
নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়ে জাল নিবন্ধন সনদ দিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। রেবেকা সুলতানা নামের ওই সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষিকার সনদ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সরকারি কোষাগারে ১৪ লাখ টাকার বেশি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তার নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রেবেকা সুলতানা ২০০৬ সালে দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। দীর্ঘ দিন চাকরি করার পর তার শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর এনটিআরসিএ (NTRCA) বরাবর পত্র পাঠানো হয়। এর প্রেক্ষিতে একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই শিক্ষিকার সনদটি সঠিক নয়।
সনদ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তার নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে চিঠিতে জানানো হয়। ফলে তিনি সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন। এছাড়া ২০০৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বেতন-ভাতা বাবদ তার গ্রহণ করা মোট ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৯০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, এর আগে ২০১৯ সালেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) এক পরিদর্শনে তার সনদটি জাল বলে ধরা পড়েছিল। ডিআইএ পরিদর্শক টুটুল কুমার নাগের ওই প্রতিবেদনে সনদটি ভুয়া উল্লেখ করা হলেও, রহস্যজনক কারণে তখন তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়েছি এবং সনদও পেয়েছি। অডিট প্রতিবেদনে কেন সনদটিকে জাল বলা হয়েছে, তা বুঝতে পারছি না।’ বিষয়টি পরিষ্কার করতে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পুনরায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেন।
দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে ওই শিক্ষিকার সনদটি জাল বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বণিক বলেন, জাল সনদের বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। তবে দপ্তরে আনুষ্ঠানিক কোনো কপি এখনো পৌঁছায়নি। সাধারণত এসব চিঠি জেলা অফিস হয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে আসে। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সঠিকভাবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. আলাউদ্দীন আল আজাদ বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রমাণাদি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Reporter Name 






















