
মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়:
বয়সটা যখন কেবল খেলার মাঠে মেতে ওঠার আর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় শৈশবকে উপভোগ করার, তখন একমুঠো শাকের আঁটি হাতে বাজারের ভিড়ে দাঁড়িয়ে জীবনযুদ্ধ শিখছে সপ্তম শ্রেণির এক কিশোর।
এক হাতে বইয়ের ভার, অন্য হাতে জীবিকার টান-এই দুইয়ের মেলবন্ধনে প্রতিদিনের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে মোঃ রেজাউল করিম। পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১ নম্বর অমরখানা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত ছোট কামাত এলাকার এই কিশোর স্থানীয় শালমারা ভিতরগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী (শ্রেণি রোল ৫৫)।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পঞ্চগড় বাজারের আলো-আঁধারিতে এক কোণে বসে মনোযোগ দিয়ে ঢেঁকিশাক বিক্রি করতে দেখা যায় ছোট্ট রেজাউলকে। বিল-ঝাড় আর মেঠোপথ ঘুরে নিজের হাতেই এই শাক তুলে এনে বাজারে নিয়ে এসেছে সে।
রেজাউলের এই লড়াই কোনো শখের নয়, বরং তীব্র এক পারিবারিক বাস্তবতা। তার বাবা মোঃ আব্দুল মতিন একজন বাক্প্রতিবন্ধী, যিনি দিনমজুরি করে কোনোমতে দিন গুজরান করেন। মা-ও শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ নন; তাঁর একটি চোখে আলো নেই। এমন একটি ঘরে বড় হওয়া রেজাউল খুব অল্প বয়সেই বুঝে গেছে দায়িত্বের ওজন। বাবার মুখের অব্যক্ত কষ্ট আর সংসারের টানাপোড়েন দেখে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারেনি সে।
স্কুলের ক্লাসরুম থেকে সোজা মেঠোপথে শাক তোলা, আর সন্ধ্যা নামতেই বাজারে বসা—রেজাউলের এই সংগ্রামী রূপ দেখে বাজারের ক্রেতা ও পথচারীদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
উপস্থিত সচেতন মহলের মতে, এই বয়সে শৈশব হারিয়ে যাওয়া এবং পড়াশোনার সময় জীবিকার পেছনে ছোটা কোনো শিশুর জন্যই কাম্য নয়। রেজাউলের মেধা ও অদম্য ইচ্ছা যেন দারিদ্র্যের বেড়াজালে পিষ্ট না হয়, সে জন্য পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দ্রুত সহায়তার হাত বাড়ানো প্রয়োজন।
বিষয়টি নজরে এলে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা জানান, “আমি শিশুটির পরিবারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি। তার পড়াশোনা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

Reporter Name 



















