Dhaka ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

সুন্দরগঞ্জে পচে নষ্ট হচ্ছে হাজারো কৃষকের ফসল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৬৮ Time View

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার অন্যতম কৃষিপ্রধান অঞ্চল সুন্দরগঞ্জ। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এই উপজেলায় সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) নির্মিত হয়নি। ফলে সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার ফসল নষ্ট হচ্ছে। হাড়ভাঙা খাটুনির পর ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে এবং সংরক্ষণ করতে না পেরে চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন হাজারো কৃষক।

তিস্তা নদীবেষ্টিত সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় প্রতি বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আলু, পেঁয়াজ, মরিচ ও নানা জাতের শাকসবজি উৎপাদিত হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এখানকার উৎপাদিত আলু ও সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু কৃষকের বিড়ম্বনা শুরু হয় ফসল তোলার ভরা মৌসুমে।

উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের কৃষক মজিবর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, “মাঠে আলুর দাম যখন ১৫-১৬ টাকা কেজি, তখন বাধ্য হয়েই আমাদের বিক্রি করতে হয়। কারণ বাড়িতে রাখলে আলু পচে যায়। এলাকায় যদি একটা কোল্ড স্টোরেজ থাকত, তবে আমরা মজুদ করে রেখে পরে ভালো দামে বিক্রি করতে পারতাম।”

কৃষি বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয়দের মতে, সুন্দরগঞ্জে একটি হিমাগার স্থাপন করা এখন সময়ের জোর দাবি। হিমাগার না থাকার কারণে কৃষকরা মূলত তিনটি বড় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রথমত, সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা কৃষকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে নামমাত্র মূল্যে ফসল কিনে নিচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় কৃষকদের পরবর্তী মৌসুমের বীজের জন্য অন্য জেলার হিমাগারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি অনেক সময় বীজের মানও নষ্ট হচ্ছে। তৃতীয়ত, ফসল পচে যাওয়ার ভয়ে বাজারে একসঙ্গে সব পণ্য চলে আসায় দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। হিমাগার থাকলে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে সারা বছর পণ্যের সঠিক দাম নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।

জানা যায়, সুন্দরগঞ্জের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। চরাঞ্চলের উর্বর জমিতে ফলন ভালো হলেও আধুনিক বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে কৃষকরা দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বের হতে পারছেন না। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এখানে একটি হিমাগার থাকলে তা কেবল কৃষকদেরই সুরক্ষা দেবে না, বরং সরকারের রাজস্ব আদায়েও বড় ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরগঞ্জে হিমাগার নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এই এলাকায় বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।

কৃষিবান্ধব সরকারের উন্নয়ন যাত্রায় কৃষকদের সুরক্ষায় এই উপজেলায় দ্রুত একটি আধুনিক হিমাগার স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন সুন্দরগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গোবিন্দগঞ্জে বিষাক্ত মদপানে যুবকের মৃত্যু, অসুস্থ ২

সুন্দরগঞ্জে পচে নষ্ট হচ্ছে হাজারো কৃষকের ফসল

Update Time : ০১:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার অন্যতম কৃষিপ্রধান অঞ্চল সুন্দরগঞ্জ। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এই উপজেলায় সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) নির্মিত হয়নি। ফলে সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার ফসল নষ্ট হচ্ছে। হাড়ভাঙা খাটুনির পর ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে এবং সংরক্ষণ করতে না পেরে চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন হাজারো কৃষক।

তিস্তা নদীবেষ্টিত সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় প্রতি বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আলু, পেঁয়াজ, মরিচ ও নানা জাতের শাকসবজি উৎপাদিত হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এখানকার উৎপাদিত আলু ও সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু কৃষকের বিড়ম্বনা শুরু হয় ফসল তোলার ভরা মৌসুমে।

উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের কৃষক মজিবর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, “মাঠে আলুর দাম যখন ১৫-১৬ টাকা কেজি, তখন বাধ্য হয়েই আমাদের বিক্রি করতে হয়। কারণ বাড়িতে রাখলে আলু পচে যায়। এলাকায় যদি একটা কোল্ড স্টোরেজ থাকত, তবে আমরা মজুদ করে রেখে পরে ভালো দামে বিক্রি করতে পারতাম।”

কৃষি বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয়দের মতে, সুন্দরগঞ্জে একটি হিমাগার স্থাপন করা এখন সময়ের জোর দাবি। হিমাগার না থাকার কারণে কৃষকরা মূলত তিনটি বড় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রথমত, সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা কৃষকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে নামমাত্র মূল্যে ফসল কিনে নিচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় কৃষকদের পরবর্তী মৌসুমের বীজের জন্য অন্য জেলার হিমাগারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি অনেক সময় বীজের মানও নষ্ট হচ্ছে। তৃতীয়ত, ফসল পচে যাওয়ার ভয়ে বাজারে একসঙ্গে সব পণ্য চলে আসায় দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। হিমাগার থাকলে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে সারা বছর পণ্যের সঠিক দাম নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।

জানা যায়, সুন্দরগঞ্জের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। চরাঞ্চলের উর্বর জমিতে ফলন ভালো হলেও আধুনিক বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে কৃষকরা দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বের হতে পারছেন না। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এখানে একটি হিমাগার থাকলে তা কেবল কৃষকদেরই সুরক্ষা দেবে না, বরং সরকারের রাজস্ব আদায়েও বড় ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরগঞ্জে হিমাগার নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এই এলাকায় বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।

কৃষিবান্ধব সরকারের উন্নয়ন যাত্রায় কৃষকদের সুরক্ষায় এই উপজেলায় দ্রুত একটি আধুনিক হিমাগার স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন সুন্দরগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ।