাকে পুঁজি করে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে হত্যা মামলা ও মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ভয় পেয়ে তিনি তার গরু, ছাগল ও দোকানের মালামাল বিক্রি করে প্রথমে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং পরে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। দ্বিতীয় দফা চাঁদা আদায়ের সময় চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের নিজ বাড়ির বৈঠকখানায় উপস্থিত থেকে সাবেক ইউপি সদস্য ও অন্যান্যদের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। ওই সময় ভিডিও ধারণও করা হয় বলে দাবি রফিকুলের।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘ওই চক্রটি এখনো আমাকে হত্যা ও আমার বোনকে অপহরণের হুমকি দিচ্ছে। আমি ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছি, পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে, সংসার ধ্বংসের মুখে।’’
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কেউ এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেননি।
ভুক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা কামনা করেছেন।
তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম টাকা লেনদেনের বিষয় স্বীকার করে বলেন, তারা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়ে এসেছিল আমার কাছে শুধু টাকা আমার সামনে লেনদেন হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন থানা মিটানোর কথা বলে আমি কোন টাকা রাখেনি।
এবিষয়ে জানার জন্য সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজ কুমার বিশ্বাস একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

Reporter Name 















