Dhaka ০৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নটর ডেম ও সেন্ট যোসেফে পলাশবাড়ী গ্রীন ফিল্ড স্কুলের ৭ শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ ঢাকা-রংপুর লংমার্চ ও পলাশবাড়ী পথসভা উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রেস ব্রিফিং ৭ ধাপে ইউপি নির্বাচন শুরু ১২ নভেম্বর: প্রথম ধাপে ভোট ৮০ উপজেলার ইউনিয়নে গণমাধ্যমের অন্দরমহলে নিঃশব্দ মৃত্যুমিছিল:কাল হয়তো আমরা কেউ… ব্যবসায়ীর মুখোশে ভয়ংকর প্রতারণা: হাতিয়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার দেড় লক্ষ টাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু নভেম্বরের মাঝামাঝিতে খাটের নিচে লুকোচুরি: মামী-ভাগ্নের কাণ্ডে পলাশবাড়িতে তুলকালাম মেসির উদাহরণ টেনে ইয়ামালকে সতর্ক করলেন সাবেক বার্সা তারকা তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে প্রবাসীদের ব্যাপক প্রস্তুতি রুশ ড্রোনের নিশানায় সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সিআইএ প্রধান ?

টানা বৃষ্টিতে বাঁধের সড়কে ধস, পানিবন্দি হওয়ার শঙ্কায় ৩০ হাজার মানুষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ১১০ Time View
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাঁধের সড়কে অসংখ্য জায়গায় ধস দেখা দিয়েছে। এতে করে  বিভিন্ন গ্রাম ও হাটবাজারসহ অন্তত ৩০ হাজার মানুষ নতুন করে পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কা করছেন। পরিত্রাণ পেতে বাঁধটি দ্রুত মেরামতের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, অব্যাহত বৃষ্টির কারণে বাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সড়কের একটি অংশ ধসে যায়। এতে পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে হাজারও পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাঁধটির ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো দ্রুত সংস্কার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তারা জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের মৃত তালেব উদ্দিনের ছেলে মো. আতাউর রহমান (৬০) বলেন, “বাঁধ যেভাবে ধসে গেছে তাতে এ সড়ক দিয়ে আর যাতায়াত করা যাচ্ছে না। এ অঞ্চলের মানুষ এ সড়ক দিয়েই চলাচল করেন। সেই সাথে বৃষ্টি আর উজানের পানি নেমে আসায় যে হারে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে খুব ভয় হচ্ছে আমাদের। ধসে যাওয়া স্থানগুলো দ্রুত মেরামত না করা হলে সেগুলো দিয়ে পানি ঢুকবে। এতে ভয়াবহ ক্ষতি হবে আমাদের।’’ খুব দ্রুত মেরামত করার দাবিও জানান তিনি।
কথা হয় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. পলাশ মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, “এ বাঁধটি শ্রীপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩ কিলোমিটার জুড়ে। এ অংশে কমপক্ষে ১২ টি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। এখুনি মেরামত করা না হলে চাপড়া, পুটিমারী, কুরুয়ার বাজার, বাবুর বাজারসহ কমপক্ষে ১০ টি গ্রাম ও কয়েকটি হাটবাজার প্লাবিত হবে।’’ বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করা হয়েছে বলেও জানান এ ইউপি সদস্য।
শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ মামুনুর রশিদ বলেন, “গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুইদিনের টানা বৃষ্টিতে বাঁধের ওই সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। সেই সাথে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আর একটু বৃদ্ধি পেলেই লোকালয়ে পানি ঢুকবে। এতে করে শ্রীপুর ইউনিয়নের বাকি অংশ প্লাবিত হবে। নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়বে আরও  ৩০ হাজারের মত মানুষ। ডুবে যাবে ফসিল জমি। গবাদিপশু নিয়ে পড়বে চরম বিপাকে।’’ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অফিসে সাক্ষাৎ করতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি জানান, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম।’’ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানাবেন বলেও জানান তিনি।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নটর ডেম ও সেন্ট যোসেফে পলাশবাড়ী গ্রীন ফিল্ড স্কুলের ৭ শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ

টানা বৃষ্টিতে বাঁধের সড়কে ধস, পানিবন্দি হওয়ার শঙ্কায় ৩০ হাজার মানুষ

Update Time : ০৪:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাঁধের সড়কে অসংখ্য জায়গায় ধস দেখা দিয়েছে। এতে করে  বিভিন্ন গ্রাম ও হাটবাজারসহ অন্তত ৩০ হাজার মানুষ নতুন করে পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কা করছেন। পরিত্রাণ পেতে বাঁধটি দ্রুত মেরামতের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, অব্যাহত বৃষ্টির কারণে বাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সড়কের একটি অংশ ধসে যায়। এতে পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে হাজারও পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাঁধটির ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো দ্রুত সংস্কার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তারা জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের মৃত তালেব উদ্দিনের ছেলে মো. আতাউর রহমান (৬০) বলেন, “বাঁধ যেভাবে ধসে গেছে তাতে এ সড়ক দিয়ে আর যাতায়াত করা যাচ্ছে না। এ অঞ্চলের মানুষ এ সড়ক দিয়েই চলাচল করেন। সেই সাথে বৃষ্টি আর উজানের পানি নেমে আসায় যে হারে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে খুব ভয় হচ্ছে আমাদের। ধসে যাওয়া স্থানগুলো দ্রুত মেরামত না করা হলে সেগুলো দিয়ে পানি ঢুকবে। এতে ভয়াবহ ক্ষতি হবে আমাদের।’’ খুব দ্রুত মেরামত করার দাবিও জানান তিনি।
কথা হয় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. পলাশ মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, “এ বাঁধটি শ্রীপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩ কিলোমিটার জুড়ে। এ অংশে কমপক্ষে ১২ টি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। এখুনি মেরামত করা না হলে চাপড়া, পুটিমারী, কুরুয়ার বাজার, বাবুর বাজারসহ কমপক্ষে ১০ টি গ্রাম ও কয়েকটি হাটবাজার প্লাবিত হবে।’’ বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করা হয়েছে বলেও জানান এ ইউপি সদস্য।
শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ মামুনুর রশিদ বলেন, “গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুইদিনের টানা বৃষ্টিতে বাঁধের ওই সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। সেই সাথে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আর একটু বৃদ্ধি পেলেই লোকালয়ে পানি ঢুকবে। এতে করে শ্রীপুর ইউনিয়নের বাকি অংশ প্লাবিত হবে। নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়বে আরও  ৩০ হাজারের মত মানুষ। ডুবে যাবে ফসিল জমি। গবাদিপশু নিয়ে পড়বে চরম বিপাকে।’’ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অফিসে সাক্ষাৎ করতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি জানান, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম।’’ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানাবেন বলেও জানান তিনি।