
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের ধস নেমেছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও; এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।
এক নজরে গত ১০ বছরের পাসের হার
বিগত এক দশকের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৬ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭২ শতাংশ। ২০১৭ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশে এবং ২০১৮ সালে আরও নেমে হয় ৬৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ২০১৯ সালে পাসের হার কিছুটা বেড়ে ৭২ শতাংশে পৌঁছায়।
২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে বিশেষ মূল্যায়নের ভিত্তিতে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেন। ২০২১ সালেও পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তবে পরবর্তী বছরগুলোতে তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে—২০২২ সালে ৮৪ দশমিক ৩১ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ছিল ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশে।
ওঠানামার মুখে জিপিএ-৫
গত এক দশকে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির চিত্রেও বড় ধরনের উত্থান-পতন লক্ষ্য করা গেছে। ২০১৬ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৫৮ হাজার ২৭৬ জন। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৩৭ হাজার ৭২৬ জনে এবং ২০১৮ সালে আরও কমে হয় ২৯ হাজার ২৬২ জন। তবে ২০১৯ সালে তা বেড়ে ৪১ হাজার ৮০৭ জনে দাঁড়ায়।
করোনাকালীন ২০২০ সালে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জনে। ২০২১ সালে তা আরও বেড়ে হয় ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২২ সালে জিপিএ-৫ পান ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮২ জন। এরপর ২০২৩ সালে তা কমে ৯২ হাজার ৫৯৫ জনে নামে। ২০২৪ সালে আবার বেড়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন হলেও ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৬৯ হাজার ৯৭ জনে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চিত্র
সাধারণ বোর্ডের মতো মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। ২০১৬ সালে এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২ হাজার ৪২৩ জন। ২০১৭ সালে ১ হাজার ৮১৫ জন, ২০১৮ সালে ১ হাজার ২৫১ জন এবং ২০১৯ সালে ২ হাজার ২৪৩ জন জিপিএ-৫ পান। ২০২০ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৪৮ জন এবং ২০২১ সালে ৪ হাজার ৮৭২ জন।
২০২২ সালে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৪৫৭ জনে। তবে ২০২৩ সালে তা কমে ৭ হাজার ৯৭ জনে নেমে আসে এবং ২০২৪ সালে কিছুটা বেড়ে হয় ৯ হাজার ৬১৩ জন। সর্বশেষ ২০২৫ সালে এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ২৬৮ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ হাজার ৩৪৫ জন কম।
পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা পরিস্থিতি
চলতি বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯২ হাজার ৯০৫ জন (ছাত্র ৫২ হাজার ১১ জন এবং ছাত্রী ৪০ হাজার ৮৯৪ জন)। পরীক্ষায় প্রায় ২২ থেকে ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
গত ২ জুলাই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়ে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থগিত পরীক্ষাগুলো পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

Reporter Name 


















