Dhaka ০৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঢাকা-রংপুর লংমার্চ ও পলাশবাড়ী পথসভা উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রেস ব্রিফিং ৭ ধাপে ইউপি নির্বাচন শুরু ১২ নভেম্বর: প্রথম ধাপে ভোট ৮০ উপজেলার ইউনিয়নে গণমাধ্যমের অন্দরমহলে নিঃশব্দ মৃত্যুমিছিল:কাল হয়তো আমরা কেউ… ব্যবসায়ীর মুখোশে ভয়ংকর প্রতারণা: হাতিয়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার দেড় লক্ষ টাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু নভেম্বরের মাঝামাঝিতে খাটের নিচে লুকোচুরি: মামী-ভাগ্নের কাণ্ডে পলাশবাড়িতে তুলকালাম মেসির উদাহরণ টেনে ইয়ামালকে সতর্ক করলেন সাবেক বার্সা তারকা তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে প্রবাসীদের ব্যাপক প্রস্তুতি রুশ ড্রোনের নিশানায় সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সিআইএ প্রধান ? ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার দুই বছরেও চালু হয়নি , ১৫ দিনের মধ্যে চালুর আল্টিমেটাম

ডুবে গেছে গাইবান্ধার চরের কাশবন, গো-খাদ্য নিয়ে বিপাকে চরবাসী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ৮৫ Time View

আফতাব হোসেন: তিস্তাব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি বৃদ্ধিতে গাইবান্ধার চরাঞ্চলের গো-চারণ ভূমি তলিয়ে গেছে। এতে চরম গো-খাদ্য সংকটে পড়েছেন চরের গবাদি পশু পালনকারীরা।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ীগাইবান্ধা সদরফুলছড়িসাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৩৮টি চর গ্রামে প্রায় ২ লাখ পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ পরিবারই গবাদি পশু পালন করেন। সেই হিসাবে এসব চরাঞ্চলে খামারিরা অন্তত ১২ লাখ দেশীয় জাতের গরু লালন-পালন করছেন। সাধারণত চরের প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কাশগাছ ও অন্যান্য ঘাস খাইয়েই এই বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু বড় করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

সাঘাটা উপজেলার দিঘলকান্দি চরের খামারি বারেক সরকার জানান, “আমার ২০টি গরু এখন গোয়াল ঘরে আটকে রেখেছি। মাঠের ঘাস না থাকায় বাড়ির খড় খাইয়ে কোনোমতে টিকিয়ে রেখেছি।” একই চরের নুর ইসলাম প্রামাণিক জানানচরের নিচু জমিতে পানি ওঠায় গরু-ছাগল বাড়িতেই বেঁধে রাখতে হচ্ছে। মাঠের কোনো ঘাস না থাকায় এখন বাজার থেকে চড়া দামে খাদ্য কিনে খাওয়াতে হচ্ছে।

এদিকে ফুলছড়ি উপজেলার উজালডাঙ্গা চরের সাদ্দাম হোসেন জানানচরের কাশ কাটার জমিতে পানি উঠে গেছে। বাধ্য হয়ে পানির নিচ থেকেই কাশ কেটে এনে খাওয়াতে হচ্ছেযা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানানচরাঞ্চলের গো-চারণ ভূমি ও কাশবনসহ প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ঘাস লতাপাতা পানিতে ডুবে যাওয়ায় সাময়িক এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে চরের কৃষকদের বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁরা সেই প্রস্তুতি ও অভ্যাস অনুযায়ীই এই প্রতিকূলতার মধ্যেও গবাদি পশু লালন-পালন করে যাচ্ছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ঢাকা-রংপুর লংমার্চ ও পলাশবাড়ী পথসভা উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রেস ব্রিফিং

ডুবে গেছে গাইবান্ধার চরের কাশবন, গো-খাদ্য নিয়ে বিপাকে চরবাসী

Update Time : ০২:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

আফতাব হোসেন: তিস্তাব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি বৃদ্ধিতে গাইবান্ধার চরাঞ্চলের গো-চারণ ভূমি তলিয়ে গেছে। এতে চরম গো-খাদ্য সংকটে পড়েছেন চরের গবাদি পশু পালনকারীরা।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ীগাইবান্ধা সদরফুলছড়িসাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৩৮টি চর গ্রামে প্রায় ২ লাখ পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ পরিবারই গবাদি পশু পালন করেন। সেই হিসাবে এসব চরাঞ্চলে খামারিরা অন্তত ১২ লাখ দেশীয় জাতের গরু লালন-পালন করছেন। সাধারণত চরের প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কাশগাছ ও অন্যান্য ঘাস খাইয়েই এই বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু বড় করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

সাঘাটা উপজেলার দিঘলকান্দি চরের খামারি বারেক সরকার জানান, “আমার ২০টি গরু এখন গোয়াল ঘরে আটকে রেখেছি। মাঠের ঘাস না থাকায় বাড়ির খড় খাইয়ে কোনোমতে টিকিয়ে রেখেছি।” একই চরের নুর ইসলাম প্রামাণিক জানানচরের নিচু জমিতে পানি ওঠায় গরু-ছাগল বাড়িতেই বেঁধে রাখতে হচ্ছে। মাঠের কোনো ঘাস না থাকায় এখন বাজার থেকে চড়া দামে খাদ্য কিনে খাওয়াতে হচ্ছে।

এদিকে ফুলছড়ি উপজেলার উজালডাঙ্গা চরের সাদ্দাম হোসেন জানানচরের কাশ কাটার জমিতে পানি উঠে গেছে। বাধ্য হয়ে পানির নিচ থেকেই কাশ কেটে এনে খাওয়াতে হচ্ছেযা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানানচরাঞ্চলের গো-চারণ ভূমি ও কাশবনসহ প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ঘাস লতাপাতা পানিতে ডুবে যাওয়ায় সাময়িক এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে চরের কৃষকদের বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁরা সেই প্রস্তুতি ও অভ্যাস অনুযায়ীই এই প্রতিকূলতার মধ্যেও গবাদি পশু লালন-পালন করে যাচ্ছেন।