Dhaka ০৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, জরিমানা সুন্দরগঞ্জে জমি দখলে নিতে বিধবার কাঁচা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিকের হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক: আর্থিক লেনদেন না করার অনুরোধ নওগাঁ কারা হেফাজতে বগুড়ার আওয়ামী লীগ নেতার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘোড়াঘাটে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার সাঘাটায় ‘চর’ পাইলট প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত বীরমুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও ‎দাফনে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন সুন্দরগঞ্জে ট্রাক-অটোভ্যান সংঘর্ষ: নিহত ২, আহত ১ ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাসাদের কাছে বিমান বিব্ধস্ত, পাইলটসহ সকল আরোহীর মৃত্যু

ডুবে গেছে গাইবান্ধার চরের কাশবন, গো-খাদ্য নিয়ে বিপাকে চরবাসী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ১৪১ Time View

আফতাব হোসেন: তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি বৃদ্ধিতে গাইবান্ধার চরাঞ্চলের গো-চারণ ভূমি তলিয়ে গেছে। এতে চরম গো-খাদ্য সংকটে পড়েছেন চরের গবাদি পশু পালনকারীরা।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৩৮টি চর গ্রামে প্রায় ২ লাখ পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ পরিবারই গবাদি পশু পালন করেন। সেই হিসাবে এসব চরাঞ্চলে খামারিরা অন্তত ১২ লাখ দেশীয় জাতের গরু লালন-পালন করছেন। সাধারণত চরের প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কাশগাছ ও অন্যান্য ঘাস খাইয়েই এই বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু বড় করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

সাঘাটা উপজেলার দিঘলকান্দি চরের খামারি বারেক সরকার জানান, “আমার ২০টি গরু এখন গোয়াল ঘরে আটকে রেখেছি। মাঠের ঘাস না থাকায় বাড়ির খড় খাইয়ে কোনোমতে টিকিয়ে রেখেছি।” একই চরের নুর ইসলাম প্রামাণিক জানান, চরের নিচু জমিতে পানি ওঠায় গরু-ছাগল বাড়িতেই বেঁধে রাখতে হচ্ছে। মাঠের কোনো ঘাস না থাকায় এখন বাজার থেকে চড়া দামে খাদ্য কিনে খাওয়াতে হচ্ছে।

এদিকে ফুলছড়ি উপজেলার উজালডাঙ্গা চরের সাদ্দাম হোসেন জানান, চরের কাশ কাটার জমিতে পানি উঠে গেছে। বাধ্য হয়ে পানির নিচ থেকেই কাশ কেটে এনে খাওয়াতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, চরাঞ্চলের গো-চারণ ভূমি ও কাশবনসহ প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ঘাস লতাপাতা পানিতে ডুবে যাওয়ায় সাময়িক এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে চরের কৃষকদের বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁরা সেই প্রস্তুতি ও অভ্যাস অনুযায়ীই এই প্রতিকূলতার মধ্যেও গবাদি পশু লালন-পালন করে যাচ্ছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সুন্দরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, জরিমানা

ডুবে গেছে গাইবান্ধার চরের কাশবন, গো-খাদ্য নিয়ে বিপাকে চরবাসী

Update Time : ০২:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

আফতাব হোসেন: তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি বৃদ্ধিতে গাইবান্ধার চরাঞ্চলের গো-চারণ ভূমি তলিয়ে গেছে। এতে চরম গো-খাদ্য সংকটে পড়েছেন চরের গবাদি পশু পালনকারীরা।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৩৮টি চর গ্রামে প্রায় ২ লাখ পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ পরিবারই গবাদি পশু পালন করেন। সেই হিসাবে এসব চরাঞ্চলে খামারিরা অন্তত ১২ লাখ দেশীয় জাতের গরু লালন-পালন করছেন। সাধারণত চরের প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কাশগাছ ও অন্যান্য ঘাস খাইয়েই এই বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু বড় করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

সাঘাটা উপজেলার দিঘলকান্দি চরের খামারি বারেক সরকার জানান, “আমার ২০টি গরু এখন গোয়াল ঘরে আটকে রেখেছি। মাঠের ঘাস না থাকায় বাড়ির খড় খাইয়ে কোনোমতে টিকিয়ে রেখেছি।” একই চরের নুর ইসলাম প্রামাণিক জানান, চরের নিচু জমিতে পানি ওঠায় গরু-ছাগল বাড়িতেই বেঁধে রাখতে হচ্ছে। মাঠের কোনো ঘাস না থাকায় এখন বাজার থেকে চড়া দামে খাদ্য কিনে খাওয়াতে হচ্ছে।

এদিকে ফুলছড়ি উপজেলার উজালডাঙ্গা চরের সাদ্দাম হোসেন জানান, চরের কাশ কাটার জমিতে পানি উঠে গেছে। বাধ্য হয়ে পানির নিচ থেকেই কাশ কেটে এনে খাওয়াতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, চরাঞ্চলের গো-চারণ ভূমি ও কাশবনসহ প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ঘাস লতাপাতা পানিতে ডুবে যাওয়ায় সাময়িক এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে চরের কৃষকদের বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁরা সেই প্রস্তুতি ও অভ্যাস অনুযায়ীই এই প্রতিকূলতার মধ্যেও গবাদি পশু লালন-পালন করে যাচ্ছেন।